প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১৪ দলের এক তরফা নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

শাহানুজ্জামান টিটু : ক্ষমতাসীন ১৪ দল একতরফা নির্বাচনী প্রচারে নেমে সভা সমাবেশ, গণসংযোগ, পোস্টার, লিফলেট বিতরণ সবই করছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সমাবেশ করার অনুমতি দিচ্ছে না। এ নিয়ে নাগরিক সমাজের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এমনকি আমজনতার মাঝেও রয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

কিন্তু বিরোধী পক্ষ নির্বাচনী মাঠে অনুপস্থিত এই অবস্থাকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন জানতে চেয়েছিলাম ঢাবির সাবেক উপাচার্য প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদের কাছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সবক্ষেত্রে সকল প্রকার ন্যায় নীতি বর্জিত কাজ করে চলেছে। তারা নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা করবে অন্যদের করতে দেবে না। এটা কি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। এটা অন্যায় অ-গ্রহণযোগ্য। এটা নিজস্ব জমিদারী নয় যে, ক্ষমতায় যতক্ষণ আছি ততক্ষণ আমরা সবই করবো। এসবের অবসান হওয়া দরকার। নির্বাচনে সবাইকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

একই প্রশ্ন করেছিলাম ঢাবির প্রফেসর তাজমেরী ইসলামে কাছে। তিনি বলেন, তারা একদিকে বলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জিরো মিলে জিরো হয়েছে। আরেক দিকে তাদের সভা সমাবেশ করতে দেয় না। এটা দেখে মনে হচ্ছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে বর্তমান সরকার এতো বেশী নার্ভাস হয়ে গেছে যে তাদের সমাবেশ করার অনুমতি দিচ্ছে না। কিন্ত শেষ পর্যন্ত একটা কিছু তো করতেই হবে। বসে থাকলে তো চলবে না। তারা অনুমতি না দিয়ে কতক্ষণ থাকতে পারবে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর দেখার অনেক কিছু আছে। এ কারণে এখন অপেক্ষা করুন। কি হয় তা দেখার জন্য।

ঢাবির প্রফেসর ড. সুকমল বড়ুয়ার কাছে জানতে চেয়েছি এবিষয়ে তার মূল্যায়ন। একটু মৃদু হেসেই তার জবাব, এটা কিভাবে মূল্যায়ন করবো। মূল্যায়নে যা নিয়ে করা হবে সেখানে সুনিশ্চিত বা নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাবে না। গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক অধিকার যেখানে ডুবে যায়, সেখানে আর কী বলার থাকে। তবে ক্ষমতাসীরা এখনো যে আচরণ করছে তা ঠিক না। সামনে তফসিল ঘোষণা হবে। ঐক্য তো আওয়ামী লীগও চেয়েছিলো। তারা নেই বলে যে ঐক্য হবে না বা তাদের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার থাকবে না, তা ঠিক নয়। নির্বাচনের সময়ে যদি সবার জন্য সমান সুযোগ না হয় তাহলে কারোর জন্য ভালো হবে না মঙ্গলও হবে না।

ক্ষমতাসীনদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা নিয়ে আমজনতার অনেকেই বলেছেন, এভাবে আর যাইহোক গণতন্ত্র হবে না। সবাইকে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে, সভা সমাবেশ করার অধিকার দিতে হবে। তারা যদি সভা সমাবেশ করতে না পারে তাহলে নির্বাচনে প্রচার চালাবে কিভাবে ? তারা মনে করে ড. কামাল সাহেব তো ভদ্র লোক উনি তো মারামারি করতে যাবেন না। উনিতো আওয়ামী লীগের লোক ছিলেন তাহলে উনাকে নিয়ে এতো ভয় কোথায়। কামাল হোসেন ছিলেন বঙ্গবন্ধুর বিশ^স্ত সৈনিক তাহলে তাকে নিয়ে এতো সন্দেহ করা ঠিক না। মাহমুদুর রহমান মান্নাও তো এক সময়ে আওয়ামী লীগের লোক ছিলেন। তিনিও তো তাদের দলে পরীক্ষিত নেতা ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন শত ফুল ফুটতে দাও। প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেন, লোক লাগলে লোক দেবো। সেখানে সমাবেশে বাধা কারা দিচ্ছে। তবে কি সরকারের মধ্যে আরেক সরকার হয়ে গেছে। কেউ কেউ কোনো কোনো মন্ত্রীর নাম ধরে বলেছে অমুক মন্ত্রী অমুক কথা বলেছেন, ওই মন্ত্রী যত নষ্টের গোড়া।

সম্পাদনা : শাহীন চৌধুরী

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ