প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মানববন্ধনে গৌরব '৭১
৭ দিনের মধ্যে মইনুলকে গ্রেফতারের দাবি, নইলে বাড়ি ঘেরাও

সাব্বির আহমেদ : নারী সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করায় তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সংগঠন গৌরব’ ৭১। এ দাবি না মানলে ব্যারিস্টার মইনুলের বাড়ি ঘেরাওয়ের হুমকি দিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় যাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ ঘোষণা দেন সংগঠনের নেতারা। তারা বলেন, সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে কটাক্ষ করার দায়ে মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করতে হবে। সাত দিনের মধ্যে তাকে গ্রেফতার না করা হলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল সংগঠনেরা মইনুলের বাসভবন ঘেরাও করবে।

এক ঘন্টাব্যাপী ওই মানববন্ধনের পর স্বল্প সময়ে জন্য বিক্ষোভ প্রদর্শন করে গৌরব ‘৭১। পরে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। এসময় অনেকেই তার কুশপুত্তলিতে জুতাপেটা করেন।

মানববন্ধনে নারী বক্তারা বলেন, সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে প্রকাশ্যে চরিত্রহীন বলা মানে গোটা নারী জাতিকে চরিত্রহীন বলা। গোটা নারী জাতিকে অপমান করা হয়েছে। এর অপরাধে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। মাসুদা ভাট্টির কাছে নয় পুরো জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ১/১১- এর কুশীলব আখ্যা দিয়ে বক্তারা বলেন, উনি তথাকথিত বুদ্ধিজীবী ও জ্ঞানপাপী। সাংবাদিক মানিক মিয়ার কুলঙ্গার সন্তান। তাকে রাজনীতি থেকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধা বিচ্ছু জামাল বলেন, ‘ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন আপনি নিজের চরিত্র সংশোধন করুন। যতো ঐক্যফ্রন্ট করুন, মুক্তিযোদ্ধারা আপনাকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে। জুতাপেটা খাওয়ার আগে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। আপনাকে সময় বেধে দেওয়া হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের নামে আপনি জামায়াতে ইসলামীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন’।

নারী নেত্রী কুলেহী কুদ্দুস মুক্তি বলেন, আমরা দেখেছি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন জামায়াতের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে। ওই অনুষ্ঠান তার কি অবস্থান ছিল- আমরা জানি। মাসুদা ভাট্টি এ মর্মেই তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে শাহবাগে আনতে হবে। বিচার করতে হবে, নইলে সরকারের সকল অর্জন ম্লান হয়ে যাবে।

মানববন্ধনের শেষে কবি অসীম সাহা মইনুল হোসেনকে ব্যাঙ্গাত্মক কবিতা আবৃত্তি করেন। যা মানববন্ধনকে হাস্যরসাত্মক করে তোলে। বিক্ষোভ শেষে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেন যুব সমিতির কয়েকশ তরুণ প্রজন্ম।তারাও ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে জামায়াতে ইসলামীর এজেন্ট আখ্যা দিয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

শাহবাগের ওই মানববন্ধনে সবুজ, হলুদ ও সাদা রঙ্গের টুপি পড়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। টুপিতে লিখা ছিল, মুইনুলের বিচার চাই। তারা ব্যারিস্টার মইনুলের বিচার চেয়ে স্লোগান দেন, ‘ একাত্তরের দালালেরা হুশিয়ার, সাবধান। ১/১১-এর দালালেরা হুশিয়ার সাবধান’।

সম্প্রতি বেসরকারি এক টেলিভিশনের কানেক্টেভিটি লাইভে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহীণ বলেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। এরপর থেকে সাংবাদিক মহলে নানা ধরনের ক্ষোভ দেখা দেয়।