প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিদ্যুতের স্মার্ট মিটার উৎপাদনে বাংলাদেশ চায়না চুক্তি স্বাক্ষর

শাহীন চৌধুরী : দেশে এখন থেকে তৈরি করা হবে বিদ্যুৎ বিতরণের প্রিপেইড স্মার্ট মিটার। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও চীনের হেক্সিং ইলেক্ট্রিক্যাল কোম্পানি যৌথভাবে এই মিটার তৈরি করতে রোববার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

বিদ্যুৎ ভবনে অনুষ্ঠিত এই দুই প্রতিষ্ঠানের চুক্তিস্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে একটি যৌথ মূলধনি কোম্পনি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। চুক্তিতে পিডিবির সচিব আব্দুল মোতালেব এবং হেক্সিং এর পক্ষে চেয়ারম্যান জো ইয়াং চেং সই করেন। এ সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, পিডিবির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, হেক্সিং ইলেক্ট্রিক্যাল কোম্পানির চেয়ারম্যান জো ইয়াং চেং, সিইও জিয়াং সি কোয়েন, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির চেয়ারম্যান মাকসুদা আক্তার, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিক উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

দেশে বিদ্যুতের প্রিপেইড স্মার্ট মিটারের জন্য খুলনার সাচিবুনিয়ায় ভাড়া করা ফ্যাক্টরিতেই কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। তবে এই উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারিত করে ভবিষ্যতে বড় পরিসরে মিটার তৈরির কারখানা করা হবে বলে। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ এই প্রথম নেওয়া হয়েছে। অন্য কোম্পানিকেও তিনি এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেক কোম্পানি এগিয়ে এলে মিটারের দাম কমে আসবে। প্রতিযোগিতার বাজার তৈরি হবে।

ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, দেশে মিটার তৈরির মাধ্যমে বিদ্যুৎখাতের নতুন যুগের সূচনা হলো। আমরা শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে নজর দিচ্ছি না, যন্ত্রপাতি বানানোতেও মনোযোগ দিচ্ছি। এটা শুরু হলো। আমরা আরও এগিয়ে যাবো। তিনি বলেন, আমি ডেসকোর চেয়ারম্যান থাকাকালীন এই মিটার বানানোর প্রকল্প নিতে চেয়েছিলেন কিন্তু শেষ পযন্ত হয়নি। ওজোপাডিকো এ উদ্যোগ নেওয়ায় তাদের অভিনন্দন জানাই।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিক উদ্দিন বলেন, ‘জানুয়ারি থেকেই মিটার উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আগে সব মিটারই আমদানি করা হতো। এখন থেকে আমদানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় রাষ্ট্রীয় অর্থের সাশ্রয় হবে। তিনি আরও বলেন, ধীরে ধীরে সব গ্রাহকের আঙিনায় প্রিপেইড মিটার বসানো হবে। এতে ব্যবহারের আগেই গ্রাহককে বিদ্যুতের বিল দিতে হবে। ফলে বিদ্যুৎ বিল শতভাগ আদায়ের পাশাপাশি বিল তৈরি ও সরবরাহ ব্যয় কমে যাবে। ফলে বিতরণ কোম্পানিগুলো দুই দিক থেকে লাভবান হবে।

সূত্র জানায়, এখন দেশে মোট বিদ্যুতের গ্রাহকের সংখ্যা তিন কোটি ১০ লাখ। কিন্তু প্রিপেইড মিটার বসানো হয়েছে মাত্র ১৫ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহকের আঙিনায়। সরকার বিতরণ কোম্পানিকে যে লক্ষ্য স্থির করে দিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের মধ্যে ৭৫ লাখ গ্রাহকের আঙিনায় মিটার বসাতে হবে। অর্থাৎ সরকারের পরিকল্পনা সফল করতে হলে ২ বছরে ৫৯ লাখ ২০ হাজার গ্রাহকের আঙিনায় মিটার বসাতে হবে। কিন্তু এত অল্প সময়ে এত বেশি মানুষের ঘরে ঘরে প্রিপেইড মিটার বসানো সম্ভব নয় বলে মনে করা হয়।

ওয়েস্টজোন ও হেক্সিং যৌথভাবে যে সমীক্ষা চালিয়েছে তাতে দেখা যায়, প্রতিটি মিটার আমদানি করতে এখন ব্যয় হচ্ছে সাড়ে চার হাজার টাকা। কিন্তু দেশে তৈরি করা হলে প্রতি মিটারের দাম পড়বে চার হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি মিটারে সাশ্রয় হবে ৫০০ টাকা। তবে উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে আরও কম খরচে মিটার উৎপাদন সম্ভব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত