প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দরকার ন্যূনতম ৪৫ গ্রাম, দেশী আবাদে সংস্থান হয় ১৭ গ্রাম ডাল

মতিনুজ্জামান মিটু : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব মতে সূষম খাদ্য তালিকায় একজন মানুষের জন্য প্রতিদিন ডালের দরকার ন্যূনতম ৪৫ গ্রাম। কিন্তু দেশে উৎপাদিত ডাল থেকে জনপ্রতি প্রতিদিন মাত্র ১৭ গ্রাম ডালের সংস্থান হয়। বাকি ডাল আমদানি করেই মেটাতে হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইং এর তথ্য মতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে মোট ৯লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদন হয়। আর অধিদফতরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইং এর হিসেবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে ডাল জাতীয় ফসল আমদানি করা হয় ১২ লাখ ৭২ হাজার ৩ মেট্রিক টন।

দেশে ডাল জাতীয় ফসলের মধ্যে মসুর, ছোলা, মুগ, মাসকলাই, খেশারি, মটর, অড়হড় ও ফেলনের উৎপাদন হয়ে থাকে। আমদানি করা হয় মশুর ডাল, মুগ ডাল, মাস কলাই, খেশারি, চিকস বা ছোলা, ডানপিচ, ইয়েলোপিচ, গ্রীন পিচ, ফেলন, ইয়েলো মিল্ট পানসি প্রভৃতি ডাল ফসল।

২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে মশুর ডাল ৪১৩৬৯৪.৬৫ মেট্রিক টন, মাসকলাই ৪৩৩.৩৮ মেট্রিক টন, চিকপি বা ছোলা ১৭৭৭৩৬.৫ মেট্রিক টন, ডানপিচ ৩১৪১৯ মেট্রিক টন, ইয়েলোপিচ ৬৪৭৪১১ মেট্রিক টন, গ্রীন পিচ ১০০২ মেট্রিক টন, ফেলন ২২.৮৬২ মেট্রিক টন, ও ২৮৪ মেট্রিক টন ইয়েলো মিল্ট পানসি আমদানি করা হয়।

২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে দেশে ৮ লাখ ৮৬ হাজার হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৬৯ হাজার মেট্রিক টন মশুর, ৭ হাজার মেট্রিক টন ছোলা, ২ লাখ ২৬ হাজার মেট্রিক টন মুগ, ৬৩ হাজার মেট্রিক টন মাসকলাই, ৩ লাখ ৭ হাজার টন খেশারি, ১৩ হাজার টন মটর, ০৫ হাজার টন অড়হড় ও ৫০ হাজার টন ফেলন উৎপাদন হয়।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এর ডাল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. মুহাম্মদ হোসেন বলেন, দেশে ডাল চাষের জমি কমলেও উৎপাদন এবং ফলন বেড়েছে। তবে তা প্রয়োজনের চেয়ে অনেক কম। ঘাটতি মেটাতে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নানা ধরনের ডাল ও ডাল ফসল আমদানি করা হয়ে থাকে।

আনুমানিক হিসেবে দেশে প্রতি বছর ২৫ লাখ মেট্রিক টন ডালের দরকার। দেশে উৎপাদন হয় ১০ লাখ মেট্রিক টন। বাকী ডাল আমদানি করেই মেটাতে হয়। তবে এর মধ্যে আমদানিকারকরা ৭ থেকে ৮ মেট্রিক টন ডাল ও ডাল জাতীয় ফসল আমদানি করে থাকে।

বারি’র ডাল গবেষণা কেন্দ্র থেকে এ যাবত ডালের মোট ৪২টি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের শাসন আমলের ১০ বছরে ১৫টি জাত উদ্ভাবিত হয়। এর মধ্যে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ৬টি ডালের জাত উদ্ভাবন করা হয়। এসব জাত হচ্ছে; বারি ছোলা-১০ ও ১১, বারি মুগ-৯, বারি মটর-৩, বারি মাসকলাই-৪ ও বারি খেসারি ৫।

দেশের মানুষের পুষ্টি স্বল্পতা দূর করতে, মাটির হারানো উর্বরা শক্তি ফিরে পেতে, মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়াতে, সর্বোপরি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে ডালের আবাদ বৃদ্ধি বর্তমান সময়ের অপরিহার্য দাবি। বারি উদ্ভাবিত জাতগুলো উচ্চফলনশীল। যার ফলন স্থানীয় জাতের দ্বিগুণ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ