প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্বৈরতন্ত্র পাকাপোক্ত করতে সম্প্রচার আইন

জোনায়েদ সাকি : ডিজিটাল আইন যেমন ভয়াবহ একটি আইন, তেমন একটি ভয়াবহ আইন হচ্ছে সম্প্রচার আইন। কোনটি বিভ্রান্তিকর আর কোনটি বিভ্রান্তিকর নয় এটি কে ঠিক করবে? এগুলো নির্ধারণ ক্ষমতা কার কাছে থাকবে? ডিজিটাল আইনে যেমন একচেটিয়াভাবে পুলিশের হাতে ক্ষমতা দিয়ে দেয়া হয়েছে, তেমনই এই সম্প্রচার আইনের মাধ্যমে এর ক্ষমতা পুরোপুরি সরকারের হাতে থাকবে।

বিরোধী দল এবং মতকে দমন করার জন্যই মূলত এই আইন। গত কয়েকদিনে ডিজিটাল আইনে যে মামলাগুলো হয়েছে এগুলোর দিকে তাকালে বোঝা যায়, কীভাবে এই আইনটা ব্যবহার করা হবে! সম্প্রচার আইনও এ রকম নির্যাতনমূলক, নিপীড়নমূলক আরেকটি আইন হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত টেলিভিশন, টেলিভিশনের টক শো, রেডিও এবং অনলাইনগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে সরকার।

আইনের মধ্য দিয়েই সরকার সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। অথচ সব জায়গায়ই হরহামেশা বেআইনি কাজ চলছে, অনিয়ম চলছে। ৫৭ ধারাটা কিন্তু প্রধানত সংবাদকর্মীদের উপরই ব্যবহার হয়েছে। আইনমন্ত্রী নিজেও বলেছিলেন, ৫৭ ধারা একটি বাজে আইন। যদিও এ আইনটি বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এটিকে আরো নিবর্তনমূলকভাবে আনা হয়েছে। ৫৭ ধারা বাতিল হলেও এর তৎপরতা অব্যাহত আছে।

আমি মনে করি, এই তৎপরতা বন্ধ হওয়া দরকার। এবং যে মামলাগুলো আছে সেগুলো প্রত্যাহার হওয়া দরকার। এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যে সকল ধারাগুলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকারকে ক্ষুণœ করে এবং সংবিধান পরিপন্থী এগুলোকে বাতিল করা দরকার। যেহেতু সামনে সংসদ অধিবেশন আছে, তাই এটি করা পাস করা কঠিন হবে না, এবং এটি সম্ভব।

এগুলো যদি না করা হয়, তাহলে মানুষের কাছে বিবেচ্য হবে, এখন যে স্বৈরশাসন চলছে, এই স্বৈরতন্ত্রকে আরো পাকাপোক্ত করার জন্যই এ সমস্ত আইন করা হচ্ছে।

পরিচিতি : প্রধান সমন্বয়ক, গণসংহতি আন্দোলন।

সম্পাদনা : ফাহিম আহমাদ বিজয়।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ