প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কৃষিপণ্য রপ্তানিতে শতভাগ প্রবৃদ্ধি

ফয়সাল মেহেদী: কৃষি প্রধান দেশ বাংলাদেশ। এ দেশের কৃষিপণ্যের সুনাম রয়েছে বিশ্বজুড়ে। বিদেশে চাহিদা বাড়ায় কৃষিপণ্যের রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধিও হয়েছে প্রায় শতভাগ। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) কৃষিপণ্য রপ্তানি করে ২৯ কোটি ১৮ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে বাংলাদেশ। এর আগের বছরের তুলনায় যা সোয়া ৯৭ শতাংশেরও বেশি। আলোচ্য সময়ের জন্য কৃষিপণ্য রপ্তানিতে যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো তার বিপরীতে আয় হয়েছে সাড়ে ৭১ শতাংশেরও বেশি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, চা, শাকসবজি, তামাকজাত পণ্য, ফুল এবং পর্ণরাজি, ফল, মশলাজাতীয় পণ্য, শুকনো খাবার এবং অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়। বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে বিশ্বের ১২১টি দেশে কৃষিপণ্য রপ্তানি হচ্ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৬৭ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়। এদিকে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কৃষিপণ্য থেকে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার।

এর মধ্যে প্রথম তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৭ কোটি ৯০ হাজার ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ২৯ কোটি ১৮ লাখ ২০ হাজার ডলারের কৃষিপণ্য, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭১ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৯৭ দশমিক ৩১ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে ১৪ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়েছিল।

এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শিদী বলেন, সরকারের সুদৃষ্টির কারণে কৃষিপণ্যের রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এ খাতের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এবং প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা দিলে কৃষিপণ্যের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কৃষিপণ্যের খাতওয়ারি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে শাকসবজিতে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৮৪ লাখ ২০ হাজার ডলার। বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছে ২ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় শাকসবজি রপ্তানিতে আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ১ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে তামাকজাত পণ্যে রপ্তানি আয় হয়েছে ২ কোটি ৯৮ লাখ ১০ হাজার ডলার। শতকরা হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে তামাকজাত পণ্যে ১০৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে।

এদিকে আলোচ্য সময়ে শুকনো খাবার রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৫ কোটি ১৭ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম। তবে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আয় বেড়েছে ৫২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। একই সময়ে চা রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে যা ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অন্যান্য কৃষিজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ১৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৭ কোটি ৮৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৭১ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে প্রক্রিয়াজাতকৃত ফুল এবং পর্ণরাজি থেকে আয় বেড়েছে হাজার শতাংশের ওপরে। অন্যদিকে ফল এবং মশলাজাতীয় কৃষিপণ্যের রপ্তানি আয় উভয় ক্ষেত্রেই কমেছে।

ইপিবি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আয় হয় ৫৩ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ আয় বেড়ে হয় ৬১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আবার রপ্তানি আয় কমে হয় ৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আয় হয় ৫৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আয় হয় ৫৫ কোটি ৩১ লাখ ডলার। আর সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ আয় বেড়ে হয় ৬৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ