প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জুরাইনে উন্নয়ন কাজের ধীরগতি, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসি

শাকিল আহমেদ: সংস্কার কাজ মানেই এখন ভোগান্তির একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫৩ নং ওয়ার্ডের উন্নয়ন কাজ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ধীরগতিতে ড্রেন ও সড়ক সংস্কারের কাজ চলায় জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকার পূর্ব জুরাইন ডিএসসিসির একটি জনবহুল এলাকা। এলাকাটির ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪৬ হাজার । আর মোট জনসংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। ঢাকা শহরের অন্যতম নিচু এই এলাকায় বর্ষা মৌসুম মানেই পানির নিচে তলিয়ে থাকা। ময়লা ও নোংড়া পানিতে এই এলাকায় ১৫ বছরেও তেমন একটা উন্নতি হয়নি। এমন জীবন থেকে এলাকাবাসিকে মুক্তি দিতে ২০১৭ সালে এগিয়ে আসে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। তবে ‘তাদের’ এই এগিয়ে আসা গোদের উপড় বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে অবহেলিত এই এলাকার বাসিন্দাদের।

ডিএসসিসি সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে অক্টোবরে ৫৩ নং ওয়ার্ড হাজি খোরশেদ আলি সংলগ্ন গলি উপগলির রাস্তা, নর্দমা ও ড্রেনেজ উন্নয়নে ১৯ কোটি ব্যায়ে একটি প্রকল্প হাতে নেয় ডিএসসিসি। প্রকল্পটি চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি এর মেয়াদ ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়াও জুরাইন কলেজ রোড থেকে চেয়ারম্যানবাড়ি, সেখান থেকে সেলিনা স্টোর, মিরু সড়ক থেকে ২৪ ফুট পর্যন্ত ১ হাজার ৮৬০ মিটার ড্রেনেজের উন্ননয় কাজ চলমান রয়েছে।

এলাকাবাসি অভিযোগ, অনেকদিন ধরে এসব এলাকায় উন্নয়ন কাজ চললেও শেষ হচ্ছে না। ঠিকাদাররা রাস্তা কেটে সড়কের উপর নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রেখেছে। ড্রেন বন্ধ হয়ে থাকায় নোংড়া পানি রাস্তায় উঠে এসেছে। ফলে ছড়াচ্ছে রোগ জিবানু। চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে স্কুল ও অফিসগামীদের। এছাড়া উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পুরণো ইট। ফলে এই উন্নয়ন কতদিন টিকবে তা নিয়েও শংসয় স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেশিরভাগ সড়কের বিভিন্ন অংশ কাটা। দেখলেই বুঝা যায় অনেক দিন আগে এগুলো কাটা হয়েছে। সড়কের উপর ফেলে রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। এতে চলচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া ড্রেনের উন্নয়নের জন্য খনন করা মাটিও রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছে। রাস্তায় জমে আছে পানি। বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে রিক্সা, সিএনজিসহ অন্যান্য যানবাহন।

হাজী খোরশেদ আলি সড়কের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, উন্নয়ন কাজের ধীরগতির কারণে বিক্রমপুর প্লাজা থেকে ওয়াসা রোড পর্যন্ত সবসময় যানজট লেগেই থাকে। রাস্তার উপরে নির্মাণ সামগ্রিই উঁচু করে রাখার কারণে এসব সড়কে প্রায়ই ঘটে দূর্ঘটনা।

এ বিষয়ে ৫৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ নূর হোসেন বলেন, জুরাইনে যে উন্নয়ন কাজ চলছে তা এলাকাবাসির জন্য সুসংবাদ। তবে দীর্ঘদিনেও কাজ শেষ করতে না পারায় এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ভোগান্তি হচ্ছে। বাড়ির মালিকরা ভাড়াটিয়া পাচ্ছেনা। যে সব ভাড়াটিয়া আছে তারাও বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। খোড়াখুড়ির কারণে ব্যবসায়ীরা দোকানপাটও খুলতে পাড়ছেনা। ছোট ছোট কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান ও কাজের দায়িত্বে থাকা অঞ্চল-৫ এর নির্বাহী প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত