প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপির অবশিষ্ট সংস্কারপন্থীদের দলে ফেরা এখন সময়ের ব্যাপার

শাহানুজ্জামান টিটু : বিএনপির অবশিষ্ট সংস্থারপন্থীদের দলে ফেরা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ওয়ান ইলেভেন বিদায় নেওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের নীতি ও আর্দশ ভেঙে তথাকথিত সংস্কারের চিন্তা করেছিলেন তাদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেন।

ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ তাদের দলের সংস্কারপন্থীদের ক্ষমা করলেও খালেদা জিয়া ক্ষমা করেননি। পরবর্তীতে দলের নেতাদের মধ্যে অনেকের অনুরোধ, চেষ্টা, দেন-দরবার ও তদবিরের পর খালেদা জিয়া সংস্কারপন্থীদের বিষয়ে নমনীয় হন।

এসময় দলের পক্ষ থেকে যাদেরকে গ্রীন সিগন্যাল দেয়া হয় তারাই কেবল ফেরেন দলে। দলের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন। আর যারা এখনো দলের বাইরে রয়েছেন তাদের বিষয়ে নীরব থাকলেও এসব সংস্কারপন্থীদের কর্মকাণ্ড কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখে বিএনপি। দীর্ঘ সময়েও সংস্কারপন্থীরা এক প্লাটফর্মে অবস্থান করে। তারা অন্য কোনো দলেও যাননি বা যাবেন না, এমনকি তারা দল বিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়নি। এরমাধ্যমে প্রমাণ করেছেন সময়ের পরীক্ষায় তারা উর্ত্তীণ। এদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আকতারুজ্জামান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দল থেকে বহিস্কার হওয়ারপরও তিনি অন্য কোনো দলে যাননি। তিনি দলের জন্য কাজ করেছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে তিনি দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন এবং খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে মনোনয়ন বোর্ডে সাক্ষাতকারও দেন। এছাড়া ছাত্রদলের এক সময়ের সভাপতি সানাউল হক নিরুও দলে ফিরতে চান। দলীয় কর্মকা-েও অংশ নিতে চান।

কবে সংস্কারন্থীরা দলের ফিরতে পারবেন এ প্রশ্নের জবাবে নির্দিষ্ট করে তারিখ না বলতে পারলেও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী বলেন, সংস্কারপন্থীদেরকে শিগগিরই দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে তাদের বিষয়ে দলীয় ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন একটু অপেক্ষা। ম্যাডাম কারাগারে যাওয়ার আগে সংস্কারপন্থীদের অতীতের ভুল ক্ষমা করে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন।

দলীয় সূত্র জানায়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও সংস্কারপন্থীদের যারা দলে ফিরতে চান তাদেরকে দলে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ব্যাপারে ইতিবাচক। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, জাতির এই ক্রান্তিকালে তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হলে দলের সাংগঠনিক অবস্থা আরো ভালো হবে। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচনের দাবিতে যে আন্দোলন চলছে, এসব নেতাদের অংশগ্রহণে তা আরো গতি ফিরে পাবে। দেশ এখন দুঃশাসনের কবলে। এই মূর্হুতে সব দ্বন্দ্ব বিভেদ ভুলে সকলকে এক প্লাটর্ফমে এনে এই দুঃশাসনের কবল থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্তির আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেওয়া।

দলে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) জেড এ খান, সাবেক সচিব-রাষ্ট্রদূত এ এইচ এম মোফাজ্জল করিম, সাবেক হুইপ সৈয়দ শহীদুল হক জামাল, সাবেক হুইপ রেজাউল বারী ডিনা, বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি, সাবেক সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিঙ্কন, চাঁদপুর জেলার সাবেক সভাপতি এস এ সুলতান টিটু ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হায়দার খান, সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শহিদুজ্জামান, বগুড়ার সাবেক দুই সংসদ সদস্য ডা. জিয়াউল হক মোল্লা ও জি এম সিরাজ, সাবেক সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন, ঝালকাঠি-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো প্রমুখ। তবে সংস্কারপন্থীদের মধ্যে একমাত্র দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আশরাফ হোসেনকে দলে নেওয়া হবে না।

এছাড়া এ তালিকায় রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সানাউল হক নীরু, পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেয়র কামরুল হাসান মিন্টু, চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ এম এ হান্নান, ঢাকা মহানগর জাসাস দক্ষিণের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদার প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ