Skip to main content

চরফ্যাৃশনে ২৫ চরের শিশুরা শিক্ষা বঞ্চিত

অনলাইন ডেস্ক: দ্বীপজেলা ভোলার সর্বশেষ উপজেলা চরফ্যাশন। আর এ উপজেলার অন্তত ২৫টি চরের শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। স্থানীয় তথ্য থেকে জানা যায়, অনেক চরই দুর্গম। এসব চরে পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকা, অভিভাবকদের অর্থনৈতিক সংকট ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে কোমলমতি শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার আলো থেকে। চরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে।তবে যেসব চরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলোতে নিয়মিত পাঠদান হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন এনজিও শিক্ষা কার্যক্রম চালালেও দুর্গম চরগুলোতে এ কার্যক্রম চালাচ্ছে না। ফলে চরাঞ্চলের অনেক শিশু ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও স্কুলে যেতে পারছে না। স্থানীয়রা জানান, চরফ্যাশন উপজেলায় জনবসতিপূর্ণ চর প্রায় অর্ধশত। এগুলোর মধ্যে কুকরি-মুকরি, চর কচ্ছপিয়া, চর পাতিলা, ঢালচর, চর মনোহর, সিকদার চর, চর লিউলিন, চর ফারুকী, চর হাসিনা, লক্ষির চর চরফ্যাশনের মূল-ভূখণ্ড থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন। এসব চরের অধিকাংশ এলাকাতেই প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। যে সব চরে বিদ্যালয় রয়েছে তাও প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। জাহাঙ্গির আলম ও গিয়াসউদ্দিন নামে চরাঞ্চলের দু’জন ইউপি সদস্য জানান, চরে বিদ্যালয় না থাকা, শিক্ষক সঙ্কট, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষকদের অনুপস্থিতিই শিশুদের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার মূল কারণ। চর ফারুকির বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পোলা পাইনগোরে পড়াইতে ইচ্ছা করে কিন্তু স্কুল নাই। সরকার আমাগো লাইগা কিছু করে নাই।’ একই এলাকার রহিম মাঝি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘সরকার আয় সরকার যায়, আমাগো ভাগ্যের কোন পরিবর্তন অয় না। এহানে সরকার যদি একটা স্কুল দেয় তাইলে আমাগো পোলাইনেরে পড়াইতে পারমু।’ এমন আক্ষেপ জানালেন এই চরের জসিম ব্যাপারিও। এ চরে ৫ শতাধিক শিশু স্কুল গমন উপযোগী থাকলেও এখানে স্কুল নেই। এ বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী অফিসার মো: রেজাউল করিম জানান, চরফ্যাশনের অধিকাংশ চর দুর্গম, তারপরও শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করার নানা প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার জালাল আহম্মেদ জানালেন, বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশু সংখ্যা দিন দিনই কমছে। তবে গত কয়েক বছরে আর্থিক স্বচ্ছলতাসহ নানা কারণে বিভিন্ন চরের প্রায় ৫ হাজারের মতো শিশু ঝরে পড়েছে।

অন্যান্য সংবাদ