প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চাকরির ভরসা বেসরকারি খাত

বাংলাদেশ প্রতিদিন : নানা কারণে তরুণদের মধ্যে সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ বাড়লেও দেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এখনো একমাত্র ভরসা বেসরকারি খাত। বাংলাদেশের সরকারি খাত এখনো মাত্র ৪ শতাংশের কম কর্মজীবী মানুষের কর্মসংস্থানে সক্ষম।

বাকি ৯৬ শতাংশ এখনো বেসরকারি, ব্যক্তিমালিকানা বা আত্মকর্মসংস্থানে জড়িত। শতকরা হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই সবচেয়ে কম সরকারি চাকরির সংস্থান হয়। অন্যদিকে বেসরকারি খাত বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে গেলেও এ খাতের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় পদের চাকরিগুলো করায়ত্ত করে রেখেছেন বিদেশিরা। যথাযথ দক্ষ কর্মীর অভাবেই বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট ও মাল্টিন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশিদের নিয়োগ দিতে বাধ্য হচ্ছে।

জানা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি খাতে প্রায় ২১ লাখ চাকরির সংস্থান হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্য, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার পাওয়া (এমপিওভুক্ত) শিক্ষক, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্বশাসিত সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক ও অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কিন্তু সংখ্যা মোট কর্মজীবীর অংশের নগণ্য একটি অংশ।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের সরকারি খাতে চাকরি আছে মাত্র ৩.৮%, বেসরকারি খাতে ১৪.২%, ব্যক্তি খাতে ৬০.৯% এবং অন্যান্য খাতে ২১.১%। অন্যদিকে, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। কর্মসংস্থানের যে চিত্র তাতে উচ্চশিক্ষিতদের বড় অংশেরই কর্মসংস্থান হতে হবে বেসরকারি ব্যক্তিমালিকানা খাতে। বেশিরভাগেরই যে সরকারি চাকরি হবে না এটা নিশ্চিত। সরকারি চাকরির প্রতি সাধারণ মানুষের আকর্ষণ চিরকালই ছিল, কিন্তু মেধাবী তরুণরা বেসরকারি চাকরির প্রতি আকৃষ্ট। ভালো বেতন, চ্যালেঞ্জ, আত্মবিকাশের সুযোগ— এসব কারণে মেধাবী তরুণরা বেসরকারি চাকরির প্রতি আকৃষ্ট। কিন্তু অষ্টম বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পর অনেক ক্ষেত্রে সরকারি চাকরির বেতন বেসরকারি চাকরির চেয়ে বেশি হয়ে গেছে। তার সঙ্গে সরকার গাড়ি ও বাড়ির ঋণসহ যেভাবে নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, তাতে সরকারি চাকরির প্রতি তরুণদের আকর্ষণ আরও বাড়ছে।

কেন সরকারি চাকরির প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে জানতে চাইলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, তিনটা জিনিস কাজ করে। একটা হলো, সরকারি খাতের চাকরিতে প্রারম্ভিক বেতন আগে যেটা ভালো ছিল না, এখন তা খুব ভালো। শুরুতেই ৪০ হাজার টাকার ওপরে বেতন দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে তাদের আরও অনেক রকম সুবিধা থাকে। বাইরে থাকলে বাড়ি-ভাড়াসহ নানান সুবিধা আছে। তবে এসব কিছুর বাইরেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাদের একটা ক্ষমতা থাকে। তার মতে, ব্যক্তি খাতে দুই-তিন বছর ধরে শিক্ষিত যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান খুব কমে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অধ্যয়ন অনুষদের সাবেক ডিন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. সিরাজুল ইসলামের মতে, দেশে প্রতিবছর শিক্ষিতের হার বাড়ছে। কিন্তু কর্মক্ষেত্র তত বাড়ছে না। ফলে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান এ বেকারের সংখ্যা কমাতে দরকার দেশে বেসরকারি খাতকে আরও বেশি এগিয়ে নেওয়া। বেসরকারি খাতের উন্নয়নে দরকার ‘বেসরকারি খাত উন্নয়ন নীতি’। এটা করা গেলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগানো সহজ হবে। দেশ উন্নয়নশীল হওয়ার মর্যাদাও ধরে রাখা সহজ হবে। প্রাইভেট সেক্টর সামনে আগাতে গেলে যে বাধাগুলো পড়ে সেগুলো সরকারকে দূর করতে হবে। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। বেসরকারি খাতে চাকরি পাওয়ার উপযোগী করে তুলতে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়ে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম বলেন, দেশে গার্মেন্টসহ বিভিন্ন শিল্পে ম্যানেজমেন্ট লেভেলে চাকরির জন্য মূলত শ্রীলঙ্কা, ভারত, চীন ও কোরিয়া থেকে আসে। কারণ আমাদের দেশের উদ্যোক্তারা বাইরের এসব লোককে বেশি পছন্দ করে। দুটি কারণে তারা বাইরের এসব ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়। প্রথমটি হলো, বাইরের লোকদের নিয়ন্ত্রণ করা খুব সহজ। দ্বিতীয়, বাইরের লোকজন তাদের বিভিন্ন ধরনের জব এক্সপেরিয়েন্স নিয়েই আসছে। তাদের দিয়ে কাজটা অনেক সহজ হয়। কিন্তু আমাদের দেশের লোকজনকে এই লেভেলে নিলে বিভিন্ন ধরনের পলিটিক্স ঢুকে যায়। যেখানে বিভিন্ন ধরনের গ্রুপের সুবিধা কাজ করে। তাই আমাদের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এ ধরনের ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট দরকার। তখন বিদেশিদের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ