প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘শ্রমিকের অধিকার হরণ বন্ধে সরকারকে বাধ্য করবো’

ফাহিম ফয়সাল: শ্রমজীবী ও শিল্প রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক শ্রমিক নেতা মনজুরুল আহসান খান বলেছেন, সরকারের লুটেরা মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় শ্রমিকদের বিদ্যমান অধিকারগুলো দিকে নজর দিচ্ছে না। এর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শ্রমজীবী ও শিল্প রক্ষা আন্দোলন গঠিত হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে হবে। আমরা আন্দোলন করে শ্রমিকের অধিকার হরণ বন্ধে সরকারকে বাধ্য করব।

শনিবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দেশের প্রগতিশীল ও শোষণ মুক্তির সংগ্রামে নিয়োজিত ট্রেডইউনিয়ন সমূহের জাতীয় মঞ্চ শ্রমজীবী ও শিল্প রক্ষা আন্দোলনের আয়োজনে সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মনজুর বলেন, দেশের ৮০ ভাগ শ্রমজীবী মানুষ জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। স্বাধীনতা ও শোষণ মুক্তির জন্য সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করেছে। কিন্তু বিগত ৪৭ বছরে দেশে এক শ্রেণীর মানুষ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হলেও শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যে বদলায়নি। লুটেরাগোষ্ঠীদের ক্রমশ আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার বলি হয়েছে শ্রমজীবি মানুষেরা।

তিনি বলেন, দেশের শ্রমজীবি মেহনতী মানুষ আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশীয় শিল্প কৃষি সার্ভিস সেক্টর অর্থনীতি আজ নানা সংকটের মুখে এই সংকট মোকাবেলায় শ্রমিক আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করলেই নেমে আসে দমন-পীড়ন। বাংলাদেশের শ্রমিক নেতৃত্বের অধিকাংশই আজ আপোষমুখি ও ধনীক শ্রেণীর পকেটস্থ। স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে গড়ে ওঠা শ্রমিক আন্দোলন আজ সুবিধাবাদীদের নেতৃত্বে দিশেহারা। শ্রমিকদের যে সব অধিকার এবং সুযোগ সুবিধা আছে সেগুলি থেকে শ্রমিকরা আজ বঞ্চিত। ৮ ঘণ্টা কাজ, বিশ্রাম, সাপ্তাহিক অন্যান্য ছুটি, চাকরির নিরাপত্তা, কর্মস্থলের নিরাপত্তা, দেশের সরকারি কর্মচারীরা দুই ঈদে বোনাস পেলেও শ্রমিকরা তা থেকে বঞ্চিত।

সমাবেশ থেকে নেতারা বলেন, শ্রমিক স্বার্থবিরোধী সকল আইন কানুন বাতিল করতে হবে। শ্রমিকদের স্বার্থে আইএলও কনভেনশন বাস্তবায়ন, ১৬ হাজার টাকা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ এবং গণতন্ত্র কায়েম এর দাবি জানানো হয়।

তারা আরো বলেন, একই সাথে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি কমিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত বন্ধ করে মজুরি বোর্ড প্রস্তাবিত হার বাতিল এবং ১৬ হাজার টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণাসহ অবিলম্বে গ্রামীনফোনে চলমান কর্মী ছাঁটাই প্রকল্প সিডিসি বাতিল এবং সার্ভিস সেক্টরে কর্মীদের নিশ্চিয়তা বিধান নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, শ্রমিজীবী ও শিল্প রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব হারুন-অর রশীদ ভূঁইয়া, শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেম হোসেন, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি আব্দুল কাদের হাওলাদার, বাদল, অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ, সুবল সরকার, মহাতাব উদ্দিন, হযরত আলী প্রমুখ।

সর্বাধিক পঠিত