প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হিজড়া দম্পতির নিকট যুবলীগ নেতার চাঁদা দাবির অভিযোগ!

জামাল হোসেন খোকন: জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়ন যুবলীগের কথিত নেতা তরিকুলের বিরুদ্ধে এবার জীবননগর থানার ওসি ও থানার সাবেক এএসআই মনিরের নামে এক হিজড়া দম্পত্তির বিয়ে অবৈধ দাবি করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকেরা তার নিকট জানতে চাইলে সাংবাদিককেও দেখে নেয়ার হুমকি দেয় ওই যুবলীগ নেতা। এলাকাবাসীর অভিযোগ তরিকুল নামের যুবক নিজেকে যুবলীগ নেতা পরিচয়ে এলাকাবাসীকে রীতিমত অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

এলাকাবাসী সূত্র জানায়, জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের হাসাদহ পনরসতিপাড়ার ভন্ড কবিরাজ ওয়াদুদের ছেলে হাসাদহ ইউনিয়ন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম(৩৫) দীর্ঘদিন ধরে দলীয় ক্ষমতার দাপটে এলাকার সাধারণ মানুষকে জীবননগর থানা আবার কখনও পার্শ্ববর্তী জেলার বিভিন্ন থানা পুলিশের নামে চাঁদা দাবি করে আসছে।

তার এ অনৈতিক কাজে কোন ভুক্তভোগী প্রতিবাদ করলে তাকে প্রশাসনে দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেয়া হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ হাসাদহ বাজারে তরিকুলের ঘরে থানা-পুলিশের ওঠা-বসার সুযোগে সে পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে সাধারণ ও সহজ সরল মানুষকে হয়রানি করে থাকে।

হাসাদহ বাজারপাড়ার প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম(৩৫) বলেন, আমি গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বারো বাজারের বেলাট গ্রামের বরিউল ইসলামের মেয়ে বর্ষা খাতুনকে(২৫) কাবিননামা মূলে বিয়ে করি এবং হাসাদহ বাজারে ভাড়াটিয়া বাড়িতে বসবাস শুরু করি।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর হঠাৎ করে যুবলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম গত কয়েক দিন ধরে আমাদের বিয়ে অবৈধ দাবি করে জীবননগর থানার ওসি ও থানার সাবেক দারগা(এএসআই) মনির হোসেনের নামে আমাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রথমে দশ হাজার টাকা দাবি করে।

তিনি আরো বলেন, আমরা ভয়ে তাকে গত শুক্রবার তিন হাজার টাকা দিই। পরবর্তীতে তরিকুল আমাকে ফোনে জানায় দশ হাজার টাকায় হবে না পনের হাজার টাকা দিলে ওসি, দারগাসহ সবাইকে ম্যানেজ করা যাবে। দারগা মনিরের পরিচয দিয়ে আমার স্ত্রীর সাথে একজন মোবাইলে কথা বলে এবং স্ত্রীকে বিবস্ত্র করে দেখারও হুমকি দেয়।

যুবলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম বলেন, আমার এলাকায় থাকতে হলে তাকে বিয়ের কাগজ দেখাতে হবে। আর টাকা তো আমি চাইনি টাকা মনির দারগা চেয়েছে। মনির দারগার কাছে ঝিনাইদহের হিজড়ারা অভিযোগ দিয়েছে। এক পর্যায়ে তরিকুল উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদেরকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।

হাসাদহ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জুম্মাত মন্ডল ও ফকরুল আলম মুকুল অভিন্ন ভাষায় তরিকুল ইসলামকে ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-সম্পাদক দাবি করে বলেন, কোন হিজড়া কার সাথে বিয়ে করল না করল তা উনি (তরিকুল) দেখার কে? সরকার কি ওর দায়িত্ব দিয়েছে? এগুলো আসলে বাটপাড়ি। তরিকুলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের শেষ নেই। ওর কারণে যুবলীগের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।

এএসআই মনির হোসেন বলেন, আমি তো ঝিনাইদ জেলার ডাকবাংলা পুলিশ ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করছি,তাহলে আমি জীবননগরের ঘটনায় জড়িত হলাম কি ভাবে? হাসাদহের তরিকুলকে আমি চিনি, তবে হিজড়ার বিয়ের ঘটনা আমার জানা নেই। ঝিনাইদহের কোন হিজড়া সর্দার আমার নিকট কোন অভিযোগ করেনি। তরিকুল চিটার বাটপাড় জানি,তবে সে আমাকে বেচে খাচ্ছে তা তো জানি না।

এ ব্যাপারে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ গনি মিয়া বলেন, ঘটনার ব্যাপারে আমার কোন কিছু জানা নেই। তা ছাড়া তো হিজড়া বিয়ে করার ব্যাপারে আমার নিকট কেউ অভিযোগও করেনি। তাহলে এখানে আমার কি করার আছে। এদিকে সাংবাদিকেরা এ ঘটনায় তথ্য অনুসন্ধানকালে আরিফুলের মোবাইল ফোনে তরিকুল ফোন দিয়ে দারগা মনিরের পরিচয় দিয়ে বাকি পরিশোধের কথা বলে। এ সময় আরিফুল দারগা মনিরের মোবাইল নম্বরটি চাইলে তরিকুল বলে তিনি এখন জনসভায় আছে। এক ঘন্টা পরে কথা বলতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ