প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৮ হাজার টাকা মজুরি বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় : গার্মেন্ট শ্রমিক নেতৃবৃন্দ

রফিক আহমেদ : বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, মজুরি বোর্ড ঘোষিত বেসিক ৪, ১০০ টাকা এবং মোট ৮ হাজার টাকা মজুরি কোনভাবেই বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এই অবস্থায় শ্রম আইন ও বিধিমালার নির্দেশনা অনুসারে তারা গার্মেন্ট শ্রমিকদের প্রকাশিত খসড়া মজুরি প্রস্তাবের আপত্তি জানান। রোববার সকাল ১১টায় নিন্মতম মজুরি বোর্ড গার্মেন্ট শ্রমিকদের খসড়া মজুরি প্রস্তাবের যে গেজেট প্রকাশ করেছে, এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গত দুই বছরেরও বেশী সময় ধরে গার্মেন্ট শ্রমিকদের নুন্যতম বেসিক মজুরি ১০ হাজার টাকা এবং মোট মজুরি ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণের জন্য দেশের প্রায় সকল শ্রমিক সংগঠন এবং গার্মেন্টস শ্রমিকরা আন্দোলন করে আসছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মজুরি ঘোষণার সময় শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, আজকে যে কাজে যোগদান করবে তার মজুরিও ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হবে। এটা পরিস্কার যে, শিক্ষানবীশ বলে কোন শব্দ থাকবে না। বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন বলে তারা মনে করেন।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ১. অবিলম্বে প্রস্তাবনা পুনর্বিবেচনা করে গার্মেন্ট শ্রমিকদের নুন্যতম বেসিক মজুরি ১০ হাজার টাকা এবং মোট মজুরি ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং সকল গ্রেডে একই হারে মজুরি বৃদ্ধি করার দাবি জানান। আমাদের দেশের সুয়েটার শিল্পের শ্রমিকরা মজুরি গেজেটের মাধ্যমে কোনভাবেই উপকৃত হন না। ২. গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ সুয়েটার শ্রমিকদের কাজ বিহীন সময়ে ৩ নম্বও গ্রেডের মজুরি হার নির্ধারন করার জোর দাবি জানান। ৩. আবার আপত্তি জানাচ্ছি, প্রস্তাবিত মজুরিতে শ্রমিকদেও মোট মজুরি অনুপাতে বেসিক মজুরি কমিয়ে দেয়া হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ২০১০ সালে নির্ধারিত মজুরির তুলনায় এবারের প্রস্তাবিত মোট মজুরিতে বেসিকের অনুপাত প্রায় ১৫ শতাংশ কম। ফলে শ্রমিকরা ওভারটাইম, উৎসব ভাতা, অবসরকালীন বা চাকরি অবসানের ক্ষেত্রে প্রাপ্য আইনী সুবিধার ক্ষেত্রে বঞ্চিত হবে। এ ধরনের বেসিক কম নির্ধারণ করা কোনভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের মূল মজুরি যৌক্তিক হারে বৃদ্ধির জন্য অনুরোধ করেন ৪. প্রস্তাবিত মজুরিতে অপারেটরদের চারটি গ্রেড রাখা হয়েছে। যা গ্রেড চুরি, অবনমন মাধ্যমে শ্রমিক ঠকানোর ক্ষেত্রে সহায়ক।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সমন্বয়কারী মাহাতাব উদ্দিন সহিদেও নেতৃত্বে আপত্তি পত্র পেশ কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি এম. দেলোয়ার হোসেন, বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ পোশাক শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তাহমিনা রহমান, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সদস্য মোবারক হোসেন, বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. বজলুর রহমান বাবলু, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. বাহারানে সুলতান বাহার, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আজিজ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ