প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজনীতিতে সাহস লাগে

মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান : দুর্বলের জন্য রাজনীতি নয়। রাজনীতি শুধু বিজয়ীদের জন্য এবং বিজয়ী তারাই হয় যারা সাহসী। জনগণ ব্যাপক প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দিকে। জনগণ পরিবর্তন চায় এবং বিশ্বাস করে সেই পরিবর্তন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টই আনতে পারবে। ভাবে-সাবে মনে হয় সরকার নিজেও ঐক্যফ্রন্টে কিছুটা ভীত তাই সাম্প্রতিক বেশ কয়েকজন মন্ত্রী অসংগলগ্ন বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে বেড়াচ্ছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের বিরুদ্ধে।

যদি রাজনীতি সরকারের অনুমতি বা অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে হয় তাহলে কোনোদিনই বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি বা পক্ষ রাজনীতি করতে পারবে না। রাজনীতি বিশেষ করে সরকারবিরোধী রাজনীতির মূল চেতনাই হলো সাহস নিয়ে সরকারের গণবিরোধী পদক্ষেপ বা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলা। জেল-জুলুম নির্যাতনের ভয় করে বিরোধী রাজনীতি করা যায় না। নেতারা যখন জনগণের পক্ষে সাহস করে প্রতিবাদ করতে পারে তখনই জনগণ সাহসী নেতা বা নেতাদের পিছনে কাতারবন্দি হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বিরোধী নেতাদের অনেকেই বক্তৃতা-বিবৃতি নির্ভর হয়ে গেছেন।

অনেক নেতা সাহসী কর্মসূচি দিতে ভয় পান কিন্তু মনে মনে আশা করেন কর্মী বা সমর্থনকারীরা মাঠ দখল করে নেতাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু তা হয় না। নেতাদের স্পষ্ট কর্মসূচি দিতে হবে। সেই কর্মসূচি যদি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে জনগণ অবশ্যই মাঠে নেমে আসবে এবং নেতাদের বিজয়ী করবে।

জনসভা করতে সরকার বা পুলিশের কোনো অনুমতি নেয়ার বিধান বা আইন নেই। জনসভা করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দল তাদের নিজেদের প্রয়োজন মতো নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে স্থান ও সময় জানিয়ে দিবে জনসভায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যাবস্থা নেয়ার জন্য। যদি সেই জনসভা কোনো সড়ক বা মহাসড়কে হয় তাহলে জনগণের নির্বিঘ্ন চলাচলের সুবিধার্থে সড়ক বা মহাসড়কের সভা নিষিদ্ধ করতে পারে।

কিন্তু মাঠে-ময়দানে জনসভা করতে পুলিশ কোনো বাধা দেয়ার এখতিয়ার রাখে না। তবে যেহেতু পুলিশ সরকারের আজ্ঞাবহ তাই পুলিশকে দিয়ে সরকার অনেক নিপীড়নমূলক কার্যক্রম চালাতে পারে যার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্যই সাহসী রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজন। কোনো রাজনৈতিক দলই সহিংস বা সন্ত্রাসী রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না কিন্তু যেকোনো রাজনৈতিক দলের মূল শক্তি হলো ওই দল প্রয়োজনে কতদূর সহিংসতা বা সন্ত্রাস চালানোর ক্ষমতা রাখে। জেল-জুলুম নির্যাতন চালানোর ক্ষমতা যেমন ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য অনেক স্বৈরাচারী সরকার যত্রতত্র প্রয়োগ করে জনগণকে দাবিয়ে রাখে তেমনি কোনো স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করতে হলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের পক্ষে শান্তিপূর্ণ পথে অগ্রসর হওয়া অসম্ভব হতে পারে।

সরকার বা পুলিশের তথাকথিত অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে যেকোনো মূল্যে সিলেটে পূর্ব নির্ধারিত জনসভা করা উচিত। যদি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সিলেটে জনসভা করতে না পারে তাহলে ভবিষ্যতে কোনো জনসভা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করতে পারবে না এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অপমৃত্যু হবে।

সরকার তার নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের পূর্ব পরিকল্পনা মতো যথা সময়ে নির্বাচন হয়ে যাবে এবং সরকার সেই পথেই এগোচ্ছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কিছুটা হলেও মাথা-ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সরকার শুরু থেকেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ঐক্যফ্রন্টকে ভ-ুল করে দেয়ার সকল ব্যবস্থা নিয়ে মাঠে নেমেছে। ঐক্যফ্রন্টের সিলেট জনসভা করতে না দেয়ার মধ্যে দিয়ে সরকার তার অবস্থান পরিষ্কার করে ফেলেছে।

এখন যদি সাহস নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সিলেটে জনসভা করতে না পারে তাহলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে মাজার জিয়ারত, বাড়িতে বাড়িতে ঘরোয়া সভা করে পাকনা পাকনা বক্তব্য দিয়ে সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হওয়া এবং বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নামে প্রতিদিন চেহারা মোবারক দেখানোর রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। তার পরে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার পরে ‘বিনা রণে দিব না সুচাগ্র মেদেনীর’ সেই বিখ্যাত আস্ফালনের পুনরাবৃত্তি করে সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে নির্বাচন আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বেন নেতারা।

অনেক প্রত্যাশা নিয়ে জনগণ তাকিয়ে আছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দিকে। জনগণ আশাবাদী। সরকার ও সরকারের মন্ত্রী এবং তল্পিবাহক সংবাদ মাধ্যম ও সরকারের তাবেদার মোসাহেবরা যতই ঐক্যফ্রন্টের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে ততই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতি জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পিছনে দাঁড়াতে চায়। জনগণ প্রত্যাশা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সাহস নিয়ে মাঠে জনগণের কাছে আসবে যাতে জনগণ ঐক্যফ্রন্টকে বরণ করে নিতে পারে।

জনগণের একান্ত প্রত্যাশা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সিলেটে জনসভার ডাক দিয়ে মাঠে নেমে আসুক যাতে জনগণ প্রমাণ করে দিতে পারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জনগণ সম্পৃক্ততা কতটুকু। ডাক জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকেই দিতে হবে। সিলেটের জনসভা হতেই হবে। সরকার জেল-জুলুম নির্যাতনের স্টিমরোলার চালাবেই।

সিলেটের জনসভা না হলেও চালাবে। অতএব সিলেটের জনসভা করতে গিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সরকারের জেল-জুলুম নির্যাতনের ভয় না করে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাবে এটাই আজকে জনগণের প্রত্যাশা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কাছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জয় হবেই হবে।

লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ