প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় বিএনপি!

বাংলাদেশ জার্নাল : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জেল ও তারেক রহমান দেশের বাহিরে থাকায় অনেক দিন ধরেই নেতৃত্ব সংকটে ভুকছে বিএনপি। বিশেষ করে গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন, ১৯ জনের ফাঁসি এবং ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হওয়ায় বিভিন্ন মহল থেকে তারেক রহমানের পদত্যাগেরও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এই সবকিছুর মাঝেই ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য ড. কামালের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছে দলটি।

যদিও রাজনীতিবিদরা বলছেন, শুধু মাত্র নির্বাচনকে সামনে রেখেই ড. কমালের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টে যুক্ত হয়েছে বিএনপি। দলটির টার্গেট ড. কামালের মাথায় চড়ে ক্ষমতায় যাওয়া। তবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এলে বিএনপি ড. কামালকে কতটুকু মূল্যায়ন করবে তা নিয়ে সন্দিহান রাজনৈতিক মহল।

অন্যদিকে প্রায় ৮ মাস কারাবন্দি থাকার পর বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাকে বাদ দিয়ে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি, অনেকদিন ধরে একথাই জানাচ্ছিলেন দলের সিনিয়র নেতারা। অথচ নির্বাচন প্রস্তুতি ঠিকই নিচ্ছে বিএনপি।

রাজনীতিবদরা বলছেন, তারেক জিয়ার দেশে আসার সম্ভাবনা নেই। আর খালেদা জিয়া নির্বাচনের আগে জেলে থেকে ছাড়া পাবেন কিনা সে নিয়ে রয়েছে সংশয়। এমনটা হলে খালেদা জিয়াকে ছাড়াই নির্বাচন করতে হবে বিএনিপকে।

নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলছেন, নির্বাচনে অংশ নেবার যোগ্যতা নির্ধারিত হয়ে বাংলাদেশের জন প্রতিনিধিত্ব আইনে। এতে বলা হয়েছে, কেউ যদি কোন ‘নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে’দোষী সাব্যস্ত হয়ে দু’বছরের বেশি মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত হন- তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবার যোগ্যতা হারাবেন।

তবে মূল দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত ব্যক্তি যদি উচ্চ আদালতে আবেদন বা আপিল করেন, এবং সেই আপিল বিচারাধীন থাকে- তখনও নির্বাচনে লড়ার ওপর সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে কিনা- এ বিষয়ে আইনে কিছুটা অস্পষ্টতা আছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, কোন দণ্ডিত ব্যক্তি যখন নির্বাচনে প্রার্থী হবার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন – তখনই রিটার্নিং অফিসারের ক্ষমতা থাকে আইনি ব্যাখ্যা সাপেক্ষে এই মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা খারিজ করার। মনোনয়নপত্র যদি কোন কারণে খারিজ হয়ে যায়, তাহলে সেই ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনের কাছে আপীল করতে পারেন – কিন্তু সে আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া সময় সাপেক্ষ। এর নিষ্পত্তি হতে হতে নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে, এমনও হতে পারে।

বিএনপি নেতাদের মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীরা বলছেন, শুধু খালেদা জিয়া নয়, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র অনেক নেতার মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষের দিকে। আগামী নির্বাচনের আগে অনেকের মামলার রায় দেয়া হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সে ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। আপিল দ্রুত শেষ করে সাজা বহাল থাকলে যে কেউ নির্বাচনে অযোগ্য হতে পারেন। তাই মামলা নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে।

এসবের মাঝেই খালেদা জিয়াকে ছাড়া ড. কমালের নেতৃত্বে শনিবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যুক্ত হয়েছে বিএনপি। তার দু’দিন পর মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছাড়লো জেবেল রহমান গানি নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাপ এবং খন্দকার গোলাম মর্ত্তোজা নেতৃত্বাধীন ন্যাশলান ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)।

রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি বেকাদায় থাকলেও নির্বাচন সামনে রেখে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ড. কামালের সাথে ঐক্যফ্রন্টে যুক্ত হয়েছে।

বিএনপির একাদিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের মনোযোগ এখন ৭ দফা দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে আন্দোলন যাওয়া। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, ২১ আগস্ট মামলার রায় ও বেগম জিয়ার বর্তমান অবস্থা, এই দুই ইস্যুতেই মানুষের সহমর্মিতা পাওয়ার যাবে। যেটা নির্বাচেন প্রভাব ফেলবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ