প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জামাতে’ই বিলীন হচ্ছে ফ্রন্টের ভবিষ্যৎ

বাংলা ইনসাইডার : ‘জামাত’ নিয়ে সংকট থেকে মুক্তি মিলছে না বিএনপির। মূলত: ‘জামাত’কে আড়াল করতেই বিএনপি ‘জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট’ গঠন করেছিল। ড. কামাল হোসেনকে সামনে রেখে, দেশে এবং বিদেশে একটি সেক্যুলার ভাবমূর্তি নিয়ে আবির্ভূত হতে চেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট গঠনের পর ‘জামাত’ ক্ষত আরো দগদগে হয়ে উঠেছে বিএনপির জন্য। যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যখন বিএনপি জোট বাঁধত আগ্রহী হয়, তখন ওই দুই জোটের প্রধান শর্তই ছিলো বিএনপি জামাত ছাড়তে হবে। যুক্তফ্রন্ট বলেছিল প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করতে হবে। ড. কামাল হোসেনও প্রথমে এ বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু ‘জামাত’ কাছে রাখতে বিএনপি ড. কামাল হোসেনকে ম্যানেজ করে ফেলে। কিন্তু বিকল্প ধারা কিছুতেই বিএনপি-জামাতের জোট থাকা অবস্থায়, বিএনপিকে জোটে নিতে রাজি ছিলো না। এ জন্যই মূলত: বিএনপির চাপেই ড. কামাল অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বাদ দিয়ে ফ্রন্ট গঠন করে। কিন্তু বিএনপি-জামাত প্রেমের কারণে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক কোন মহল থেকেই সহানুভূতি পাচ্ছে না বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট।

গতকাল লেকশোর হোটেলে কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ফ্রন্টের দাবি দাওয়ায় সবচেয়ে প্রাধান্য পেয়েছে জামাত ইস্যু। একাধিক কূটনিতিকরা প্রশ্ন করেছেন, বিএনপি-জামাত সম্পর্ক নিয়ে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দৃষ্টিভঙ্গি কি? তাও জানতে চেয়েছেন। ড. কামাল হোসেন অবশ্য বলতে চেয়েছেন, জামাত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়। কিন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো এটা মানতে রাজি নন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে যে, তাদের কাছে তথ্য আছে যে জামাতের ৩ থেকে ৭ জন ভালো প্রার্থী আছে; যারা বিএনপির প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে। ইউরোপীয় নিউনিয়ন এটাও মনে করছে যে, শেষ পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্ট একসঙ্গে নির্বাচনে গেলে তাদের প্রতীক হবে ধানের শীষ। তাহলে তখন কি বিএনপি-জামাত-ঐক্যফ্রন্ট একাকার হয়ে যাবে না? কূটনীতিকদের এই প্রশ্নের জবাব নেই ফ্রন্ট নেতাদের। ফলে ফ্রন্টও জামাত সংগ নিয়ে থাকা ফ্রন্টের দাবিদাওয়া নিয়ে আগ্রহী না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পেছনে মার্কিন দূতাবাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কিন্ত জামাত থাকায় এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এই জোটের ব্যাপারে আগ্রহী নয় বলেই জানা গেছে।

শুধু বিদেশী কূটনীতিকরাই নন, জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন দেশের সুশীল সমাজেরও একটি অংশ। তারাও আশা করেছিলেন, এরকম ফ্রন্ট করলে বিএনপি জামাতকে ছাড়বে। কিন্তু সুশীল সমাজের একজন আক্ষেপ করে বলছেন, বিএনপি জামাত যেন তামাক আর ফিল্টার, দুজন দুজনার। তাদের আলাদা তরার কোন উপায় নেই।’ অন্য একজন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি বলেছেন,‘ বিএনপির সংগে জামাত যতদিন থাকবে, ততোদিন বিএনপি কারোর সহানুভুতি পাবে না।’

জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের নেতাদের আগ্রহ ছিলো, বামদের নিয়ে একটি সর্বদলীয় ঐক্য গড়ে তোলার। কিন্তু জামাত বিতর্কেই আমরা এই রকম ফ্রন্টে যেতে অনাগ্রহী। ‘জামাত’ এর জন্য বিএনপি ডুবছে, অথচ জামাতের প্রেমেই বিএনপি বিভোর। এ যেন এক অমর প্রেমের গল্প- এমনটাই মনে করছেন দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সর্বাধিক পঠিত