প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চাঁদপুরে ওএমএস এর চাউল দেওয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশসহ আহত ২৫

মিজান লিটন, চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়ন বহরিয়া বাজার এলকায় ওএম এস এর চাউল বিতরণের অনিয়ম এর কারণে সালিশ বৈঠকে ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিন মাঝি বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে চাউলের ডিলার হোসেন বেপারী ও তার লোকজনে অতর্কিত হামলায় পুলিশসহ আহত ২৫। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১১ রাউন্ড ফাকা গুলি নিক্ষেপ করে। এতে করে ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিন মাঝি মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। এঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে চরম সংঘর্ষে রূপ নেয়। খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্র করতে গেলে এস.আই জাহাঙ্গীরসহ পুলিশ সদস্য রেজাউল ও সোহেল মারাত্মকভাবে আহত হয়।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত থেমে থেমে পুলিশের উপস্থিতিতে ৩ ঘণ্টাব্যাপী ডিলার হোসেন বাহিনী ও এলাকাবাসীর সাথে ব্যাপক সংঘর্ষের এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। এ সময় সুমন খন্দকার, রিয়াদ শেখ, ভট্টু মাঝি, নুরুল ইসলাম মাঝি, তাজুল শেখ, আহম্মদ উল্যাহ শেখ, হানু শেখ, সাদ্দাম শেখ, আহসান শেখসহ কমপক্ষে ২৫জন আহত হয়।

সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানায়, গত বুধবার ডিলার হোসেন বেপারী ওএমএসএর চাউল দেওয়ার সময় কার্ডধারী বেশকিছু লোকজনদেরকে চাউল না দিয়ে বিভিন্ন উসিলা দেখিয়ে শারীরিক লাঞ্চিত করে ফিরিয়ে দেয় এবং ডিলারের লোকজনদেরকে চাউল দেয়। এ নিয়ে ওই দিন চাউল না পাওয়া বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও ডিলারের লোকজনদের সাথে কথা কাটাকাটি ও বাগবিতন্ডায় হাতাহাতির রূপ নেয়। ঘটনাটি ভুক্তভোগীরা চেয়ারম্যান সেলিম খানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে শনিবার সকাল ৯টায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সালিশী বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয়। সালিশী বৈঠক চলাকালে ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিন মাঝি কথা শুরু করলে তার কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে ডিলার হোসেন বেপারী ও তার লোকজন তাকে শারীরিক নির্যাতন করে। এ নিয়েই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। এ ঘটনায় বহরিয়া বাজার ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে ভয়ে তাদের দোকানপাট তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দেয়। সংঘর্ষের সময় বাজারের ২০-২৫টি দোকানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও ক্ষতিসাধন করে।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইব্রাহীম খলিল জানান, ওএমএস এর চাউল দেওয়াকে কেন্দ্র করে ডিলার ও এলাকাবাসীর সাথে ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়। আমরা খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। এতে করে আমার ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ১১ রাউন্ড ফাকা গুলি ছুড়তে হয়।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিম খান জানান, বিএনপি জামাতের লোকজন আমার লোকদের উপর হামলা চালায় ও বাজারে লুটপাট করতে এই রণক্ষেত্রের সৃষ্টি করে। আগামী সংসদ নির্বাচনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তারা এলাকায় এই আতঙ্ক সৃষ্ট করেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ