প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কেমন আছেন সেই রসরাজ

মানবজমিন : রসরাজ দাস। পরিচিত একটি নাম। ২০১৬ সালে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে ঘটে হামলা। যা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসে এই রসরাজ। ফেসবুক স্ট্যাটাসটি দেয়া হয় জেলে রসরাজ দাসের অ্যাকাউন্ট থেকে। নাসিরনগরের হরিপুরের হরিণবেড় জেলেপাড়ার বাসিন্দা সে।

হরিপুর বাজারের পাশেই হরিণবেড় পশ্চিম পাড়া। পুরোটাই জেলেপল্লী। এখানে সনাতন ধর্মাবলম্বী ২শ’ পরিবারের বাস।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাটিতে মুসলমান-হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশিই বাস। বাজার থেকে যেতে ব্যবহার করতে হয় একই রাস্তা।

জেলেপল্লীর ছোট টিনের বাড়ি রসরাজের। থাকেন বাবা-মা, ভাই-বৌদিকে নিয়ে। বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে, তবে প্রতিটি কক্ষে নেই সিলিং ফ্যান। এ মাসে তাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ বিল এসেছে মাত্র ১৭০ টাকা।

গত ৬ই অক্টোবর বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন রসরাজ দাস। নাটকের থেকে অধিক নাটকীয় তার জীবন। সঙ্গী করেছেন নাসিরনগরের ফান্দাউক গ্রামের প্রমোদ চন্দ্র দাসের মেয়ে নির্মলা রানী দাসকে। তার বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই আসে দুর্গাপূজা। পরিবারে নতুন সদস্যকে নিয়ে চলে দুর্গাপূজার উৎসব। রসরাজ দাসের মা একজন পূজারী। বাড়ির পাশেই বসেছে পূজামণ্ডপ। রসরাজের মা নমিতা রানী দাস সেই মন্দিরে ছিলেন সার্বিক পূজার দায়িত্বে।

আলোচিত ঘটনাটির বর্ণনা দেন রসরাজ দাস। তিনি জানান, ২০১৬ সালের ২৮শে অক্টোবর চলছিল কালীপূজা। সেইদিন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি স্ট্যাটাস দেয়া হয়। যাতে ক্ষুব্ধ হন ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা। সে সময় তিনি ছিলেন বিলে। মাছ ধরছিলেন। তাকে বিল থেকে ধরে নিয়ে এসে প্রবল মারধর করা হয়। এরপর পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

রসরাজ দাস জানান, তিনি দেখেননি কী স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে। রসরাজ জেল খেটেছেন ২ মাস ১৮ দিন।

তিনি জেলে যাবার একদিন পর ৩০শে অক্টোবর জেলেপল্লী হামলার শিকার হয়। হামলার আশঙ্কা থেকে আগে থেকেই গ্রাম ছাড়া হয়েছিলেন সকল মানুষ।

এখন অনেক ভালো আছেন রসরাজ দাস। ভালো আছে জেলে পল্লীসহ নাসিরনগর। মুসলমান-হিন্দু সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে। রসরাজ দাসের ভাষ্যমতে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি থেকে পেয়েছেন ১ লাখ টাকা ও আরেকটি সংস্থা থেকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা। এখনো তিনি আগের মতো নদীতে মাছ ধরেন। এ ছাড়াও তার রয়েছে লিজ নেয়া পুকুর। সেখানে মাছ চাষ করেন। নদীতে মাছ ধরা ও মাছ চাষ করে দু’বেলা দু’মুঠো ভালো করেই খেতে পারছেন।

আগে একটি অ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন। তবে সেটি রয়েছে আদালতের জিম্মায়। বর্তমানের ব্যবহৃত ৯৯০ টাকার ফোনে নেই ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ।

এখন প্রতিমাসে আদালতে হাজিরা দিতে হয় তাকে। তার আইনজীবী মো. নাসির মিয়া। নাসির মিয়াকে দিতে হয় না কোনো অর্থ। তবে প্রতিমাসে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া যাতায়াত, খাওয়া- দাওয়া ইত্যাদি খরচ হয় প্রায় ৫শ’ টাকা।

আইনজীবী মো. নাসির মিয়া বলেন, ‘রিপোর্ট অনুযায়ী স্ট্যাটাসের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে পরবর্তীতে যেহেতু ক্ষমা চেয়ে একটি স্ট্যাটাস দেয়া হয়। তাই ধারণা করা যায় অ্যাকাউন্ট থেকে একটি স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছিল। তবে সেই স্ট্যাটাস কে দিয়েছে তা নিশ্চিত নয়। আশা করছি, দ্রুততম সময়ে অপরাধী চিহ্নিত হয়ে রসরাজ দাস নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ