প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লক্ষ্মীপুরে সড়কের দু’পাশে ঝুঁকি নিয়ে হাজার পরিবারের জীবনযাপন

আমজাদ হোসেন আমু,(লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুরের কমলনগর- রামগতি সড়কে চৌরাস্তা থেকে তোরাবগন্জ রাস্তার দু’পাশে ঝুঁকি নিয়ে হাজার পরিবার জীবনযাপন করছে। মানবেতর জীবন ঝুঁকিতে গড়ে তুলছে, নিজের জীবন।

এখানে,নদী ভাঙন, গ্রামীণ দারিদ্র, কৃষিতে কাজের অভাবসহ নানা কারণে মানুষগুলো ছুটে এসে, আশ্রয় নিয়েছে রাস্তার দু’পাশে। এ জায়গাটাকে বস্তির মত বানিয়ে বসবাস করছে তারা। বস্তির মত গাদাগাদি করে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করতে বাধ্য হচ্ছে।

শনিবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে,সরেজমিনে দেখা যায়, এখানে অবস্থানরত বেশি ভাগ-ই মেঘনার ভাঙনে বিলিন হয়ে যাওয়া পরিবার। নদী ভাঙনে সহায় সম্পত্তি, দাদা-বাবার শত বছরের ভিটেবাড়ি হারিয়ে, নিঃস্ব হয়ে ঠাঁই নিয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ এ রাস্তা পাশে। এসব পরিবারগুলো কমলনগর উপজেলার, সাহেবেরহাট, চর কালকিনি, চর মার্টিন, চর জগবন্ধু, কাদির পন্ডিতেরহাট, লুধুয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে এখানে আশ্রয় নিয়েছে।

এখানে বসবাসকারী আব্দুল্লাহ,মোঃ হানিফের সাথে কথা বলে জানা যায়, মেঘনার ভাঙনে সব হারিয়ে জায়গা না থাকায় এখানে আশ্রয় নিয়েছি। ছেলে, মেয়ে, বৃদ্ধ বাবা, মা এদের নিয়ে কই যামু। এসব বলে কেঁদে ফেলে।এখানে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে সহায় সম্পত্তি হারিয়ে নিঃস্ব, অসহায় দারিদ্র্রতার মাঝে বসবাস করছে।

তবে দুঃখের বিষয় এসব মানুষগুলো রাস্তার পাশে টাকা দিয়ে ভিটে কিনছে। একভিটি জায়গা ৩০-৪০ হাজার টাকা। কিন্তু এ জমিগুলোর বেশির ভাগ-ই খাস।অথচ এসব জমি কিনতে হচ্ছে।

বৃদ্ধা আজিজা জানান, বড় একটি ট্রাক্টর হঠাৎ রাস্তার পাশে একটি ঘরে ঢুকে গেছে। পুরো ঘর ভেঙে গেছে। ঘরে কেউ থাকলে কি হতো একটু চিন্তা করুন! এ মানুষ গুলো মৃত্যুকে হাতে নিয়ে ছোটছোট ঘর বানিয়ে বস্তির মত বসবাস করছে।
বইপত্রে জেনেছি

কমলনগর উপজেলা চেয়ারম্যান, ছৈয়দ মোঃ সামছুল আলম বলেন, আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে, নদী ভাঙন, হত দরিদ্রের নামের তালিকা নিচ্ছি, এসব তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো।এবং যতটুকু সম্ভব এদের সহযোগিতা করছি।

লক্ষ্মীপুর সদর ভবানিগন্জ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রনি জানায়, আমার ইউনিয়নের তোরাবগন্জ টু চৌরাস্তা পর্যন্ত রাস্তার পাশে যারা বসবাস করছে, তাদের নানাভাবে সাহায্য, সহযোগিতা করছি এবং এদের তালিকা নিচ্ছি, যাতে পরে এদের সহযোগিতা করা যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ