প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সৌদি ব্যাখ্যায় আস্থা রাখেন ট্রাম্প
খাসোগজিকে হত্যার দায় স্বীকার সৌদি আরবের

নূর মাজিদ : ইস্তাম্বুলস্থ সৌদি কূটনীতিক মিশনেই নিহত হয়েছেন ভিন্নমতালম্বি সাংবাদিক জামাল খাসোগজি। গত ২রা অক্টোবর থেকেই তার নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব গণমাধ্যম। এই ঘটনায় পশ্চিমা মিত্রদের চাপের মুখে সৌদি সরকার খাসোগজিকে হত্যায় নিজেদের জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। গত শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে চ্যানেল সম্প্রসারিত এক বার্তায় বলা হয়, সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ কথাবার্তার এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে হাতাহাতি হয় জামাল খাসোগজির। এরপরেই ক্ষিপ্ত সৌদি কর্মকর্তারা তাকে হত্যা করে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে চলমান তদন্তে এই ঘটনায় দুজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে চাকরীচ্যুত করা হয়েছে। তারা হলেন যুবরাজ সালমানের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা সৌদ আল কাহতানি এবং দেশটির শীর্ষ গোয়েন্দা প্রধান জেনারেল আহমেদ আল-আসিরি। এছাড়াও, খাসোগজি হত্যায় সরাসরি জড়িত থাকার অপরাধে আরও ১৮ জন সৌদি কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ইতোপূর্বে শুক্রবার ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান প্রকাশিত প্রতিবেদনে মার্কিন কূটনীতিক ও গোয়েন্দাসূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, শীর্ষ সৌদি কর্মকর্তাদের সাজা দিতে যুবরাজ বিন সালমানের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছেন মাইক পম্পেও। গত মঙ্গলবার সৌদি সফরে গিয়ে বিন সালমানকে তার শীর্ষ গোয়েন্দা প্রধান আল আসিরিকে দায়ী করে তাকে বরখাস্তের পরামর্শ দেন। এরপরেই শুক্রবার সৌদি আরবের তরফ থেকে আসিরিকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার ঘোষণা এলো। তার অবর্তমানে সৌদি যুবরাজ সালমান স্বয়ং গোয়েন্দা প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন। ইতোপূর্বে সিএনএন জানিয়েছিল, জামাল খাসোগজি হত্যা নিয়ে সৃষ্ট কূটনীতিক সঙ্কট থেকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি যুবরাজকে রক্ষা করতে বিভিন্ন কৌশল ভেবে দেখছে মার্কিন প্রশাসন।

সৌদি আরবের এমন স্বীকারোক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রা¤প। শুক্রবার সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে নিজ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, সৌদি আরবের ব্যাখ্যা বিশ্বাসযোগ্য বলেই মনে হচ্ছে। এটি তাদের তরফ থেকে নেয়া প্রথম ইতিবাচক পদক্ষেপ, তবে এমন ঘটনা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। তবে এই ইস্যুতে রিয়াদের ওপর কোন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলে তার আওতায় সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার পক্ষে নন ট্রা¤প। এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা কেবল মার্কিন সিনেটের হাতেই রয়েছে। তবে ট্রা¤প বলেছেন, কৌশলগত আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে সৌদি আরবকে হারাতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে স¤পর্ক পুনঃমুল্যায়নে মার্কিন কংগ্রেসের সমালোচনার তোপের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। অধিকাংশ কংগ্রেস সদস্য এই বিষয়ে ট্রাম্পের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। দ্য গার্ডিয়ান, সিএনএন, রয়টার্স

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ