প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনের আগে শেয়ারবাজার পর্যবেক্ষণে বিনিয়োগকারীরা

মাসুদ মিয়া : নির্বাচনের আগে দেশের শেয়ারবাজার পর্যবেক্ষণে রয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বেশি মুনাফার আশায় সঞ্চয়পত্রে দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যও তেমন ভালো নয়। এছাড়া ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদহারের তুলনায় সঞ্চয়পত্রের সুদহার বেশি। যার কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য অনেকেই ব্যাংক থেকে আমানত তুলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন। এদিকে শেয়ারবাজার নির্বাচনের আগে চাঙ্গা রাখতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তার পরও চাঙ্গা হচ্ছে না। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নির্বাচনের আগে সরকার বাজার চাঙ্গা রাখা যে উদ্যোগ নিয়েছে তা ইতিবাচক। তবে সংশ্লিষ্টরা আরও মনে করেন, নির্বাচনের আগে বিনিয়োগকারীরা বাজার পর্যবেক্ষনে থাকেন যার কারনে বাজারে লেনদেন তেমন বাড়ছে না।।

আর শেয়ারবাজার চাঙ্গা না হওয়ায় বেশি মুনাফার আশায় সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। যার কারণে বাজেটের ঘাটতি পূরণে বড় অংশই আসছে এখান থেকে। ফলে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেয়ার খুব একটা চাপ নেই সরকারের। সংশ্লিষ্টরা জানান, অস্বাভাবিক সঞ্চয়পত্র বিক্রি বৃদ্ধি ও বৈদেশিক খাত থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা আসায় সরকারের ব্যাংক নির্ভরতা কমেছে। তবে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্রের ওপর অতি নির্ভরশীলতার কারণে সুদের ব্যয় দিনদিন বাড়ছে। ফলে সরকারের সুদ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ঋণ করা সহজ হওয়াতে সরকার এদিকে বেশি ঝুঁকছে। যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অনিয়ম আর কারসাজির কারণে দেশের পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কম। অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যও তেমন ভালো নয়। এছাড়া ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদহারের তুলনায় সঞ্চয়পত্রের সুদহার বেশি। যার কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য অনেকেই ব্যাংক থেকে আমানত তুলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন।’

সঞ্চয়পত্রের এ ঋণের টাকা সরকারকে সঠিক জায়গায় বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতির এ বিশ্লেষক। তা না হলে এ ঋণ বোঝা হয়ে দাঁড়াবে বলে সতর্ক করেন তিনি। কারণ সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করতে হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে (গত ৮ অক্টোবর পর্যন্ত হিসাব) উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নিট দুই হাজার ৮৯২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। ফলে বর্তমানে ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের মোট ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা। গত ৩০ জুন পর্যন্ত যা ছিল ৮৮ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। এদিকে আলোচিত সময়ে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঋণ পরিশোধ করেছে সাত হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকে মোট ঋণ গত অর্থবছরের চেয়ে কমে ১৫ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকায় নেমেছে। গত জুন শেষে যা ছিল ২৩ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বর্তমানে রাজস্ব থেকে সরকারের আয় খুব ভালো নয়। তাই বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে। তবে সরকার এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ ঋণ নিয়েছে তা খুব একটা বেশি নয়। কারণ বাজেটের ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক খাত থেকে যে পরিমাণ ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তার তুলনায় অনেক কম নিয়েছে। এছাড়া এখন সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বেশি হচ্ছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নেবে না বলে মনে করেন এ অর্থনীতি বিশ্লেষক।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন কারণে এখন বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কিছুটা কমেছে। এ সময় ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেয়া খুব একটা সমস্যা হবে না। এ বিষয়ে ডিএসইর সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার বাজার চাঙ্গা রাখা যে উদ্যোগ নিয়েছে তা ইতিবাচক। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিনিয়োগকারীরা বাজার পর্যবেক্ষনে থাকেন সে জন্য লেনদেন কম হচ্ছে।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছর ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪২ হাজার ২৯ কোটি ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার। আর সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। এদিকে গত অর্থবছরের মূল বাজেটে ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরলেও অর্থবছর শেষে দাঁড়ায় মাত্র ৯২৬ কোটি টাকা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) নিট নয় হাজার ৫৭ কোটি টাকার ঋণ এসেছে সঞ্চয়পত্র থেকে। এ সময়ে মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ১৪ হাজার ৯৬২ কোটি টাকার। এর মধ্যে আগের কেনা সঞ্চয়পত্রের মূল ও সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু সুদ বাবদ পরিশোধ হয়েছে তিন হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে সরকার ঘাটতি বাজেট অর্থায়নে সঞ্চয়পত্রের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। গেল ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ১২ মাসে মোট ৭৮ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে মূল ও মুনাফা বাবদ পরিশোধে ব্যয় হয় ৩২ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। শুধু মুনাফা বা সুদ বাবদ পরিশোধ হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ