প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এক বছর পর রোববার বাংলাদেশে আসছে ফাদার মারিনো রিগনের মরদেহ

হুমায়ুন কবির খোকন ও তরিকুল ইসলাম: বাংলাদেশের সম্মানসূচক নাগরিক মুক্তিযোদ্ধা ফাদার মারিনো রিগনের শেষ ইচ্ছা পূরণে তার মরদেহ এক বছর পর রোববার বাংলাদেশে আসছে।রোববার ভোর ৫টায় টার্কিশ এয়ারলাইন্স’র একটি ফ্লাইটে মারিনো রিগনের মরদেহ ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌছাবে। সেখান থেকে সকাল সাড়ে ৮টায় হেলিকপ্টার যোগে ফাদার রিগনের মরদেহ বাগেরহাটের মোংলায় পাঠানো হবে। ফাদার রিগনকে বহন করা হেলিকপ্টার মোংলার শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে অবতরণের পর সকাল সাড়ে ৯টায় ফাদার রিগনের মরদেহ আনা হবে মোংলা উপজেলা পরিষদের মাঠে। সেখানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধুকে সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থাা করা হয়েছে। দুই ঘন্টা উপজেলা পরিষদের মাঠে রাখার পর মরদেহ নেয়া হবে ফাদার রিগনের প্রতিষ্ঠিত সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয় এবং সেন্ট পল্স হাসপাতালে। সবশেষে শেলাবুনিয়ার সেন্ট পল্স গীর্জার সামনে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সেখাইে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ফাদার মারিনো রিগনকে দুপুরে সমাধিস্থ করা হবে।

বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকার পর গতবছর ২০ অক্টোবর ইতালির ভিচেঞ্চায় মারা যান ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ পাওয়া ফাদার মারিনো। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিঃপ্রচার অনুবিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার তার শেষ ইচ্ছার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তার দেহাবশেষ বাংলাদেশের মাটিতে তারই স্থাপিত বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার শেলাবুনিয়া চার্চের পার্শ্বে সমাধিস্থ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। মারিনো রিগন ১৯২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইতালির ভেনিসের কাছে ভিল্টভেরলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ১৯৫৩ সালে তিনি বাংলাদেশে আসেন। দেশের নানা জায়গা ঘুরে মোংলার শেলাবুনিয়া গ্রামে থিতু হন এবং সেখানে চার্চ ও স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল তার অকুণ্ঠ সমর্থন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দিতে নিজের চার্চে তিনি গোপনে একটি চিকিৎসা ক্যাম্প খোলেন। সেই ক্যাম্পে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে অনেক মুক্তিযোদ্ধা ফিরে গেছেন রণাঙ্গনে। মুক্তিযুদ্ধের হেমায়েত বাহিনীর প্রধান হেমায়েত উদ্দিন বীরবিক্রমও তাদের একজন। মুক্তিযুদ্ধে ফাদার মারিনো রিগনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালে তাকে সম্মানস‚চক নাগরিকত্ব দেয়। ২০১২ সালে তাকে দেওয়া হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ