প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শ্রীপুরের হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী জসিম ভিক্ষা নয় চাকরি চায়

রক্সী খান, মাগুরা প্রতিনিধি :  মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার সারঙ্গদিয়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী জসিম উদ্দিন (২১) জীবনে বেঁচে থাকতে কারো কাছে সে ভিক্ষা আশা করেনা । কর্মদক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যোগ্যতার বিনিময়ে সে প্রতিবন্ধী কোটায় চাকরি পেতে চায়। সে মনে করে,এটি তার নাগরিক অধিকার। জীবন সংগ্রামে জয়ী হয়ে সে পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে চায়।

তার অভিমত, প্রতিবন্ধিরা সমাজ বা দেশের কোন বোঝা বা অভিশাপ নয়, প্রতিবন্ধীরাও মানুষ । এরাও ইচ্ছা করলে অন্যান্য সুস্থ্য,সবল মানুষের মত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহন করে কর্মমুখী হতে পারে। এ দৃঢ় প্রত্যয়কে সামনে নিয়ে প্রতিবন্ধী জসিম বেশ এগিয়ে চলেছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সে এখন ছুটছে চাকরির পিছনে । ১৯৯৭ সালে জসিম সারঙ্গদিয়া গ্রামের একটি দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহন করে । সে হতদরিদ্র দিনমজুর মসিয়ার রহমান এর পুত্র । জন্মের তিন বছর পর জটিল পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে তার দুটি পা শুকিয়ে চিরতরে প্রতিবন্ধি হয়ে যায়। শ্রীপুর উপজেলার নাকোল এডিডি সংস্থার সহযোগিতায় গত ২০০১ সালে সমাজ সেবা অধিদপ্তর তাকে অনুদানস্বরুপ একটি হুইল চেয়ার দান করেন ।

একমাত্র এই হুইল চেয়ারটিকেই সম্বল করে তার পথ চলা। হুইল চেয়ার বসেই সে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা পার করেছে। বর্তমানে সে শ্রীপুর সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের সমাজ কর্ম শাখায় ছাত্র । দরিদ্র পিতামাতার তিন ভাই বোনের মধ্যে জসিম সবার ছোট । পিতামাতা অনেক কষ্ট ও দায়গ্রস্থ হয়ে দুটি বোনকে বিবাহ দিয়েছেন । জসিমের চিকিৎসার পিছনেও তারা অনেক টাকা ব্যয় করেছেন অথচ তাকে সুস্থ্য করতে পারেননি । বসত-বাড়ির ৫ শতাংশ জমিই তাদের একমাত্র অবলম্বন । জসিমের পিতা অন্যের ইটভাঙ্গা মেশিনে দিন মজুরের কাজ করেন। ইটভাঙ্গা মেশিনের ভাড়া প্রতিদিন হয়না ।

যেকারনে মাসের অধিকাংশ দিন তাকে বেকার বসে থাকতে হয়। যেদিন কাজ থাকেনা সেদিন পরিবারের সবাইকেই অন্ন কষ্টে ভুগতে হয় । এমনই একটি পরিবারে জসিমের মত প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম নিয়েছে। এটি তার জীবনে অভিশাপ ছাড়া আর কি হতে পারে। এরপরও থেমে নেই জসিমের জীবন চলার পথ । নিজের লেখা-পড়ার ও পরিবারের খরচ কিছুটা লাঘব করার জন্য সে বাড়িতে বেছে নিয়েছে প্রাইভেট পেশা। ডিগ্রি শ্রেণিতে ভর্তির হওয়ার পর তার খরচ অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। পিতার স্বল্প আয়, প্রাইভেট পড়ানোর সামান্য টাকা আর সরকারি প্রতিবন্ধি ভাতার টাকা দিয়ে বর্তমানে সংসার চালানোর পাশাপাশি পড়াশুনার খরচ যোগানো পরিবারের পক্ষে খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।

এমতাবস্থায় তার পড়াশুনা ঠিকমত চালিয়ে নিতে সমাজের বিত্তবান ও সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা প্রয়োজন বলে সে মনে করে। প্রতিবন্ধি জসিম জানায়, পড়াশুনার ফাঁকে সম্প্রতি সে সমাজ সেবা অধিদপ্তরাধীণ অফিস সহকরি পদে প্রতিবন্ধি কোটায় চাকরির আবেদন করেছে এবং একমাস পূর্বে এর লিখিত টিক পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। সে আশাবাদী যে, সে নিশ্চিত পাশ করবে এবং তার কাঙ্খিত চাকরিটিও হবে। এরপরও মানবিক কারনে আত্ম-মানবতার সেবাই সরকারে এ বিষয়টির দিকে সু-নজর দেওয়ার প্রয়োজন বলে সে মনে করছে ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ