প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অবশেষে বয়স প্রমাণ করে মিলল শবরীমালা মন্দিরে ঢোকার অনুমতি!

মুসফিরাহ হাবীব : ভারতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ১০ থেকে ৫০ বছরের নারীদের জন্য কেরালার বিখ্যাত শবরীমালা মন্দিরের দ্বার খুলে গেলেও সেখানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না তাদের। মন্দিরের পুরোহিত ও অন্যান্য ভক্তদের লাগাতার প্রতিবাদ বিক্ষোভের কারণে গত সোমবার থেকেই ওই বয়সী নারীরা মন্দিরে ঢুকতে পারছেন না। শনিবারও এক নারীর চেহারা দেখে কম বয়সী মনে হওয়ায় তাকে দিতে হয়েছে বয়সের প্রমাণ। পরিচয়পত্র দেখিয়ে বয়স ৫২ প্রমাণ করার পরই তাকে মন্দিরে যেতে দেওয়া হয়।

মন্দিরটির প্রথা অনুযায়ী, ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী কোনও নারীর মন্দিরে ঢোকা বারণ। কথিত আছে, শবরীমালা মন্দিরের দেবতা আয়াপ্পাস্বামী চিরকুমার ছিলেন। নারীদের প্রবেশে তার সেই কৌমার্য নষ্ট হবে। আর তাই নারী ভক্ত, বিশেষ করে ঋতুমতী নারীদের এ তীর্থস্থানে যাওয়া নিষিদ্ধ।
শনিবার তামিল নাড়ুর তিরুচিরাপল্লি শহর থেকে এক নারী ভক্ত মন্দিরের সামনে আসতেই শুরু হয় উত্তেজনা। সবাই বলাবলি করছিল তার বয়স ৫০ বছরের কম। তাই তাকে মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

হঠাৎই চারদিক থেকে ওই নারীকে ঘিরে ধরেন মন্দিরেরর সেবকরা। অবরুদ্ধ করে রাখা হয় তাকে। এমন অবস্থায় পড়ে কান্নাকাটি জুড়ে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ব্যাগ থেকে নিজের পরিচয়পত্র বের করে বয়সের প্রমাণ দেওয়ার পরই তিনি আয়াপ্পাস্বামীকে দর্শনের অনুমতি পান।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের মাথায় অবস্থিত ৮শ’বছরের পুরোনো শবরীমালা মন্দিরে পৌঁছনোর রাস্তা ধরে প্রতিবছরই ট্রেক করে লাখ লাখ পুরুষ ভক্ত। কিন্তু পুরোহিতরা বহু বছর ধরেই মন্দিরটিতে নারীদের প্রবেশের বিরোধী।

২০১৬ সালে কয়েকজন ছাত্রীর বিক্ষোভের পথ ধরে মন্দিরটিতে নারীদের প্রবেশের অধিকার আদায়ে জোর আন্দোলন শুরু হয়। এরপর গত মাসের শেষদিকে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ১শ’ বছরের রীতি ভেঙে নারীরা এই প্রথম মন্দিরটিতে প্রবেশাধিকার পেয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের ওই ঐতিহাসিক রায়ের পর শনিবার ছিল মন্দিরে বিগ্রহ দর্শনের চতুর্থ দিন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ