প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিগগিরই রাজপথে নামছে ঐক্যফ্রন্ট

সাব্বির আহমেদ : দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে রাজপথের বিকল্প দেখেছে না জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সরকারের অবস্থার পরিবর্তন হবে না ধরে নিয়ে শিগগিরই রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নামছে সরকারবিরোধী নতুন রাজনৈতিক জোট ঐক্যফ্রন্ট। তবে সপ্তাহখানেক ওই দাবিতে সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে চায় ঐক্যফ্রন্ট। সরকারকে স্বল্প সময়ের আল্টিমেটাম দিয়ে ঘোষণা করা হবে নতুন কর্মসূচি। আর এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক কাজ করবে বিএনপি।

শুক্রবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কয়েকজন শীর্ষনেতা এই প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নেতারা বলেছেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিই সরকারের বাধা শুরু হয়ে গেছে। সিলেট সমাবেশ যার উদাহরণ। সমাবেশে অনুমতি না পাওয়ায় ভিন্ন পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। যার বিকল্প রাজপথ। সরকারে রাজপথে নামতে বাধ্য করছে। সরকারের আচরণ বলে আন্দোলন ধরন কি হবে। স্বল্পমেয়াদী না ধারাবাহিক হবে! জোটের সাত দফা দাবিতে দেশের সকল বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করতে চাইবে ঐক্যফ্রন্ট। অনুমতি না পেলেও জনগণের কাছে যাওয়ার চেষ্টা থাকবে। পাশাপাশি জেলায় জেলায় লিফলেট বিলি করা হবে।

জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে রোডমার্চ ও সমাবেশের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও আগামী সপ্তাহে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি দফায় দফায় চলা বৈঠকে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের ওপর চাপ তৈরির কর্মকৌশল চূড়ান্ত করবেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। যার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সদ্য গঠিত লিয়াজোঁ কমিটিকে। তারাই সকল বিষয়ের সমন্বয় করবেন

অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কলেবর আরো বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ জোটের নেতাদের। কিন্তু জোট থেকে শেষ মুহূর্তে ছিটকে পড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদোজ্জা চৌধুরীর আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন। ২০ দলীয় জোটের আরো বেশ কয়েকটি দল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়ার কথা শুনা যাচ্ছে। বামঘরানার কিছু দলকেও ফ্রন্টে ভেড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে।

ঐক্যফ্রন্টের এক নেতা বলেন, বিকল্পধারাকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্তটা ছিল খুবই দূরদর্শী। কারণ বি চৌধুরী ও তার পুত্র মাহি বি চৌধুরী পুরো প্রক্রিয়াটাকে ভিন্ন খাতে ব্যবহার করতে চেয়েছেন। তাদের উদ্দেশ্য শুভ ছিল না।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘অনুমতি চাচ্ছি, পাচ্ছি না। কিন্তু আমরা সমাবেশ স্থলে যাব। সেখানের পরিবেশ বলে দেবে আমরা কি কর উচিত। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির বিকল্প ভাবতে সরকার আমাদের বাধ্য করছে।

অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমরা কোনও ধ্বংসাত্মক কর্মসূচিতে যাব না। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করব। জনগণ বলে দেবে কি করতে হবে’।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা আ ব ম মোস্তফা আমিন বলেন, ‘আমাদের প্রতিনিয়ত বৈঠক চলছে। সেখানে সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। আমরা সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে জনগণের নিকট যাব। আমাদের লক্ষ্যগুলো তুলে ধরব। মূল বিষয়, সকলেই দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন চান’।

ঐক্যফ্রন্টের মধ্যম সারির নেতারা বলছেন জোটগঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। যে সাতটি দাবি আদায়ে একমত হয়ে জোট গঠন হয়েছে, তা চূড়ান্ত সফলতার দিকে নিয়ে যাওয়াই এখন মূল লক্ষ্য। কোনো দল বা ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে তারা সমন্বিত কৌশলে এগোতে হবে।

সূত্র জানায়, জোটের যেকোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে ফ্রন্টভুক্ত দলগুলোর যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে। এ ক্ষেত্রে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। সকল বিষয়ে পরামর্শ দেবেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্রের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন প্রাথমিকভাবে জনদুর্ভোগ এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে থাকতে চাচ্ছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত রেখেই কঠোর আন্দোলন কর্মসূচিতে যাবে তারা। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই রাজপথের আন্দোলন জোরদার করবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ