প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কুবির বাসে হামলা
১০ দিনেও গ্রেফতার হয়নি কেউ; শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের হুমকি

আবু বকর রায়হান, কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের বাসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে গত বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর)। হামলায় ঘটনায় একজন শিক্ষার্থী আহত হয়। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ৬ ঘন্টার মধ্যে হামলাকারীকে গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়। কিন্তু ৬ ঘন্টার জায়গায় ১০ দিন পার হলে গেলেও হামলাকারীকে গ্রেফতার করা হয়নি। এতে শিক্ষার্থীরা আবারও মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বাস ভিক্টোরিয়া কলেজ ধর্মপুর শাখার সামনে দিয়ো যাওয়ার সময় আশিকুর রহামন জুয়েলের নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসী বাসের চালকের উপর হামলা চালায়। তখন বাসে অবস্থান করা গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী দ্বীন মোহাম্মদ হামলার প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা তার উপর হামলা চালায়। এতে দ্বীন মোহাম্মদের হাত কেটে যায় এবং মাথায় আঘাত লাগে।

পরবর্তীতে সেখানে পুলিশ প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা গিয়ে ঘটনা সম্পর্কে জানেন।কিন্তু তারা তৎক্ষনাৎ প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেননি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং হামলার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে। এসময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ৩০-৪০ কিলোমিটারের যানজট লেগে যায়। শিক্ষার্থীরা প্রায় দেড় ঘন্টা অবরোধের পরে আশ্বাস পেলে আন্দোলন তুলে নেয়। তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুক্রবার সকালের মধ্যে এবং পুলিশ প্রশাসন ৬ ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের আশ্বাস দেয়। আশ্বাসের ফলে শুধু শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অপরাধী সনাক্ত করার পরও অজ্ঞাতনামা একটি মামলা করা হয়েছে।

ঘটনায় ৯ দিন চলে গেলেও শিক্ষার্থীদের বাসে হামলাকারীদের গ্রেফতার না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে হামলা একবার নয় কয়েকবার ঘটেছে, কিন্তু প্রশাসন বারবার আশ্বাস দেওয়ার পরও ঘটনাগুলো ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। এভাবে প্রতিনিয়ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হাতে মার খেয়ে যাবে সেটা সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনোদিন মেনে নিবে না। আমরা এ ঘটনাসহ আগের সকল হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম হানিফ বলেন,’আমরা শৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখে ৬ ঘন্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলাম, তার আগে পুলিশ আমাদের কাছে সময় চেয়েছিল কিন্তু পরিতাপের বিষয় তারা কথা রাখে নি। আমরা এ বিষয়গুলো নিয়ে হতাশ ও আতঙ্কের মধ্যে আছি।আমরা শীঘ্রই গ্রেফতারের দাবিতে মাঠে নামবো এবং কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে প্রশাসনই দায়ী থাকবে।”

প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কুমিল্লার কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা করেছি। এবিষয়ে পুলিশ প্রশাসন কি ব্যবস্থা নিয়েছে সেটা আমার জানা নেই। আর গ্রেফতার করার দায়িত্ব হচ্ছে পুলিশের। আমি ও উপাচার্য মহোদয় পুলিশ প্রশাসনের সাথে এ বিষয়ে কথা বলবো।’

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম মিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ হতে যে মামলা হয়েছে সেটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ