প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাশিয়া-চীন-ইরান নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে: যুক্তরাষ্ট্র

বাংলা ট্রিবিউন : যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, রাশিয়া, চীন ও ইরান আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন কংগ্রেশনাল নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) এমন চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত এক রুশ নাগরিককে অভিযুক্ত করার প্রেক্ষিতে নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্কতা জানালো যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে যে বিবৃতিতে তা যৌথভাবে প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি পক্ষ: আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এফবিআই এবং ওডিএনআই।

যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন নির্বাচন প্রভাবিত করতে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। সেখানে প্রার্থীদের বিষয়ে অসত্য তথ্য প্রচার করে ভোটারদের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা চলতে পারে। তাছাড়া ইংরেজি মাধ্যম সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেওয়ার মতো কৌশলও ব্যবহার করতে পারে সম্ভাব্য প্রভাব বিস্তারকারীরা।

বস্তুত ২০১৬ সালের নির্বাচনের সময় রাশিয়ার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে তদন্ত চলছে যুক্তরাষ্ট্র। রবার্ট মুলারের নেতৃত্বাধীন ওই তদন্তে ইতোমধ্যেই অভিযুক্ত হয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনি শিবিরের সাবেক চেয়ারম্যান পল ম্যানাফোর্ট। অন্যদিকে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের মাধ্যমে শুরু হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ইংরেজি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন ছাপিয়েছে চীন। সেখানে তারা লিখেছে, কেন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত মার্কিন জনগণসহ সবার জন্যই খারাপ হবে। এনিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প।

শুক্রবার মার্কিন সরকার রুশ নাগরিক এলেনা আলেকসিভনা খুশিয়াইনোভা (৪৪) নামের একজন রুশ নাগরিককে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করেছে। অভিযুক্ত রুশ নারীর নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের ষড়যন্ত্রে যুক্ত। এই নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে এই প্রথম কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হলো।

‘অফিস অব দ্য ডিরেক্টরেট অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স’ (ওডিএনআই), আইন মন্ত্রণালয়, ‘ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন’ (এফবিআই) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই যৌথ বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ‘মার্কিন নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপ আমাদের গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় হুমকি। এমন হস্তক্ষেপের ষড়যন্ত্র চিহ্নিত করে প্রতিহত করা মার্কিন সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত কাজ।’

যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু রাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচনের কাজে ব্যবহৃত নেটওয়ার্কে সন্দেহজনক অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকিয়ে দিতে পেরেছে।

মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার ক্রেবস সাংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এখন পর্যন্ত দেশটির কোনও ভোটিং মেশিন হ্যাকিংয়ের শিকার হয়নি। ২০১৬ সালে ২১ প্রদেশের ভোটিং নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তাতে হ্যাকাররা সফল হয়েছে খুব অল্প কিছু ক্ষেত্রে। আর তারা ভোটের হিসেব পাল্টে দিতে পেরেছিল কি না সে বিষয়ে সরকারি ভাষ্য হচ্ছে, সেরকম কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত