প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যারিস্টার মইনুল মানহানিকর অপরাধ করেছেন

ড. বদরুল হাসান কচি : ঐক্যফ্রন্টে নেতৃত্ব দেয়া সকলের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার; প্রত্যেকে একটি রাজনৈতিক দল কিংবা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত; কিন্তু ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের রাজনৈতিক অবস্থানটি অস্পষ্ট। তাই তিনি কোনো দলকে প্রতিনিধিত্ব করছেন নাকি অন্য কিছু সেটি নিয়ে প্রশ্ন ছিলো সবার। সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি এই ব্যাপারটি স্পষ্ট হতে চেয়েছিলেন, তাই সেদিন টেলিভিশন টকশোতে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে প্রশ্ন করেছিলেন; তাতেই তিনি উত্তেজিত হয়ে তাকে ‘চরিত্রহীন’ বলে গালি দিলেন। অথচ অত্যন্ত ভদ্রতার পরিচয় দিয়ে মাসুদা ভাট্টি তাকে পাল্টা আক্রমণ করেননি; বরং পেশাদারিত্বের অবস্থানে ছিলেন।

দল পরিচয়হীন জাতীয় নেতা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সেদিন টিভি টকশোতে উপস্থিত হয়েছিলেন ঐক্যফ্রন্টের নেতা হিসেবে। তার বিষয়টি ছিলো রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত। অথচ ঘটনা পরবর্তী দুঃখপ্রকাশ করে তিনি চিঠি পাঠিয়েছেন দেশের আরেকটি ইংরেজি দৈনিকের লেটার হেড প্যাডে। তিনি কোনো গণমাধ্যমের মালিকানায় থাকতেই পারেন, সেটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি কিংবা অন্য সাংবাদিকদের সহানুভূতি চাইলেন, না ভয়-ভীতি দেখালেন? এটাকে কি বলা চলে, ক্ষমতার দাম্ভিকতা নাকি অপব্যবহার? আমি একজন আইনজীবী, তাই এটা ভালো করেই জানি যে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন একজন আইনজীবী হিসেবে তার নিজস্ব এবং চেম্বারের নামে লেটার হেড প্যাড রয়েছে। অথচ তিনি খুব সচেতনভাবে সেটি এড়িয়ে গিয়ে তার মালিকানাধীন পত্রিকাকে ব্যবহার করেছেন। আমি মনে করি এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে তিনি আরেকটি গণমাধ্যমকে ব্যবহার করার মধ্যদিয়ে কেবল ক্ষমতার দাম্ভিকতা দেখিয়েছেন তা নয়, তিনি মানুষের কাছে গণমাধ্যমকে হেয় করেছেন। এছাড়া গণমাধ্যমের মতো একটি গ্রহণযোগ্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে হাতিয়ার হিসেবে প্রদর্শন করেছেন।

ধরে নিলাম তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন, মন্ত্রিত্বও বাগিয়ে নিলেন; বসলেন রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণীর আসনে। বিপত্তি হলো যিনি দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী সমাজকে যথাযথ সম্মান দেখাতে পারেন না, যার চিন্তায়, আচার-আচরণে নারী কেবল অবলা প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত তাদের কাছ থেকে রাষ্ট্রের মঙ্গলকর কিছু হবে বলে জনগণ বিশ্বাস করতে চায় না।

মাসুদা ভাট্টি দেশের প্রথম সারির একটি দৈনিক পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। আমাদের এই সমাজ বাস্তবতায় একজন নারী কতোটা যোগ্যতা, দক্ষতা ও সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারলে পরে একটি দৈনিকের এমন শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছতে পারেন সেটি বুঝতে নিশ্চয়ই কারও কষ্ট হওয়ার কথা নয়। একজন মাসুদা ভাট্টি এ দেশে অনেক নারীর জন্যই অনুপ্রেরণার মানুষ; বিশেষ করে যারা সাংবাদিকতায় পড়ছেন, কিংবা সাংবাদিকতা পেশায় নতুন করে প্রবেশ করেছেন। ব্যারিস্টার মইনুল টিভির অন-এয়ারে যে মন্তব্য করেছেন সেটা স্পষ্টই মানহানিকর অপরাধ। ইতোমধ্যে দেশের নারী সাংবাদিক সমাজ সংবাদ সম্মেলন করে এই মানহানিকর অপরাধের জন্য ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলেছেন, তা না হলে নারী সাংবাদিক সমাজ আইনের আশ্রয় নিবেন বলে হুঁশিয়ার করেছেন। আমি মনে করি এটা কেবল নারীদের ইস্যু নয়, সভ্য সমাজে বসবাসকারী নারী-পুরুষ সবার দাবি।

লেখক : আইনজীবী ও সম্পাদক, ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডট কম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত