প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্ববিরোধিতা

হাসান শান্তুনু : নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিনের মা তখন জীবন ঘাতক ক্যান্সারে আক্রান্ত। মৌলভিরা তসলিমার মাথার দাম ঘোষণা করে তাকে কতল করার জন্য মসজিদ, মাদ্রাসা, রাজপথ দখল করে ‘আন্দোলন’ করছেন! জীবন বাঁচাতে তিনি বিদেশে আশ্রয় নেন। দেশটা মেয়ের জন্য নিরাপদ নয়, ক্যান্সারের যন্ত্রণায়বিদ্ধ মায়ের মন কি আর তা বোঝে? গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ। কম ভাড়ার লোকাল ট্রেনে চেপে এভাবে আইনজ্ঞ ড. কামাল হোসেনের (তখন তিনি তসলিমার আইনজীবী) বাসা, ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ছুটোছুটি করতেন তসলিমার মা। আদালতে লড়াই করে এ আইনজীবী তসলিমাকে একদিনের জন্য হলেও দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবেন, মেয়েকে শেষবারের মতো প্রাণভরে দেখবেন, এমন আশা করেছিলেন মৃত্যু পথযাত্রী সহজ, সরল ওই নারী।

সংবিধানে ড. কামালের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। তবে তসলিমার মায়ের সঙ্গে বরেণ্য এ আইনজীবী যেন পেশাদারিত্বের ভাষায়ই কথা বলেছেন। তসলিমাকে দেশে ফিরতে না দেয়ার সিদ্ধান্তটি ছিলো রাজনৈতিক। এক কথায়, তখনকার জামায়াতের সমর্থিত বিএনপি সরকারের। অবশ্য এরপরের সব সরকারের তসলিমার দেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রায় একই রকম। এ সিদ্ধান্তের পেছনে ড. কামাল হোসেনের কোনো ভূমিকা নেই।

তবে ড. কামাল ইচ্ছে করলেই পারতেন, আর্ন্তজাতিক যেসব মানবাধিকার সংস্থার সহায়তায় তসলিমা বিদেশে চলে যান, সেসব সংস্থার কাউকে বলে তার মাকেও মেয়ের কাছে ওই দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে। তিনি তা করেননি।

তসলিমার ‘নেই, কিছু নেই’ বইয়ে তার মায়ের ড. কামালের কাছে ছুটোছুটির মর্মস্পর্শী বর্ণনা আছে। তা পড়ে পাঠকরা এটুকু ভাবতে দ্বিধা করবেন না, ড. কামালের পেশাদারিত্বের সঙ্গে সেদিন নির্মমতার সংযোগ ঘটেছিলো। তার মতো বিশিষ্টজনও সেদিন মানবিক মনের প্রকাশ ঘটাতে পারেননি।

‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অপরাধ’ করেছিলেন তসলিমা। এর জন্যে কোনোভাবেই তার মা ‘অভিযুক্ত, অপরাধী’ নন। মৃত্যুর আগে মেয়েকে দেখার এ নারীর চিরন্তন আকুতি, আর্তনাদে বাংলাদেশের কোনো অনুভূতি জাগেনি, তেমনি তা পেশাদারিত্বের চাপে উপলব্ধি করতে পারেননি ড. কামাল। একজনের জন্য যিনি মানবিক হতে পারেননি, পেশাগত দিক থেকে কিছু লাভের আশায়, তিনি ক্ষমতায় গেলে দেশের এতো মানুষের জন্য কী করে দেবেন, তা-ও ভাবনার বিষয়। ফেসবুক থেকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ