Skip to main content

মাতৃত্ব

নিগার সুলতানা শামীমা : পৃথিবীতে সব কাজেরই স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা আছে শুধু মাতৃত্বের কোনো সম্মাননা নেই! আশ্চর্য হবার নয় একদমই কারণ এই পৃথিবী’র কোনো কিছু দিয়েই একজন আদর্শ মায়ের মূল্যায়ন হয় না। এই নশ্বর পৃথিবীতে কী এমন আছে যা দিয়ে একজন নিঃস্বার্থ মায়ের সম্মাননা হয়?মা জেগে থাকেন অনন্ত অলক্ষ্যে অযুত নিযুত আর কেবলই অপরিসীম ভালোবেসে। মা গো তুমিই তোমার তুলনা। সম্মাননা চান না একজন মা। কোনো কিছুই আশা করেন না পৃথিবীর কাছে। তবু যার যার জায়গায় দাঁড়িয়ে একটু সম্মান একজন মা পেতেই পারেন আর সেটা হতে পারে একটু আন্তরিকতা, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা। তার বেশি আর কী আছে দেবার মতো। মা কখনো ভাত-কাপড়ের আশায় সন্তানকে আগলে রাখেন না। মা নীরবে নিভৃতে অবিরাম জেগে থাকা একটা সলতে যে প্রদীপের তেল কখনোই ফুরায় না। মা’গো ভালোবাসা জেনো। অনেকেই আছেন কাজের স্বীকৃতি পেতে গিয়ে নিজেই নিজের মাতৃত্বকে অস্বীকার করেন। আমি বলবো তারা নিতান্তই দুর্ভাগা, যে ভালোবেসে ফুল ফোটাতে জানে না সে তো একজন মানুষই নয় আর মানুষ না হলে কী করে সে একজন মা হয়! অপার আনন্দে ঘুরে বেড়ায় দিগবিদিক, পাছে যদি আনন্দের ঘাটতি হয় তাই আস্তাকুঁড়ে রাখো, ফোটার আগেই যাকে তার কী দোষ দিবে? এই মহৎ সত্ত্বাকে আগলে রাখার কোনো ক্ষমতাই নেই তাদের। ধিক্কার জানাই এমন অভিশপ্ত জীবনকে। উল্টো দিকে বলা যায় অনেকেই বায়োলজিক্যাল মাদার না হয়েও পৃথিবীর অনেক এতিম শিশুর মা হয়ে ওঠেন, তিনিই মহীয়সী, যিনি গর্ভে না ধরেও অনুভব করেন প্রসব ব্যথা। অনুভব করেন সন্তানের চিৎকার আর ক্ষুধা। অনুভব করেন বুকের ভেতর লুকানো মাতৃসুলভ ভালোবাসা। মাগো তোমাকে প্রণাম। এই পৃথিবী ধন্য তোমার ভালোবাসায়। আজীবন নতজানু তোমার কাছে। যদি কখনো সামর্থ্য দেন তিনি তবে এ জীবনে অন্তত একজন মাকে হলেও সম্মাননা দিতে চাইবো আমি। এ আমার গভীর চাওয়া। তারপর যদি পারি আরো আরো এগিয়ে যাবো। কত ভালোলাগা কাজ, কত প্রিয় সময় আর কত না সাজানো ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে একেকটি সন্তানকে বড় করতে হয় সে বোঝার ক্ষমতা হয়েছে বলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। আমার সন্তানরাও আমার অনবদ্য কবিতা! এখনো এমন অনেক পরিবার আছে যার সকল আপনজন আছে অথচ কাজে আসে না কেউই অথবা দূরে থাকেন সকল আত্মীয়। বাধ্য হয়ে সকাল থেকে রাত সকল যুদ্ধ একজন মাকে একাই করতে হয়। একবিন্দু স্পেসও হয়তো মিলে না তার। শত বিপদে আর দুঃখেও জীবনকে বয়ে নিয়ে যায় নিজস্ব ছায়ায় আর মায়ায়! এ ত্যাগ কেউ না দেখুক তবু তিনি মহাকালের জয়ী। সকল কাজেই কিছু না কিছু ফাঁকি দেওয়া যায় কেবল সত্যিকার একজন মা’ই পারেন না তার সন্তানকে ফাঁকি দিতে। মনে রাখা উচিত শুধু জন্ম দিয়ে খাইয়ে দাইয়ে বড় করলেই মা হওয়া যায় না। মা হতে হয় নিঃস্বার্থ ভালোবেসে এবং সকল সন্তানকে এক চোখে রেখে। মায়ের কাছেই শেখা সর্বপ্রথম বুলি। মাগো কত নিশিরাত পার হয়ে যায় তবু নির্ঘুম অপলক তুমি! বেলা শেষে দাঁড়িয়ে থাকো রাতের আঁধার লুকিয়ে বুকে রাখো মাগো স্নেহ মমতা আর পরম ভালোবাসায়। মাগো ভালোবাসা শেখাও আরেক বার ভালোবেসে! হাত ধরো আরেক বার শক্ত করে। ঘুম হয়ে পাশে রও চিরদিন। মাগো জনম ভরে ক্ষমা করো-মা-গো কু-সন্তান যদিও-বা হয় কু’মাতা-তো নও তুমি! আরেকবার শেখাও মানুষ ভালোবাসতে! মা সন্তানের বুকে লিখে দাও অবধারিত ঠিকানা।