প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যারিস্টার মইনুল বিতর্কে ঐক্যফ্রন্টের অবস্থান কী?

বাংলা ট্রিবিউন : বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির এক প্রশ্নের জবাবে ‘চরিত্রহীন’ মন্তব্য করে বিপাকে পড়েছেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। ইতোমধ্যে ওই মন্তব্যের জেরে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন তিনি। তার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকলেও চুপ করে আছে নবগঠিত রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এই ফ্রন্টে মইনুল হোসেন ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত আছেন এবং ফ্রন্টের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোয় তার অংশগ্রহণও রয়েছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক কয়েকটি দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মইনুল হোসেন ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন গত ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর ঐক্যসংক্রান্ত বৈঠকগুলোয় তিনি নিয়মিত অংশ নেন। যদিও গত শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) ও রবিবার (২১ অক্টোবর) ফ্রন্টের বৈঠকে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। তার এই অনুপস্থিতির কারণ না জানালেও মাসুদা ভাট্টি-মইনুল হোসেন বিতর্কে জড়াতে চান না ফ্রন্টের নেতারা।

ফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে দুই ধরনের বিষয় উঠে এসেছে। একটি হচ্ছে, মইনুল হোসেন যেহেতু ব্যক্তি হিসেবে ঐক্যে আছেন, সেহেতু বিষয়টি তারই হ্যান্ডেল করা উচিত। এতে ফ্রন্টকে যুক্ত করা একেবারেই ঠিক হবে না। দ্বিতীয়টি, ফ্রন্টের কেউ-কেউ আশঙ্কা করছেন, মইনুল হোসেন বিতর্কে মুখ খুললে তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। যার ফলও ক্ষমতাসীনদের পক্ষে যেতে পারে।

রবিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকেও মইনুল হোসেন সম্পর্কে কথা ওঠে। যদিও এই আলোচনা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

তবে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সম্পর্কে জোটগত মন্তব্য করার কোনও কারণ নেই। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মন্তব্য করেছেন। আমি যতদূর জানি, তিনি সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এ বিষয়টি এখনই বন্ধ করা উচিত।’

রবিবার আদালতের সামনে সাংবাদিকদের ব্যারিস্টার হোসেন বলেন, ‘‘আমি একটি জাতীয় ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি। আমাকে অত্যন্ত অপমান করা হয়েছে ‘জামায়াতের এজেন্ট’ বলে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আর কিছু বলবো না।’’

ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলছেন, মাসুদা ভাট্টির কাছে মইনুল হোসেন ক্ষমা চেয়েছেন। এরপর এই বিষয়ে নতুন করে তাদের বলার কিছু নেই।

জানতে চাইলে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন বলেন, ‘প্রথমত, তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একজন মানুষ একটা কিছু বলার পর, যখন বুঝতে পারেন যে, এটা বলা ঠিক হয়নি ও স্বীকারও করেন, তখন বলার কিছু থাকে না। এর বাইরে আমাদের কিছু বলার নেই।’

তবে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ কায়সার। জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুরও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একজন নেতা বলেন, ‘প্রথমত, মইনুল হোসেন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে ঐক্যফ্রন্টের বলার কিছু নেই। তবে যেহেতু তিনি জোটে সক্রিয় আছেন, সেহেতু আমাদের অবস্থান বা পক্ষ আছে। সেক্ষেত্রে এই অবস্থান ব্যক্ত করা বোকামি হতে পারে। বিশেষ করে ব্যাপারটি নিয়ে ক্ষমতাসীনদের মধ্যেও কোনও আলোচনা দেখা যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে আমরা কথা বললেই তারা লুফে নেবে। বরং চুপ থাকলে বিষয়টি দ্রুত চাপা পড়ে যাবে।’