প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘সেন্ট মার্টিন থেকে মঙটাও’
মিয়ানমারের মিথ্যাচার নিশ্চুপ থাকাটা উদ্বেগ জনক

তরিকুল ইসলাম : সেন্টমার্টিনকে মিয়ানমার নিজেদের বলে দাবি করার পর বিষয়টি জানতে পেরে দেশটির রাষ্ট্রদূত উ লুইন ও’কে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়ে একটি কূটনৈতিক চিঠি দিয়েছিলো বাংলাদেশ। সেন্টমার্টিন যে বাংলাদেশের অংশ তার পূঙ্খানুপুঙ্খ প্রমাণ রয়েছে। পাশাপাশি ওই চিঠিতে মিয়ানমারের এমন আপত্তিকর কাজের জবাবও চাওয়া হয়ে ছিলো। ঘটনার ১৩দিন পরেও দেশটির পক্ষ থেকে কেনো জবাব পায়নি বাংলাদেশ।

দেশটির রাষ্ট্রীয় ওয়েবসাইটে সেন্টমার্টিনকে রাখাইনের অর্ন্তভুক্ত করে তথ্য-উপাত্তে পরিবর্তন করেছে তারা। সেখানে সেন্টমার্টিনের নাম বদল করে মিয়ানমার তাদের মানচিত্রে রাখাইনের অন্তর্ভুক্ত দেখিয়ে ‘মঙটাও’ নামে অভিহিত করেছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে নিয়ে মিয়ানমার সরকারের একের পর এক মিথ্যাচার ও সেন্টমার্টিন নিয়ে কূটনৈতিক চিঠির জবাব না দিয়ে দেশটির নিশ্চুপ থাকাটা উদ্বেগ জনক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, নেইপিড’র রাষ্ট্রিয় মিথ্যাচারের উপযুক্ত জবাব ঢাকার পক্ষ থেকে দেওয়ার মতো এখনো কোনো প্ল্যাট ফর্ম নেই। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বাইরে এমন একটি প্ল্যাট ফর্ম তৈরি হতে পারে। সেটি সরকারি এবং সরকারি উভয় পর্যায়েই হতে পারে। তবে বাংলাদেশকে এমন একটা প্ল্যাট ফর্ম এখনই তৈরি করা জরুরি।

এ নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফায়েজ বলেন, মিয়ানমার মিথ্যার আশ্রয় নিলে আমরা তা বন্ধ করতে পারবো না। কিন্তু সেটাকে নিস্ক্রিয় করতে হবে আমাদের। আর এ জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম থাকা উচিত। এটি সরকারিভাবে হতে পারে, আবার বেসরকারি ভাবেও হতে পারে। সরকার সবক্ষেত্রে অনেক কিছু বলতে পারে না। তাই বেসরকারিভাবেও বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে।

প্রতিটি অপপ্রচার ধরে ধরে এর তথ্য উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে জবাব দেবে এই প্ল্যাটফর্ম। আমরা সবসময় তাদেরকে ঘৃণামূলক বক্তব্য পরিহার করে সৌহার্দ্যর কথা বলেছি। কিন্তুতারা অপপ্রচার চালাচ্ছে। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ কোনও ধরনের ঘৃণার বক্তব্য না দিলেও রোহিঙ্গাদের ঠিকই বিতাড়ন করা হয়েছিল। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গার ঢল নামার সময়ও তো বাইরের দেশ ঘৃণামূলক বক্তব্য দেয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে থেকে জানা গেছে, ১৯৩৭ সালের মানচিত্রে সেন্টমার্টিন ভারত উপমাহদেশের অংশ ছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগের পর সেন্টমার্টিন ওই সময়ের পাকিস্তান অংশে ছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সময়েও সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের অংশে ছিল। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ সমুদ্রসীমা বিষয়ক জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল (আইটিএলওএস) বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমুদ্রসীমা বিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তির রায় দেন। ওই রায়েও সেন্টমার্টিনকে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ