প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সম্প্রচার আইনের ফলে মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করবে

গোলাম মোর্তজা : আমাদের আলোচনা চলছিলো, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে। এই আলোচনা চলাকালীন সময়ে আপত্তিগুলোকে উপেক্ষা করে আইনটি পাস করা হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে, যেহেতু আইনটি পাস হয়েছে, তাই এখানে করার কিছু নেই। যদিও আমাদের তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, আলোচনার এখনো সুযোগ আছে। সম্পাদক পরিষদ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনা যেন প্রহসনে পরিণত না হয়। প্রহসনে পরিণত হবে কি, হবে না ইতোমধ্যে বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে।

এ অবস্থার মধ্য দিয়েই সম্প্রচার আইন ২০১৮ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়ে গেছে। এখানে যে সমস্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সে সমস্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করলে, প্রতিদিন আমরা টেলিভিশনে যে টক শো করি, যে টক শোতে অংশে নেই, সেখানে আসলে কোন কথা বলার কোন সুযোগ থাকবে না, যদি আমি এ আইনটি মেনে চলি। কারণ হচ্ছে, এখানে বলা হয়েছে, বিভ্রান্তিকর কোন কিছু বলা যাবে না। এখন বিভ্রান্তিকর মানে কি? কোনটা বিভ্রান্তিকর আর কোনটা বিভ্রান্তিকর না, এটি কে বিচার করবে? বিভ্রান্তিকরের সংজ্ঞাটা আসলে কী?

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কোন কিছু বলা যাবে না, বললে জেল-জরিমানা হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা একটি বিপুল-বিস্তৃত শব্দ। কোনটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আর কোনটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নয় এটি কে ঠিক করবে? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আপনি হয় তো এক রকম বোঝেন, আমি হয়তো অন্য রকম বুঝি। তবে ন্যায়বিচার, ন্যায়শাসন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী বাংলাদেশ এবং মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এগুলোই হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা একটি সত্য এবং স্বচ্ছ বিষয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ এবং বাঙ্গালী জাতির সবচেয়ে বড়ো অর্জন। সেটির পক্ষে থেকেই আমরা কথা বলি, মতপ্রকাশ করি, সাংবাদিকতা করি, লেখালেখি করি এবং রাজনীতি করি।

যে আইনটি করা হচ্ছে, এটি যদি প্রয়োগ করা হয় তাহলে এই জায়গাগুলোতে বড়ো রকমের সীমাবদ্ধতা তৈরি হবে, যে কোন কাজ করার ক্ষেত্রে।

তখন মানুষের মধ্যে একটি ভীতি কাজ করবে। মানুষ মনে করবে, যে কথা বলছি, বা যে কাজ করছি এটি কি বিভ্রান্তি ছড়াবে কিনা! গুজব ছড়াবে কিনা! মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কিনা! কারো মর্যাদা হানি হচ্ছে কিনা!

এমন একটি আইন যদি থাকে তাহলে স্বাভাবিক জীবন-যাপন, কর্মকা-, গণমাধ্যম, সাংবাদিকতা এবং লেখালেখি কোন কিছুই স্বাভাবিক থাকবে না।  সবকিছুই একটি অস্বাভাবিক জায়গায় পৌঁছানোর আশংকা আছে বলে আমার মনে হয়।

তাই আমি মনে করি, রাজনৈতিক সরকার তার অবস্থান পরিবর্তন করবে। যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেবে। গণমাধ্যমকর্মী এবং সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমরা আমাদের স্বাধীন মত প্রকাশ করতে পারবো এবং আমরা আমাদের কাজগুলো দায়িত্বের সাথে পালন করতে পারবো।  পরিচিতি : সম্পাদক, সাপ্তাহিক। সম্পাদনা : ফাহিম আহমাদ বিজয়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত