প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে

তরিকুল ইসলাম সুমন : দেশে প্রায় ১৬ লাখ অটিজম ও প্রতিবন্ধী রয়েছে। বাংলাদেশে ১৬ থেকে ৩০ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে প্রতি ১০ হাজারে ১৭ জন অটিস্টিক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম (ইপনা) কর্তৃক দেশব্যাপী পরিচালিত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। এসব অটিজম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।

বেসরকারি পর্যায়ে প্রতিটি জেলায় একটি এবং প্রতিবন্ধী শিশুর সংখ্যার ভিত্তিতে উপজেলা পর্যায়েও এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।

বেসরকারি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলোকে শর্ত পুরণ সাপেক্ষে নিবন্ধন দিয়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-কাঠামোর আওতাভুক্ত করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় দুটি নীতিমালাও তৈরি করেছে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, বেসরকারি পর্যায়ে বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং বিদ্যামান প্রতিষ্ঠানগুলো বেতন-কাঠামোর আওতায় ‘নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিজিএ্যাবিলিটিজ সম্পর্কিত সমন্বিত/বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা-২০১৮’ এবং অন্যটি ‘নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিজিএ্যাবিলিটিজ ব্যতিত শিশুর সমন্বিত/বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা-২০১৮’। এর আওতায় শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, শারীরিক প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এবং মানসিক প্রতিবন্ধীদের জন্য বিদ্যালয় করা হবে।

প্রাথমিকভাবে সরকার প্রতিটি জেলায় একটি করে ৬৪টি এনডিডি বিদ্যালয় স্থাপননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অটিজম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের ম‚ল ধরার শিক্ষায় একিভ‚ত করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ প্রথমে আটটি মাহানগরীতে একিভ‚ত শিক্ষার জন্য মডেল বিদ্যালয় নির্বাচন করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে (একিভ‚ত শিক্ষায়) অটিজম শিশুদের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ভর্তি কার্যক্রম চালু করা হবে। এ জন্য শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে বলা হয়েছে, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের বয়স হবে ৩ থেকে ১৮ বছর প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বয়স শিথিলযোগ্য। এনডিডি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মৃদু ও মাঝারি মাত্রার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী যারা বিশেষ ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করলে মূল ধারার প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে ভর্তির উপযোগিতা অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ পাবে। শিক্ষার্থীদের চাহিদা ও আগ্রহের ভিত্তিতে নৃত্য, সঙ্গীত, অংকন, বাদ্যযন্ত্র, খেলাধুলা, সেলাই, সূচিকর্ম, বøক বাটিক, বই বাধাই, ঠোঙ্গা বানানো, মোম বানানো, হাঁস-মুরগী পালন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এছাড়া বেকারি প্রশিক্ষণ, বাগান করা, গৃহস্থালীর কাজ, হাট-বাজার করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

অটিজম বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বয়স ১৮ বছর, প্রয়োজ্য ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য। অটিমজ শিশুদেরও প্রতিবন্ধী শিশুদের মতো আগ্রহ ও চাহিদার ভিত্তিতে বৃত্তিম‚লক প্রশিক্ষণ দেওয়ার এবং ম‚লধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ থাকবে। সেলিব্রাল পালসি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ২ থেকে ৫ বছরের শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যামূলক হতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক ফিজিও থেরাপি, স্পিচ ফিজিও থেরাপি ও অকুপেশনাল ফিজিও থেরাপির ব্যবস্থা থাকতে হবে।

নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন এলকার জন্য ৬ শতাংশ জমি ও ৫০০০ হাজার বর্গফুটের ফ্লাট। জেলা সদরের জন্য ২০ শতাংশ জমি। ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠান হলে ১০ লাখ টাকা এককালীন দিতে হবে প্রতিষ্ঠানের হিসাবে। দাতা সদস্য হতে হলে দুই লাখ। যাদের জমি নেই তাদের দুই বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমি থাকতে হবে। যেসব বিদ্যালয় চালু আছে তাদের নীতিমালা জারির তিন বছরের মধ্যে সব শর্ত প‚রণ করতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ