প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সবাই তো বড় হতে চায়!

বিভুরঞ্জন সরকার : সবাই বড় হতে চায়। কেউ ছোট হতে চায় না। বড় হতে চায় কিন্তু বুড়ো হতে চায় না। বড় পদ-পদবি পেলে মানুষ খুশি হয়। তাতে আয় বাড়ে। বয়স বাড়লে মন খারাপ হয়। কারণ তখন শেষের সেই দিনের অপেক্ষা করতে হয়।

এই ভূমিকাটুকু করতে হলো, কারণ একজন পাঠক জানতে চেয়েছেন, মাহমুদুর রহমান মান্না ছোট দলের নেতা বলে কি তার বড় কিছু হওয়ার সাধ জাগতে পারে না? ছোট দলের বড় নেতা কি আমাদের দেশে আর কেউ ছিলেন না? তারা কি রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেননি?

ছোট দলের বড় নেতা আমাদের দেশে আগেও ছিলেন। ছোট দলের নেতা হয়েও তারা তারকা রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। অনেক নাম উল্লেখ করা যায়। কিন্তু আলোচনা দীর্ঘ না করার জন্য দুটো নাম এখানে তুলে ধরছি। মণি সিংহ এবং মোহাম্মদ ফরহাদ। দুই জনেই ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির নেতা। দুই প্রজন্মের এই দুই কমিউনিস্ট নেতা প্রকৃত অর্থেই ছিলেন ছোট দলের সত্যিকার ‘বড়’ নেতা।

কমিউনিস্ট পার্টি কখনও আমাদের এখানে তথাকথিত জনপ্রিয় বড় দল ছিল না, তেমন গণভিত্তিসম্পন্ন পার্টিও ছিল না। মণি সিংহ এবং মোহাম্মদ ফরহাদ ছিলেন প্রকৃতপক্ষেই ছিলেন অনেক বড় মাপের নেতা। অবশ্য যোগ্য নেতৃত্ব এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ মিলিয়ে এই দুই নেতার হাত ধরে কমিউনিস্ট পার্টি জনপ্রিয় এবং গণভিত্তিসম্পন্ন পার্টিতে পরিণত হচ্ছিলো। জাতীয় সংসদেও কমিউনিস্টদের প্রতিনিধিত্ব ছিল।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় কমিউনিস্ট পার্টি পরিণত হয়েছিলো আন্দোলন পরিচালনার ভরকেন্দ্রে। মোহাম্মদ ফরহাদ পালন করেছিলেন প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা। তাকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়েছে আন্দোলন। তার প্রতি বড়ো দলের নেতাদেরও আস্থা-বিশ্বাস ছিলো অটল। এই অবস্থাটা তিনি তৈরি করেছিলেন। তিনি জাতীয় নেতা হয়েছিলেন নিজের যোগ্যতাবলেই।

কমিউনিস্ট পার্টি বছরের পর বছর যে প্রতিকূল ও বৈরী পরিবেশে কাজ করেছে, তা এক কথায় অকল্পনীয়। জেল-জুলুম-হুলিয়া ছিল নিত্যসঙ্গী। কমিউনিস্টরা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন মানুষের মুক্তির সংগ্রামে। তাদের জীবন নিবেদিত ছিলো মানবকল্যাণে। কমিউনিস্ট নেতাদের ত্যাগের কথা এখন গল্পের মতো শোনালেও তা একবিন্দু অসত্য নয়। তাই মণি সিংহ এবং মোহাম্মদ ফরহাদের পক্ষে জাতীয় রাজনীতিতে বড়ো ভূমিকা পালন সম্ভব হয়েছে। দল হিসেবে কমিউমিস্ট পার্টিকে যিনি সমর্থন করেন না, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে মণি সিংহ এবং মোহাম্মদ ফরহাদ তারও মান্যতা পেয়েছেন।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মা. র. মান্না তেমন নেতা হয়ে উঠতে পারেননি। তার সম্ভাবনা ছিলো। কিন্তু সে সম্ভাবনা তিনি নিজেই ডিগবাজির রাজনীতি করে ধ্বংস করে দিয়েছেন। একসময় আদর্শের রাজনীতি, সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে থাকলেও বারবার তিনি লক্ষ্য ও পথ পরিবর্তন করেছেন। আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগ দিয়ে শুরু করে জাসদ-বাসদের চরম আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনীতিও করেছেন। আবার আওয়ামী লীগও করেছেন। শেখ হাসিনার বন্দনাও কম করেননি। এখন পরিণত হয়েছেন চরম হাসিনাবিদ্বেষীতে। এক ধরনের প্রতিহিংসাপরায়ণতা তার মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের অনেকেই যখন বাংলাদেশের মতো হতে চাইছে, তখনও মান্না প্রশংসা করেন পাকিস্তানের!

আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার যে মিশন নিয়ে তিনি আওয়ামী লীগবিরোধী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছেন, তার সাফল্যের সম্ভাবনা কম এই কারণে যে; যারা এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় আছেন, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। তাদের মনের উদারতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। কেউ আওয়ামী লীগের বি-টিম হলে যদি নিন্দনীয় হয় তাহলে বিএনপির বি-টিম প্রশংসিত হবে কেন?

বড় হওয়ার আকাঙ্খা সবারই থাকে। সবাই কি হতে পারে? গ্রামাঞ্চলে একটি কথা চালু আছে : নিমন্ত্রণ বাড়িতে গিয়ে বড়ো পাত পাতলেই খাবার বেশি পাওয়া যায় না। দেনেওয়ালা অর্থাৎ পরিবেশনকারীর বরাদ্দ আছে।

মান্না সাহেবরা বড়ো থালা নিয়ে মানুষের কাছে হাজির হচ্ছেন। দেখা যাক মানুষ তাদের কতটুকু কী দেন। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ