প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শীঘ্রই তীরে তরী ভেড়াবে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক: আগের সাথে এখনকার তুলনায় করলে বলব, তারা অনেক বেশি বদলে গেছে। এখন তাদের ভেতর অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস রয়েছে, মানসিক দিক থেকেও অনেক শক্ত হয়েছে তারা। কিন্তু আমরা এখন এটাকে খুব ক্লোজ মার্জিনে এসে ধরে রাখতে পারি না।’ এর মূল কারণ নিয়মিত অনুশীলনের অভাব, মনে করছেন দায়িত্ব পাওয়া মনোবিদ। জানিয়েছেন, দলের ক্রিকেটাররা সকলেই জানেন তাদের দুর্বলতা। অর্থাৎ প্রথম ধাপ নিজেদের আয়ত্তে এনেছে তারা।

কিন্তু এই দুর্বলতাকে শক্তিতে পরিণত করতে হলে পরের ধাপে যেতে হবে ক্রিকেটারদের। নিয়মিত স্কিল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমেই এই গুণ নিজেদের মধ্যে আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। ‘আসলে এই পর্যায়ে আসাও অনেক কোয়ালিটির ব্যাপার। আমাদের সুপ্ত প্রতিভাকে আরও বেশি বিকশিত করার চেষ্টা করতে হবে, যাতে আমরা সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে সবকিছু মেন্টেইন করতে পারি, অবশ্যই এটা একটা স্কিল। এটা অর্জন করার জন্য প্র্যাকটিস করতে হবে। আমরা যখন স্কিল ট্রেনিং করব প্রতিদিন, তখন এই মেন্টাল মাসল গুলো ডেভলপ হবে। এখন পর্যন্ত এটাই আমার মনে হয়েছে। এখন আমাদের পরের ধাপে যেতে হবে।’

তবে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের উপর আস্থা আছে এই মনোবিদের। জানিয়েছেন তীরে এসে তরী ডুবানোর এই সংস্কৃতি থেকে প্রতিদিনই বের হয়ে আসছে তাঁরা। শীগ্রই তীরে তরী ভেড়াতে সক্ষম হবে অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ এ দলটি, বিশ্বাস করছেন আলি আজহার। ‘হ্যাঁ, সম্ভব। আমরা সব দেশকেই হারাচ্ছি, সেই অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। এই বিশ্বাসটা যখন আরও শক্ত হবে, তখন ধারাবাহিকতা আরও বাড়বে।’

কিন্তু কখনও শেষটা ভাল না হওয়ার আক্ষেপ এবং ভাল করার প্রত্যাশা দুই মিলিয়েই ভেঙ্গে পড়ছে তাঁরা। যদি মানসিক এই চাপের পরিচর্যা করা যায় তাহলে শেষটাও ভাল হবে টাইগারদের, বিশ্বাস করেন আলি আজহার। ‘আমরা টুর্নামেন্ট গুলোতে যখন কাছাকাছি চলে আসি, তখন কিন্তু প্রত্যাশার চাপ অনেক বেড়ে যায়। তখন এই মেন্টাল টাফনেস, মেন্টাল মাসল গুলো স্টং না হলে আমরা সেটাকে মেন্টেইন করতে পারি না। যদি আমরা ওই মেন্টার মাসলটা ডেভলপ করি, তাহলে এটা সম্ভব।’

ক্রিকেটারদের মানসিক শক্তি বাড়াতে অনেক দিক থেকেই কাজ করতে হবে। ফিজিক্যাল ফিটনেস থেকে শুরু করে স্ট্রেন্থ, স্পিড সবদিকেই পরিণত হবে। আর এই সব আয়ত্তে আনতে পারলেই মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন মাশরাফিদের এই মনোবিদ। ‘ফর্মুলা তো আমরা দুই দিন ধরে অনেক আলোচনা করে আসছি। একটি-দুটি ফর্মুলা না। আপনি যদি সবগুলোকে এক করেন, তাহলে সেটা হয় মেন্টাল ফিটনেস। মেন্টাল ফিটনেস অর্জন করার জন্য ফিজিক্যাল ফিটনেস একটা কয়ানটেটি নয়। এখানে স্ট্রেন্থ, স্পিড আছে। মেন্টাল ফিটনেসের অনেক গুলো জিনিস আছে, ইংগ্রিডিয়েন্স আছে। যেগুলোর কম্বিনেশন করলে মেন্টাল ফিটনেস অর্জন করা সম্ভব হয়।’

মূলত মানসিক দক্ষতার অনুশীলনের অভাবেই শেষটা ভাল করতে পারছে না টাইগাররা। মনোবিদ জানিয়েছেন, বডি লেঙ্গুইজ, সেলফ টকের মতো কয়েকটি বিষয়ে নিজেদের আওতায় আনতে পারলেই মানসিক ভীতিটা কমে যাবে, আর তখনই সাফল্য আসবে। ‘এখানে হয় কি, টুলস গুলোর প্রপার প্র্যাকটিস হয়নি। তিন-চারটা ব্যাপারে আমি জোর দিয়েছি। আমরা যদি এইসব নিজেদের সাইকলজিতে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে আমরা খেয়াল না করলেও এইগুলো কাজে লাগাতে পারব।’

ক্রিকেটাররা এসব সেশনে অনেক বেশি আগ্রহী বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মনোবিদ আজহার। কিন্তু এখানেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, নিয়মিত মানসিকতার অনুশীলনও করতে হবে। আর এ জন্য ফিটনেস ট্রেনিংয়ের মতো মানসিক শক্তি বৃদ্ধির অনুশীলন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ‘যখন এই রকম সেশন হয়, সবাই খুবই ইন্সপায়ারেশন খুঁজে পাই। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেটা হারিয়ে যায়। সেজন্য আমরা কি করি, আমাদের ফিটনেস ট্রেনারের কাজ কি, শুধু মাত্র নতুন নতুন ফিটনেস ট্রেনিং শেখানো নয়, নিয়মিত যেন রুটিনটা মেন্টেইন করা যায়, সেই জন্য। সাইকোলজিও একই রকম, সবার জন্যই এটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই পুরোপুরি না হলেও এমন সেশন আরও হওয়া উচিত।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ