প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বদলে গেছে বানারীপাড়া ও উজিরপুরের গ্রামীণ জনপদ

রাহাদ সুমন,বানারীপাড়া : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনারবাংলা ও তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশ জুড়ে চলমান উন্নয়ন ও অগ্রগতির মহা কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবে গত প্রায় ১০ বছর ধরে বরিশালের বানারীপাড়া ও উজিরপুরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয়েছে।

উন্নয়নের ছোঁয়ায় গ্রামীণ জনপদ এখন প্রায় শহুরে জনপদে রূপ নিয়েছে। ফলে সরকারের উন্নয়নের জয়গান এলাকাবাসীর মুখে মুখে। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় লাভ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বরিশাল -২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মনিরুল ইসলাম মনি উন্নয়নের মহা পরিকল্পনা তৈরি করে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু করেন।

যার সিংহভাগ কাজ তার মেয়াদে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বাকি কাজগুলো অব্যহত আছে। উজিরপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করে অবহেলিত এ বন্দর এলাকায় ব্যপক উন্নয়নের মাধ্যমে পৌরসভার সৌন্দর্য্য বর্ধন করা হয়েছে। বানারীপাড়া পৌরসভায় প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতল পৌর ভবন নির্মাণ, সন্ধ্যা নদীর তীরে বাঁধের আদলে ব্রিজসহ বৃহৎ আকারের রাস্তা ও ওয়াটার সাপ্লাই’র কাজ শুরু করা, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ, গোরস্থান ও শ্মশান ঘাট, দলীয় কার্যালয় ও প্রেসক্লাব ভবন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ এবং রাস্তা-ঘাট, ড্রেন, ব্রিজ-কালভার্ট ইত্যাদি নির্মাণ করা হয়েছে। ৫ কোটি টাকার অধিক ব্যয়ে বানারীপাড়া উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের আধুনিক বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বানারীপাড়ার লবণসাড়া গ্রামে ১০ শয্যা বিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফা প্রয়াত মুন্সী সরোয়ার হোসেনের নামে নির্মাণ করার পাশাপাশি প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে।লবণসাড়া শিশু হাসপাতালের ওই সম্পত্তি প্রধানমন্ত্রীর ফুফু আলিমা সরোয়ার দান করেন।

বানারীপাড়া ও উজিরপুরসহ পাশ্ববর্তী জেলা ও উপজেলার মানুষ যাতে অতি সহজে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধীসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যেতে পারেন, সেজন্য সংসদ সদস্য মোঃ মনিরুল ইসলাম মনি জাইকা প্রকল্পের মাধ্যমে কয়েক শত কোটি টাকা ব্যয়ে বানারীপাড়ার সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ের বাইশারী ইউনিয়নের শিয়ালকাঠি থেকে দূর্গম ইউনিয়ন বিশারকান্দি পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার পাকা সড়ক ও ৯৮ টি ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করেন।

এছাড়া উজিরপুর শহর থেকে ধামুড়া-হারতা-সাতলা-কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া সড়ক পাকাকরণ ও অসংখ্য ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতলা নদীতে ১২০ কোটি ও হারতা নদীতে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহৎ আকারের ব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বানারীপাড়ার বিশারকান্দি ইউনিয়নের চৌমোহনা বাজার সংলগ্ন নদীতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণ কাজ চলছে। ওই ব্রিজ নির্মাণের ফলে বরিশালের উজিরপুর-আগৈলঝাড়া,পিরোজপুরের নাজিরপুর,গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ার সঙ্গে বানারীপাড়ার সেতুবন্ধন সৃষ্টি হবে। এছাড়াও বানারীপাড়া ও উজিরপুরে শতাধিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা এবং কলেজে বহুতল ভবনও সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হয়েছে এবং বেশ কিছু ভবনের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এ দুই উপজেলায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ পাকা সড়ক পুনর্নিমাণ ও সংস্কার কাজ করা হয়েছে।

বিশারকান্দিতে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন এবং চাখারে শের-এ-বাংলার নামে হাইটেক পার্কের সম্ভাব্যতা যাচাই ও স্থান নির্ধারণের প্রাথমিক কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, চার্চ, প্যাগোডা, ক্লাবসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এ দু’উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা হয়েছে ।

বরিশালের এ দুই উপজেলায় যে পরিমাণ দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়েছে তা অনেক প্রভাবশালী নেতা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের এলাকায়ও হয়নি। ফলে সংসদ সদস্য না থাকার পরেও উন্নয়নের রূপকার হিসেবে তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ মনিরুল ইসলাম মনি ও আওয়ামী লীগ সরকারের নজরকাড়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুনাম এখন মানুষের মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত