প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মানুষ কি ডায়াবেটিস বা শারীরিক সমস্যা হলেই হাঁটবে?

কামরুল হাসান মামুন : প্রতিদিন সন্ধ্যায় হাটতে যাই। গতকাল সন্ধ্যায় বিয়াংকাকে সাথে নিয়ে গিয়েছিলাম। ও আমার সাথে তিন রাউন্ড দিয়ে বলছে, একটু ক্লান্ত লাগছে তাই এত দ্রুত হাটতে পারবে না। ওকে আস্তে হাটতে বলে আমি আমার গতিতে হাটতে থাকি। শেষ রাউন্ড দিয়ে দেখি বিয়াংকার সাথে এক মহিলা কথা বলছে। দূর থেকে আমাকে দেখে তড়িঘড়ি করে কথা বলা শেষ করে চলে গেল। বিয়াংকাকে জিজ্ঞেস করলাম, মহিলাকে সে চেনে কিনা। বলল, না। জিজ্ঞেস করলাম কি কথা হলো? মহিলা ওকে জিজ্ঞেস করছিল, ওর সাথে যে আমি ছিলাম, আমি ওর বাবা কিনা।

তারপরের প্রশ্ন খুবই ইন্টারেষ্টিং। জিজ্ঞেস করছে, “তুমি এত অল্প বয়সে হাঁটছো কেন?” তোমার কি শারীরিক কোন সমস্যা আছে? ডায়াবেটিস্ আছে কিনা! মানুষ এমন কেন সামান্য কিউরিসিটিও দমন করে রাখতে পারে না। এমন না যে অনেক দিন যাবৎ ওকে হাটতে দেখছে। আজকেই প্রথম বিয়াংকাকে নিয়ে গেলাম। আর আজকেই জানতে হবে ও কে? ও কেন হাটে? আর ওর কী সমস্যা? মানুষ কি ডায়াবেটিস বা শারীরিক সমস্যা হলেই হাটবে? সমস্যা যেন না হয় সেই জন্য হাটা যায় না? একই অভিজ্ঞতা আমার স্ত্রীর। ডোনা যখন প্রথম প্রথম মেয়েদের স্কুল আনতে গিয়ে অপেক্ষা করত, তখন বাচ্চাদের মায়েরা নানারকম প্রশ্ন করে নানা কিছু জানতে চাইত।

এমন অনেক প্রশ্ন করত যেটা একান্ত ব্যক্তিগত যা পৃথিবীর অন্য কোথাও কেউ জিজ্ঞেস করে না। দুইয়েকবার এমন হয়েছে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মীও এমন বিব্রতকর প্রশ্ন বা মন্তব্য করেছে। চলার পথে এমন অনেক ঘটেছে যে, চেনা নেই, জানা নেই গায়ে পরে কথা বলে। ওকে ফাইন। কিন্তু কথার এক পর্যায়ে এমনসব ব্যক্তিগত বিষয় জানতে চাইতে শুরু করে যা তখন গায়ে জ্বালা ধরায়। আর কথা বলতে ইচ্ছে করে না। কিউরিসিটি দমন করতে পারাও শিক্ষার একটি অংশ। মন অনেক কিছুই জানতে চাইবে কিন্তু অহমবোধ অনেক কিছুই করতে দিবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ