প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জলদস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকুতি

জুয়েল খান : আত্মসমর্পণের সমঝোতাকারী ঢাকার টেলিভিশন সাংবাদিক মহসীনুল হাকিম বলেছেন, ফেরারি জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই এই আত্মসমর্পণ। আত্মসমর্পণ করার ফলে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সুবিধা পাবে।

কক্সবাজারের মহেশখালী এবং কুতুবদিয়ার ৬ টি জলদস্যু বাহিনীর মোট ৪৩ জন সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে। দস্যুদলের সদস্যরা যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে সেজন্য সরকারের তরফ থেকে দেওয়া হয়েছে নানা ধরনের সাহায্য সহযোগীরতার আশ্বাস।

তিনি বলেন আমি এর আগে একইভাবে সুন্দরবন এলাকার জলদস্যুদেরও আত্মসমর্পণে রাজি করিয়েছিলাম। কুতুবদিয়ার জলদস্যুরা মূলত সুন্দরবনের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ করার পরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জলদস্যুরা কোনো প্রকার শর্ত ছাড়াই আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়। এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করে।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র একটা কথা বলেই তাদেরকে রাজি করানো হয়েছে যে, আত্মসমর্পণ করলে তোমরা তোমাদের বাড়িতে ফিরতে পারবে। জলদস্যুরা এখন আর সমুদ্রে মানুষের কোনো ক্ষতি করবে না। তাদের নামে যেসব মামলা আছে তারা ঘরে বসেই সেগুলোর মোকাবেলা করবে। এবং আইনি প্রকৃয়ায় আবার আগের মতো স্বভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবে। এছাড়া তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১ লাখ টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাদের স্থায়ী পুনর্বাসন করার জন্য সরকারের তরফ থেকে এককালীন বরাদ্দ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমি যখন সুন্দরবনের জলদস্যুদের নিয়ে কাজ করি তখন দেখি যে জলদস্যুরা পুরো উপকূল জুড়ে, পুরো সাগর জুড়ে। তবে জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ করার পেছনে আরও একটা কারণ হলো তাদের নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দ্বন্দ্বের কারণে গত ১০ বছরে ১৬০ জন জলদস্যুর মৃত্যু হয়েছে। আর এখন জলদস্যুরা বুঝতে পেরেছে যে সরকার তাদের কোনো ক্ষতি করছে না তাহলে তারা কেন এই খারাপ কাজের সাথে থাকবে। তাই তারা সরকারের দেওয়া সুযোগ সুবিধা নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে। সূত্র: বিবিসি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ