প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যে যায়, সে যায়।

তৌফিক আহমেদ : কথা হচ্ছিল কলাতলা মোড়ের চায়ের দোকানটাতে। ঠিক কথা বললে ভুল হবে, রীতি মত তর্কাতর্কি। এটাও যথার্থ শব্দ নয়। বলা যায় একটা হালকা থেকে মাঝারি সাইজের আশ্বিনের ঝড়। বনেদী ভাষায় যাকে বলে চায়ের কাপে ঝড়। এ পাড়ার শরবেশ, ও পাড়ার দরবেশ, শিরু চাচা, জমিরুদ্দিন, নগর বয়াতী আর নূরা পাগলাও বাদ যায়নি আজ চায়ের আড্ডায়। গত তিন দিন ধরে ঝুলু বেপারীর টং দোকানের আলোচ্য বিষয় একটাই- মাহী বি’র বেয়াদবীর কারনে চৌধুরীদের বিকল্প ধারা ধরা খাইছে! জাতীয় ঐক্য অক্কা পাওয়ার পথে। ডা: জাফরুল্লা চৌধুরী ফাপোরে আছে। ড. কামাল বিএনপির পরবর্তী প্রধানন্ত্রী হবার দিবা স্বপ্নে বিভোর, মাহী বি’র ফোনালাপে মান্না মর্মাহত’ ইত্যাকার নানাবিধ চক্রবৃদ্ধি কথার পাঁচালী। এতে পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নেয়া চা খোর চাচা ভাতিজারা বেশ চাঙ্গাভাবে রশিয়ে কষিয়ে জমিয়ে তুলেছে চায়ের কাপ। এসব গ্রামীণ চায়ের আড্ডায় কত রাজ্যের কথা, উপকথা, কথার পিঠে কথা হয় শুনতে খারাপ লাগে না। বাঙালির এই আলাপচারিতা নৈমিত্যিক হলেও নির্বাচনের প্রাক্কালে এটা নানামুখি রুপ লাভ করে।

আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে গণমাধ্যম থেকে শুরু করে হালের সামাজিক মাধ্যম হয়ে সরাসরি হাওয়া লেগেছে, চা খানায় আর হাটে- মাঠে। বাঙ্গালির হাজারও ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে নির্বাচনমুখি আবেগ। নানান তাত্বিক বিশ্লেষনের সাথে নিজেদের লালিত ধারণাটা বিজ্ঞের মত ব্যাক্ত করতে পিছপা নয় কেউ। তাই দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি সমসাময়িক রাজনৈতিক সমীকরনও বাদ পরে না তাদের আলোচনা থেকে। এক কথায় জুতা সেলাই থেকে চন্ডি পাঠ তথা চুলচেরা খুচরো ব্যাপারেও সিরিয়াস হয়ে ওঠে কেউ কেউ। কদিন ধরে দেশের সর্বত্রই বি চৌধুরীদের বিকল্প ধারা কেন সরে এলো জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট/প্রক্রিয়া থেকে? নাকি তাড়িয়ে দিল তাদের আকাশ কুসুম চাহিদার কারনে? নাকি ড. কামাল হোসেন আর বি চৌধুরীর পদবীর সংকট প্রকট হয়েছিল?  যদিও মাহি আর মান্নার ফোনালাপে কিছুটা ধারণা পাওয়া গেছে। কিন্তু নেপথ্যের ঘটনা এখনও ধু¤্রাকারেই রয়েছে। এর মধ্যে বিশ্লেষকেরা নানাভাবে ধারণা প্রসূত মতামত/ ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন, টকশো কিংবা কলাম পর্যালোচনায়।

তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে অখ্যাত অজ পাড়া গাঁয়ের এই সব সরল সাধারণ চিন্তাশীলেরাও পিছিয়ে নেই বেঞ্চ পাতা চা চক্রে। কেউ বলছে, যারা ১০০ আসনে ক্যান্ডিডেট দেবার মত যোগ্যতা রাখে না কিংবা ২টি সিট পাবার মত সমর্থক যাদের নেই, সেই চৌধুরীরা কীভাবে ১৫০ আসন দাবি করে? কিংবা বিএনপি’র মত সর্ববৃহৎ দল যেখানে নিরব সেখানে কোন আক্কেলে এরা এতো উচ্চ- বাচ্য করে! এটা কি কাঁদায় পরা হাঁতি দেখে চামচিকার লাফালাফির মত নয়? কথার বিরোধীতা করে আরেকজন বলে ওঠে, মাহী বি চৌধুরীর প্ল্যান ই’ কিন্তু তরুণদের মধ্যে বেশ সাড়া জাগিয়েছে, কাজেই তারা এই আবদার করতেই পারে। ওপাশ থেকে আরেকজন ফোড়ন কাটে, ইশ! যেন মামার বাড়ির আবদার! এতক্ষণ চুপ থাকা নূরাপাগলা যোগ দেয় কথার ফাঁকে, সহাস্যে ছেড়ে দেয় তার সহাস্য কথার বোমা! নূরু, বানলাম না গরু ছুটলো ক্যামনে? সবাই হেসে ওঠে তার দুর্বোধ্য রসিকতায়। সে বোঝাতে চায় ঐক্য প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ কমিটি বা কর্মসূচিই যেখানে ঠিক হয়নি, কারা আসবে কারা যাবে, তাদের দাবি- দাওয়াই যেখানে নির্ধারণ হয়নি, তাতে চৌধুরীদের এখনই এত লাফালাফির কি আছে? কাজেই তাদের যেখানে জোটবদ্ধ করাই চূড়ান্ত হয়নি এর মধ্যেই তারা বেরিয়ে গেল প্রস্তুতি পর্বেই। সম্পাদনা : ফাহিম আহমাদ বিজয়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ