প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ম্যাঙ্গো জরিপ: সিলেটে জনপ্রিয় দল আ’লীগ, ব্যক্তি জোবায়দা

শিমুল মাহমুদ : নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষের মত-অভিমত, পছন্দ-অপছন্দ, ব্যাক্তি ও দলের জনপ্রিয়তায় জরিপ চালিয়েছে ম্যাঙ্গো। ‘Machine learning Artificial Intelligence And Network Analysis for Good Governance’ এর সংক্ষিপ্ত রূপ ‘ম্যাঙ্গো’ ।

জরিপে দেখা যায় গেছে- সিলেটের মানুষ আওয়ামীলীগের প্রতি বেশি ঝুঁকে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে আবারও দেখতে চান সিলেট অঞ্চলের ৮০.৮৬ শতাংশ মানুষ। যেখানে খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফের দেখতে চান মাত্র ৯.১৪ শতাংশ মানুষ।

এছাড়া সিলেট বিভাগে দল হিসাবে জনপ্রিয়তায় ৭২.২০ শতাংশের ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এই জরিপে বিএনপি দ্বীতীয় অবস্থানে রয়েছে ২৪.০৫ শতাংশ জনপ্রিয়তা নিয়ে। বাকি দলগুলোর মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে রয়েছে বাকি ৩.৭৫ শতাংশ জনপ্রিয়তা।

সিলেট অঞ্চলে জামায়াত-শিবিরের শক্ত অবস্থান রয়েছে বলে যে রাজনৈতিক ধারনা অতীতে বিভিন্নভাবে উঠে আসলেও- এই জরিপ তা ভুল প্রমাণ করে জানাচ্ছে- এই অঞ্চলে জামায়াতের জনপ্রিয়তা মাত্র ১.৩৩ শতাংশ। তবে সেটুকুও বিএনপি’র সঙ্গে জোট বাঁধার কারণে বলেই মনে করছেন অনেকে। স্যোশাল মিডিয়ার যে মন্তব্যটি সবচেয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে সেটি হচ্ছে- ‘জামায়াত একটি আসনও পেতো না যদি বিএনপি’র সাথে জোট না করতো বরং বিএনপি’র আসন বেড়ে যেতো।’

জরিপে এই অঞ্চলে জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা এতটাই কম যে সোশ্যাল লিসনিংয়ের এই প্রক্রিয়াতে তা অত্যন্ত গুরুত্বহীনভাবে ধরা পড়েছে। বরং খেলাফত মজলিসের প্রতি জনসমর্থন রয়েছে বলেই দেখতে পেয়েছে ম্যাঙ্গো।

তবে দলের বাইরে ব্যক্তি বিবেচনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় সিলেটে সবচেয়ে জনপ্রিয়তা দেখতে পাওয়া যায় জোবায়দা রহমানের। জিয়া পরিবারের পুত্রবধূ বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দাকে নিয়ে করা একটি মন্তব্য ‘নিজ প্রতিভায় আলোকিত ডাঃ জোবায়দা রহমান গনতন্ত্রের জয় হবেই হবে। আপনার কাছে আমাদের অনেক প্রত্যাশা,’ এই মন্তব্যটি ৩০.৭৯ শতাংশ মানুষ গুরুত্ব দিয়েছে, পড়েছে, পছন্দ করেছে এবং তার ওপর মন্তব্য করেছে।

সোশ্যাল মিডিয়া লিসনিংয়ে তৃতীয় শক্তি হিসেবে বর্তমান ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়েও যাচাই করে দেখেছে জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাঙ্গো। এতে ১৭.৬১ শতাংশ মানুষ এই প্রক্রিয়ার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছে, ৬.৪৮ শতাংশ মানুষ নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে, আর বৃহত্তর সিলেটের ৭৪.৯১ শতাংশ মানুষই এই প্রক্রিয়ার বিষয়ে এখনো নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে।

উন্নয়নের ধারণা সিলেটবাসীর কাছে কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে সে জরিপে দেখা যাচ্ছে শতভাগ মানুষই মনে করে দেশে উন্নয়ন হচ্ছে। তবে এর মধ্যে ৫৯.১৩ শতাংশ মানুষ শিক্ষা খাতের উন্নয়নকে গুরুত্বের সাথে দেখছেন আর ৪০.৮৭ শতাংশ মানুষ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা বলেছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব কথা হচ্ছে তা যাচাই ও বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে- এখনো ৪৬.০০ শতাংশ মানুষ তেমনই একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রত্যাশা করেন। ১৪ শতাংশ মানুষ মনে করছেন- এমনটার প্রয়োজন নেই ও দেশে আর ফিরে আসার সুযোগও নেই। তবে ৪০ শতাংশ মানুষ এ ব্যাপারে নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছেন।

ম্যাঙ্গোর জরিপে আরও দেখা গেছে- সিলেট অঞ্চলে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় মানুষগুলোর মধ্যে ৬০.০৭ শতাংশই নতুন নেতৃত্ব আনার পক্ষে। ২.৫৮ শতাংশ এ ব্যাপারে তাদের নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন আর ৩৭.৩৫ শতাংশ তাদের নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত