প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মায়ের কবরের পাশে শেষ শয্যায় রূপালী গীটারের কিংবদন্তি

এস এম এ কালাম ও এম ইউসুফ রেজা: চট্টগ্রামে মায়ের কবরের পাশে শেষ শয্যায় শায়িত হলেন রূপালী গীটারের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। শনিবার বাদ আসর নগরের স্টেশন রোডের বাইশ মহল্লা চৈতন্য গলির কবরস্থানে মায়ের কবরের বাম পাশে আইয়ুব বাচ্চুকে শায়িত করা হয়। এর আগে চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ মাঠে আইয়ুব বাচ্চুর চতুর্থ ও শেষ নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের খতিব অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ আবু তালেব মোঃ আলাউদ্দিন।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান, পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুছ ছালাম, নগর বিএনপির সভাপতি ডা শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান ও যুবলীগের আহবায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু। জানাজায় আইয়ুব বাচ্চুর পিতা মোহাম্মদ ইছহাকও অংশ নেন।

লাখো ভক্তের অংশগ্রহণে পুরো জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মাঠ ছাড়িয়ে পাশের সড়কেও মুসল্লিরা অবস্থান নেন। আশপাশের বিভিন্ন ভবনের উপরে জড়ো হন নারী ও শিশুরা। বিপুল সংখ্যক মানুষের ঢল সামলাতে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। জানাজা শেষে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বাইশ মহল্ল¬ার কবরস্থানে। সেখানে মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে, শনিবার সকালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ নিয়ে আসা ইউএস বাংলার উড়োজাহাজটি অবতরণ করে। বিমানবন্দরে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ গ্রহণ করেন চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন। আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহের সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী, ছেলেমেয়ে আর স্বজনেরা। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ পূর্ব মাদারবাড়ি আইয়ুব বাচ্চুর নানান বাড়িতে পৌঁছার পর চসিক মেয়র বলেন, আইয়ুব বাচ্চুর নামে চট্টগ্রাম মুসলিম হলের নামকরণের চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন এলাকায় একটি সড়কের নামকরণেরও আশ্বাস দেন তিনি। মেয়র জানান, সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে তারা আইয়ুব বাচ্চুকে নাগরিক সংবর্ধনা দেবেন।

এদিকে, প্রয়াত বাবা আইয়ুব বাচ্চুর জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন ছেলে আনাফ তাজোয়ার আইয়ুব। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা অজানাবশত কোন দোষ করে থাকলে মাফ করে দেবেন। প্রিয় শিল্পীকে শেষবারের মতো দেখতে সকাল থেকেই পূর্ব মাদারবাড়ির নানার বাড়িতে ভিড় জমতে শুরু করে। বেলা যত গড়ায় ভিড় ততো বাড়তে থাকে। দুপুর ১২টার দিকে মরদেহ আনা হলে তিল ধারণেরও ঠাঁই ছিলো না বাচ্চুর নানার বাড়িতে। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চৈতন্যগলি কবরস্থা মায়ের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

অপরদিকে, আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ নগরের পূর্ব মাদারবাড়িতে এসে পৌঁছালে তার মামা মো. আবদুল হালিম বলেন, আইয়ুব বাচ্চুর জন্য সকলের কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়াও চেয়েছেন তিনি।

এদিকে গতকাল শুক্রবার রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে আইয়ুব বাচ্চুর ছেলে আহনাফ তাজওয়ার কানাডা থেকে আর মেয়ে ফাইরুজ সাফরা রাত দেড়টায় অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরেন। এরপর বিমানবন্দর থেকে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। সেখানে হিমঘরে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ রাখা ছিল। এ সময় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার। বাবার মরদেহ দেখে ছেলেমেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

অপরদিকে, গত শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম জানাজা হয়। এর আগে শহীদ মিনারে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আইয়ুব বাচ্চুর প্রতি সর্বসাধারণ শেষ শ্রদ্ধা জানান। শিল্পী, নাট্যকার, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ আইয়ুব বাচ্চুর জানাজায় অংশ নেন। এদিকে প্রথম জানাজা শেষে মগবাজারে কাজী অফিস গলিতে আইয়ুব বাচ্চুর গান তৈরির কারখানা ‘স্টুডিও এবি কিচেন’-এ শেষবারের মতো তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। ঐ দিন বিকেলে মগবাজারের কাজী অফিস গলির মসজিদের সামনে আইয়ুব বাচ্চুর দ্বিতীয় ও তেজগাঁওয়ের চ্যানেল আইয়ের ভবনে তৃতীয় নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালে হিমঘরে রাখা হয়। সেখান থেকে মরদেহ শনিবার চট্টগ্রামে নেয়া হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন আইয়ুব বাচ্চু। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ব্যান্ডের সঙ্গে তাঁর যাত্রা শুরু ১৯৭৮ সালে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে।

সম্পাদনায়: সোহেল রহমান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ