প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আইয়ুব বাচ্চু

মহিব আল হাসান: পারিবাবিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন গিটারের জাদুকর কিংবদন্তি ব্যান্ড শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু।  শনিবার (২০ অক্টোবর ) বাদ আসর ৪টা ৩৭ মিনিটে জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদ মাঠে আইয়ুব বাচ্চুর চতুর্থ জানাজা হয়। নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের খতিব অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ আবু তালেব মো. আলাউদ্দিন। বাইশমহল্লা চৈতন্য গলি কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে আইয়ুব বাচ্চুকে দাফন করা হয়। আইয়ুব বাচ্চুর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয় ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, আইয়ুব বাচ্চুর বাবা মোহাম্মদ ইছহাক, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান, পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, নগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান ও যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু।

এর আগে শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) তিন দফায় জানাজা হয় ঢাকায়। ঢাকায় তিন দফা জানাজা শেষে চট্টগ্রামে চতুর্থ জানাজার পর তার দাফন সম্পূর্ণ হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮অক্টোবর) সকালে মগবাজারের নিজ বাসায় আইয়ুব বাচ্চু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

এর আগে গতকাল শুক্রবার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নেয়া হয় কিংবদন্তি ব্যান্ড শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ। শুক্রবার বাদ জুমআ জাতীয় ঈদগাহে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ নেয়া হয় তার গানের স্টুডিও মগবাজারে ‘এবি কিচেনে’। সেখানে তার দ্বিতীয় জানাজা হয়। এরপর মরদেহ নেওয়া হয় চ্যানেল আই কার্যালয়ে। সেখানে তৃতীয় জানাজা হয়।

বাংলা সঙ্গীতজগতের অন্যতম ধ্রুবতারা আইয়ুব বাচ্চু জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬২ সালের ১৬ অক্টোবর। চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া এই সঙ্গীতশিল্পী ভক্তদের কাছে এবি নামে পরিচিত। তাঁর পারিবারিক ডাকনাম রবিন। তবে মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ১৯৭৮ সালে যোগ দেন ব্যান্ড ফিলিংসে। শহীদ মাহমুদ জঙ্গির ‘হারানো বিকেলের গল্প’ গানে প্রথম কণ্ঠ দেন আইয়ুব বাচ্চু। এরপর ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত জনপ্রিয় ব্যান্ড সোলসে গান গেয়েছেন তিনি।

১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে তাঁর ব্যান্ড ‘লিটল রিভার ব্যান্ডস’, সংক্ষেপে ‘এলআরবি’। পরে অবশ্য নাম পরিবর্তিত হয়: ‘লাভ রানস বøাইন্ড’, সংক্ষিপ্ত রূপ অবশ্য সেই এলআরবি-ই থাকে। এরপর তিনি হয়ে উঠতে থাকেন বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতের এক ইতিহাস। নিয়মিত প্রকাশ পেতে থাকে ‘সুখ’, ‘তবুও’, ‘ঘুমস্ত শহরে’, ‘স্বপ্ন’, ‘আমাদের বিস্ময়’, ‘মন চাইলে মন পাবে’, ‘অচেনা জীবন’, ‘মন আছে নাকি নাই’, স্পর্শের মতো অ্যালবাম। সুখ অ্যালবামের ‘সুখ’, ‘চলো বদলে যাই’, ‘রুপালি গিটার’, ‘গতকাল রাতে’।

‘চলো বদলে যাই’ বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে অন্যতম জনপ্রিয় একটি গান। গানটির কথা লিখেছেন ও সুর করেছেন বাচ্চু নিজেই। ২০১২ সালে ব্যান্ডটির সর্বশেষ অ্যালবাম ‘যুদ্ধ’ বের হয়েছে। ব্যান্ডটির একমাত্র লাইভ অ্যালবাম ‘ফেরারী মন’ ১৯৯৬ সালে মুক্তি পায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত