প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালেদা জিয়াকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না: রিজভী

শিমুল মাহমুদ: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না অভিযোগ করে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও তার ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি স্বাস্থ্য পরিক্ষার জন্য, এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে শুধুমাত্র যে ফিজিওথেরাপী দেয়া হয় সেটি তার জন্য পর্যাপ্ত নয়।

রোববার(২১অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, দল ও পরিবারের পক্ষথেকে বিশেষায়িত হাসপাতালে বেগম জিয়ার চিকিৎসার দাবিকে সরকার তাচ্ছিল্য সহকারে অগ্রাহ্য করেছে রাষ্ট্রক্ষমতার আতিশয্যে। কারণ বেগম জিয়া সুস্থ্য হলে তো সরকার প্রধানের প্রতিহিংসা চরিতার্থ হবে না।

পছন্দমত চিকিৎসক এবং হাসপাতালের ব্যবস্থা করার জন্য জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন। বেগম জিয়ার মুক্তি ছাড়া প্রহসনের নির্বাচন জনগণ নির্ভিক চিত্তে প্রতিহত করবে। আমাদের এখন প্রধান লক্ষ্য নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা ও দেশনেত্রীর মুক্তি।

বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে ক্রমপ্রসারমান নৈরাজ্যে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা এখন দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিনত হয়েছে। এরা যেন নিজ দেশেই পরবাসী। অবৈধ শাসকগোষ্ঠী ফ্যাসিবাদের বিষাক্ত আক্রমনে সারাদেশটা আওয়ামীলীগের উপনিবেশে পরিনত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এদেশে আওয়ামী নেতাকর্মীরা ছাড়া ভিন্ন মত, পথ ও বিশ্বাসের মানুষের নিরাপদ সুস্থ্য জীবন নিয়ে বেচে থাকার কোন অধিকার নেই। বিভাজনের নিকৃষ্ট পন্থা অবলম্বন করে জাতীয় পরিচয়ের চেয়ে দলীয় গজকাঠিতেই পরিমাপ করা হচ্ছে মানুষের যোগ্যতা, দক্ষতা, চিকিৎসা সেবা ও মানবতা।

রিজভী বলেন, বেআইনিভাবে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৯ অক্টোবর ২০১৮। আমরা আগেই বলেছি বিবাদীর অনুপস্থিতিতে মামলার রায় নির্ধারণ পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। সরকার প্রধানের নির্দেশেই সম্পূর্ণ প্রতিহিংসামূলকভাবে এ রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে। সেজন্যই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতের ওপর চাপসৃষ্টি করে রায়ের দিন ধার্য করে নিয়েছে। আরেকটি ফরমায়েশি রায় হতে যাচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য দেশবাসী প্রহর গুনছে।

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে চারদিকে নৈরাশের ছবি। সরকার পূণরায় একতরফা নির্বাচন করার জন্য এখন এজিদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ভোটাররা বাড়ী ছাড়া, ঘর ছাড়া, গ্রাম ছাড়া, জেলা ছাড়া। এজিদের মতো ফোরাত নদীর তীর অবরোধ করার ন্যায় এরা মানুষের ভোটাধিকারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। নির্বাচন নিয়ে সরকারের সন্ত্রাসী পরিকল্পনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইইউ ইসিকে পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছে তারা আগামী সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবেনা। অন্যান্য দাতা ও সাহায্য সংস্থা, বিদেশী মিশন থেকেও নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ বাংলাদেশে বর্তমানে নির্বাচনের কোন পরিবেশ নেই। নির্বাচন কমিশনার জনাব মাহবুব তালুকদার সাহেবকে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা যেভাবে আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়েছেন তা সন্ত্রাসী আচরণ এবং তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কেন ছুটি নিয়েছেন নাকি নিতে বাধ্য করা হয়েছে তাও রহস্যজনক। ইসিকে সর্বোচ্চ চাপে রেখে কাজ করাচ্ছে সরকার।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কতিপয় কমিশনার ও কর্মকর্তারা নিজেরা যে আচরনবিধী তৈরি করছেন তা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থি আচরণবিধি। কারণ এই কমিশনের কয়েকজন আধিকারিক কমিশনের ক্ষমতা কমিয়ে সরকারকে দিতে চান। সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করার নজীর পৃথিবীর কোথাও নেই। অথচ প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের সময় সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টির করতে আইন করতে চাচ্ছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ