প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুক্তাগাছার মুনির

ইকবাল আনোয়ার : মুক্তাগাছার মুনির আজমির যাবে। কোমর থেকে তার দুই পা’ই কাটা। গলি দিয়ে আমার গাড়িটা যাবার সময় তার গায়ে লাগছিলো প্রায়। নেমে গেলাম, বকাঝকা করবো, আমি শাসন করবো কি বরং সেই টিটকারির ছলে বললো, আরেকটু হইলেতো আমারে মাইরাল্ তে লইছেল সাব।

তার একটা চোখ টেরা। কালো লম্বা মুখ। উদাম গতর। সব মলিনতা ভেদ করে তার হাসিটা চরম ব্যাঙ্গাত্বক। সামনের সারির একটা দাঁত নাই। বয়স হবে পঁচিশ-ত্রিশ।

Ñ রাস্তার মাঝখান দিয়ে গেলেতো মারা যাবেই।

Ñ গাড়িতো মাঝখান দিয়াঐ যায়। সাবে কি মনে করছুইন আপনের পিপ পিপটা কেবল গাড়ি, আমারটা গাড়ি না!

তার গাড়ি নৌকার মতো। কালো রাবারের। শরীরের সাথে বেঁধে রাখা। দুই হাত হলো তার বইঠা।

এমন কথা শুনে অপমান হয়, জনমের শিক্ষাও হয়। আবার এমন উচিৎ কথায় ঠকে যেতেও ভালো লাগে।

কথা কই তার সাথে। নাম ধাম জেনে বলি, কুমিল্লায় কেন!

বলে সে, আইলাম তোমরার রসমলাই খাইতাম, অখন কানমলা খাই (সেই হাসিটা)।

তার সাথে কথা বলা মানে, আক্কেল বাড়া। আজ মুনিরের থেকে শিখবো। তাকে রসমলাই দিলাম।

আসলে কওতো মনির, তুমি কুমিল্লা কি ভাবে আইছো, কেনো আইছো?

Ñ আইছি, ট্রেনে, কেন আইছি? কুমিল্লা দিয়া ইন্ডিয়া যায়াম, সেখান থিক্কা আজমির। মানত করছি। দোয়া করবা।

Ñ এ শরীর নিয়া আজমির যাইবা?

Ñ কেন? যেভাবে এহানে আইছি, হেভাবে যাইবাম। আমার কুনুসতা লাগেনা, টিটি ধরলে কই, টিকেট কিনতাম কিবা, টেহা আছেনি! আমার পাপ করনের খেমতা নাই, সব পূণ্য। কি মজা। খুজলে খায়ন পাই। যেমুন রসমলাই খাইতো মন চাইছে, পাইছি। বাড়িত গিয়া মায়েরে কমু, মাগো রসমলাই খাইছি, আল্লায় খাওয়াইছে, জবর মজা, তয় পানি ভাতের মতো অতো মিডা না, পানি ভাতের লগে ইতা কিচ্ছু লাগেনা।

Ñ আসল কতা কও মুনির, তোমার শরীর অচল, টাকা, পাসর্পোট, ভিসা নাই, কেমনে যাইবা আজমির?

Ñ সব আছে। আয়নের সময় মায়ে দিয়া দিছে।

আমি মায়েরে কইলাম, আজমির যামু মানত করছি, আল্লায় নি নিবা! মায়ে মাতাত ধইরা দোয়া কইরা দিছে। মায়ের দোয়া থাকলে আর কিছু লাগেনি বেডা!

সিংহ সিগারেট ধরাচ্ছিলো, হঠাৎ শেয়াল এসে বললো, ‘ভাই, কেন এসব ছাইপাশ খাচ্ছো? ছেড়ে দাও। এসো আমার সাথে, দেখো এই বন কি সুন্দর! সিংহ শেয়ালের সাথে যাওয়া শুরু করলো। কিছুদূর যাবার পর দেখে, হাতি ইয়াবা সেবন করছে। শেয়াল আবার বললো, ‘কেন ভাই? কি দুঃখ তোমার? এসব ছেড়ে আমার সাথে চলো, দেখো, এই বন কত নাইস! হাতি তার পিছে পিছে যাওয়া ধরলো। আবার কিছুদূর যাবার পর দেখে, বাঘ মদ খেয়ে টাল। শেয়াল গিয়ে সুন্দর করে বোঝালো, ‘ছাড়োনা এসব নেশা আমার সাথে চলো। দেখো, বনটা কত্ত বিউটিফুল!’

বাঘ উঠে শেয়ালকে জোরে একটা থাবড়া মারলো। শিয়াল কয়েক গজ দূরে গিয়ে পড়লো। হাতি বললো, ‘কী হলো ভাই! বেচারাতো ভালো কথাই বললো।’ বাঘ কইলো, ‘এই হারামজাদা ডেইলি গাঞ্জা খেয়ে এইভাবে সবাইকে রাতভর জঙ্গলে ঘোরায়!’

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ