প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামী লীগে প্রার্থীর ছড়াছড়ি স্বস্তিতেও সংকট বিএনপিতে

বাংলাদেশ প্রতিদিন : শাপলার বিল আর পেয়ারা বাগানের কারণে দেশ-বিদেশে পরিচিত নাম বরিশাল জেলার উজিরপুর আর বানারীপাড়া উপজেলা। ভূ-প্রাকৃতিক কারণে যেমন খ্যাতি রয়েছে, তেমনি জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সর্বাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর তৎপরতায় আলোচনার শীর্ষে বরিশাল-২ আসন।

গেল সংসদ নির্বাচনে এই আসনে দুর্বল স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস। তবে এবার এই আসনে আওয়ামী লীগের কয়েকজন হেভিওয়েটসহ ভাগ বসাতে চাইছে ১৪ দলের শরিক বাংলাদেশ জাসদ, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, জেপি এবং মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থী। এই আসনেই দৃষ্টি সবার। জোটের কোনো শরিককে ছাড়তে না হলেও এই আসনে বিএনপিতেও মনোনয়ন প্রত্যাশীর ছড়াছড়ি। আলোচনা আছে এবার বরিশাল-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন এই আসনের দুবারের সাবেক এমপি ১৪ দলের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সমাজ কল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। দশম সংসদে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা-৮ আসন থেকে। এবার ওয়ার্কার্স পার্টি এই আসনে জহিরুল ইসলাম টুটুল নামে একজনকে প্রার্থী ঘোষণা করলেও বাতাসে ভাসছে মেননের নাম। জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি নজরুল হক নিলু জানিয়েছেন আগে তিনি (মেনন) এই আসনের এমপি ছিলেন। তাকে নিয়ে আলোচনা অনেক থাকতে পারে। কিন্তু অফিশিয়ালি এখনো সিদ্ধান্ত নেই। এ ছাড়া এই দলের যুব সংগঠন যুবমৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজনও মনোনয়নের আশায় লড়ছেন।

১৪ দলের আরেক শরিক জাসদের দুই গ্রুপও এবার এই আসন চাইছে আওয়ামী লীগের কাছে। বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উজিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বাদল, এই দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনিচুজ্জামান আনিচ, জাসদের সহ-দফতর সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী সাজ্জাদ হোসেনও আছেন মনোনয়ন দৌড়ে। জোটভুক্ত নির্বাচন হলে এই আসন দাবি করবে মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি। তারা ইতিমধ্যে অধ্যক্ষ হারিছ মিজানকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এখন মহাজোটের মনোনয়ন পেতে লড়ছে জাতীয় পার্টি। কানাডায় নির্বাসিত স্থানীয় সাবেক এমপি সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম ফারুক অভিও এই আসনে জেপির (মঞ্জু) ব্যানারে জোটের প্রার্থী হতে আগ্রহী বলে আলোচনা রয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস ছাড়াও এই আসনে মনোনয়নের জন্য সচেষ্ট রয়েছেন বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি শিল্পপতি ক্যাপ্টেন এম. মোয়াজ্জেম হোসেন। দান-অনুদানসহ সামাজিক কর্মকাণ্ডে সবার দৃষ্টি কেড়েছেন মোয়াজ্জেম। এ ছাড়া সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনি, শের-ই বাংলা এ কে ফজলুল হকের দৌহিত্র ফাইয়াজুল হক রাজু, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহেআলম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান খান ও সৈয়দা রুবিনা আক্তার মিরা, বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল, জেলা আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক বানারীপাড়া পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীলও এবার এই আসনে মনোনয়নের জন্য লড়ছেন।

সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত না হয়েও মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়ে শিল্পপতি ক্যাপ্টেন এম. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কোয়ালিটি, কোয়ালিফিকেশন, ক্লিন ইমেজ, গ্রহণযোগ্যতা, পারিবারিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সচ্ছলতা সব ক্ষেত্রেই তিনি অনেক দূর এগিয়ে। তার ধারে-কাছেও কেউ নেই। সরকারি হিসেবে তিনি সারা দেশের ১৯তম এবং দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার কোনো পিছুটান নেই। ব্যবসার পাশাপাশি জনকল্যাণে আরও বেশি আত্মনিয়োগ করতে চান তিনি। এই আসনের বর্তমান এমপি জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, দলের নেতা-কর্মীসহ এলাকার জনগণ তার কার্যক্রমে সন্তুষ্ট। এ কারণে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আবারও তাকে এই আসনে মনোনয়ন দেবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ির বিষয়ে তালুকদার ইউনুস বলেন, আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল এবং বর্তমানে এ দলটি জনপ্রিয়তায় তুঙ্গে। তাই একাধিক প্রার্থী থাকতেই পারে। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলে তিনি আশা করেন। বরিশাল-২ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি প্রার্থী দানবীর শিক্ষানুরাগী এস সরফুদ্দিন সান্টু, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নতুন করে ডাক পাওয়া সাপেক্ষে সংস্কারপন্থি নেতা সাবেক হুইপ সৈয়দ শহীদুল হক জামাল, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-বন ও পরিবেশ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা রওনকুল আলম টিপু। বরিশাল-২ আসনে দলের মনোনয়নের বিষয় জানতে চাইলে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগ ছাড়া এ দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে না। এ মুহূর্তে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আর শেখ হাসিনার পদত্যাগ ছাড়া অন্য কিছু ভাবছে না তার দল বিএনপি। শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে গেলেও মনোনয়ন নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব হবে না বলে জানিয়েছেন সাবেক এমপি শিরিন। তার বক্তব্য, দলের মনোনয়ন নিয়ে গ্রুপিংয়ের কোনো সুযোগ নেই। যিনি দলের মনোনয়ন পান তিনি ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে যান। ধানের শীষের প্রশ্নে সবাই এক। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ হলে বরিশাল-২ আসনের জনগণ আওয়ামী দুঃশাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত বলে দাবি করেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শিরিন। ৩৮২.৬৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বরিশাল-২ আসনে বর্তমান ভোটার ২ লাখ ৯২ হাজার ৩৮০ জন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই আসনে ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৭ হাজার ৬৩০। এই আসনে ভোটার বেড়েছে ৬৪ হাজার ৭৫০ জন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ