প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজনৈতিক দুর্বলতার সুযোগে কূটনীতিক তৎপরতা বৃদ্ধি

তরিকুল ইসলাম: দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কূটনীতিকরা। সিটি নির্বাচনের পর এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচন কমিশনসহ রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পারিক অনাস্থা নিয়ে তাদের জোরালো মন্তব্য অনেকটাই ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছেন সম্পর্ক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, ঢাকায় দায়িত্ব পালনরত কূটনীতিকদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত নাক গলানো দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। দেশের রাজনৈতিক দুর্বলতার সুযোগেই কূটনীতিক তৎপরতা বৃদ্ধির কথা জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

এ রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, তারা আমাদের কোনো বিষয়ে মাথা ঘামাক এটি আমরা চাই না। এটা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য শুভ নয়। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এমন হয় কিনা আমার জানা নেই। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে বিদেশিদের আশির্বাদ নিতে চায় বলেই হয়ত এমন পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আমাদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রদূতদের বৈঠক করাটা অস্বাভাবিক নয়। অন্যান্য দেশেও এমনটি হয়ে থাকে। বিষয়টা এমন নয় যে, তারা রাষ্ট্রের কৌশলগত দিকগুলোতে হস্তক্ষেপ করছে। রাষ্ট্রদূতরা নিজ দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্টতার প্রয়োজনেই সবার সাথে কথা বলে ধারণাপত্র তৈরি করেন।

জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল ও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর অন্যায় কোনো আবদার পূরণে কূটনীতিকরা অতিতের মতো আর সময় নষ্ট করবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো শাহরিয়ার আলম।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে গত ৩জুন আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা পিছনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি নির্বাচন এলেই কেউকেউ বিদেশীদের দিয়ে নিজেদের মতামতকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। কূটনীতিকরাও এসব বিষয়ে কথা বলেছেন। এবার আর সেটি হবে বলে আশাকরি না।কাজেই আগের বিষয়টা আর বর্তমান সময়টা এক না।

বৃহস্পতিবার সেতু ভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আলাদা-আলাদা ভাবে বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট ও ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

বৈঠক শেষে বার্নিকাট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পেশিশক্তির ব্যবহার চায় না। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। শ্রিংলা বলেন, প্রতিবেশী দেশের গণতন্ত্রের প্রতি আমরা আস্থাশীল বলেই বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চাই।

একই দিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনসে টিরিঙ্ক এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে সাংবাদিকদের বলেন, আগামী মাসে নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষনে ইইউ দুজন প্রতিনিধি পাঠাবে। তারা রাজনৈতিক পরিবেশ ও নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিাতি পর্যবেক্ষণ করবেন। নির্বাচনে সহযোগিতা দরকার হলে ইইউ এ জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

এর আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকে বসেন কূটনীতিকরা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন এমন প্রশ্ন তুলছেন তারা।

নির্বাচন ইস্যুতে কূটনীতিকরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও বৈঠক করতে চান। অবশ্য নির্বাচন যেহেতু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় সেখানে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কূটনীতিকদের আলোচনার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।

তারা মনে করেন, অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ইস্যুতে রাষ্ট্রদূতদের আগ্রহ নিয়ে দেশের নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে বৈঠকে বসতে চাওয়াটা মোটেই যুক্তি সংঙ্গত নয়। তাদের ওয়ার্কিং ফ্রেমের বাইরে কথা বলার আবদার রক্ষা করা বা না করা নিয়ে সতর্ক রয়েছে ঢাকা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ