প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চাল ও সবজি স্থিতিশীল দাম বেড়েছে রসুন-মাছের

মানবজমিন : শীতের আগমনীর সঙ্গে সঙ্গে শীতকালীন নানা সবজিতে ভরে উঠেছে রাজধানীর বাজার। দামও রয়েছে মোটামুটি স্থিতিশীল। বাজারভেদে দামের হেরফেরও আছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকালীন সবজি পুরোপুরি বাজারে আসলে দাম আরো কমে আসবে। এদিকে দাম বেড়েছে মাছ ও রসুনের। সপ্তাহের ব্যবধানে পণ্য দুটির দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও রাজধানীর বাজারগুলোতে মাছের সরবরাহ ছিল একই রকম। কিন্তু দামটা ছিল বর্তমান বাজারের চেয়ে অনেক কম।

পার্থক্য হলো সে সময় বাজার ভর্তি ইলিশ থাকলেও এখন সেটা নেই। এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাচ্ছেন মাছ ব্যবসায়ীরা।

বাজারে প্রতি কেজি পাবদা মাছ ৫০০-৫৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা মাছ মানভেদে ৪৮০-৬০০ টাকা, তেলাপিয়া মাছ ১৪০-২০০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা যায়। কিন্তু তেলাপিয়া মাছ সাধারণত ১৩০-১৪০ টাকা কেজি দরেই বিক্রি হয়। এদিকে টেংরা মাছ অন্যান্য সময় মানভেদে ৩৫০-৪৫০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়। এখন এই মাছের দাম মানভেদে ৪৫০-৫৫০ টাকা।

এছাড়া রুই মাছের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে মাঝারি আকারের রুই মাছ ৩০০-৩২০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন প্রতি কেজি বিক্রি করতে দেখা গেছে ২৮০-৩০০ টাকায়। এর চেয়ে ছোট আকারের রুই মাছ প্রতি কেজি ১৮০-২৪০ টাকা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কই মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-২২০ টাকায়, সরপুঁটি আকারভেদে ১৮০-২২০ টাকা কেজি, পাঙ্গাশ প্রতি কেজি ১৩০-১৬০ টাকা, ছোট মলা মাছ ৩৫০-৪৫০ টাকা কেজি, চাষের শিং ও মাগুর মাছ ৫০০-৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

মাছের পাশাপাশি বাজারে রসুনের দামও বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে রসুনের দাম বেড়েছে ১০ টাকা বেড়েছে।
গত সপ্তাহে আমদানি করা রসুনের কেজি ছিল ৫০ থেকে ৭০ টাকা। আর দেশি রসুনের কেজি ছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকা। বর্তমানে আমদানি করা রসুনের কেজি ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আর দেশি রসুনের কেজি ছিল ৪৫ থেকে ৬০ টাকা।
এদিকে বেশ কিছুদিন ধরেই স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে পিয়াজের বাজার। প্রতি কেজি দেশি পিয়াজ ৪৫ টাকা এবং আমদানি করা পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে।

শাকসবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের সপ্তাহের সঙ্গে মিল রেখেই বিক্রি হচ্ছে বেশির ভাগ সবজি। ৪০-৬০ টাকার মধ্যেই রয়েছে বেশির ভাগ সবজির দাম। টমেটো ও ফুলকপির দাম বেশ চড়া। নতুন সবজি হওয়ায় যথাক্রমে ৮০ টাকা কেজি টমেটো এবং ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ফুলকপি। বাজারে দেখা গেছে, বেগুনের দাম আগের মতোই রয়েছে। প্রকারভেদে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। টমেটো ২০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা, পটোল ৪০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা, সিম ১৪০ টাকা। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, গাজর ৯০ টাকা, দেশি গাজর ৮০ টাকা, আলু ২৮ টাকা, প্রতি পিস বাঁধাকপি আকারভেদে ৪৫ টাকা, প্রতি পিস ফুলকপি ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা।

চালের বাজারেও নেই তেমন কোনো পরিবর্তন। গুটি স্বর্ণা (মোটা) ৪০ টাকা, পাইজাম ৪১-৪২ টাকা, বিরি আটাশ ৪৩-৪৫ টাকা, মিনিকেট (নিম্নমান) ৫০-৫৫ টাকা, মিনিকেট (ভালো মান) ৫৮-৬০ টাকা এবং নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা দরে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, শুধু ডিম বিক্রি করেন এমন ব্যবসায়ীরা প্রতি ডজন ডিম ১০৫-১১০ টাকায় বিক্রি করছেন। এক সপ্তাহ আগেও এসব ব্যবসায়ী ৯৫-১০০ টাকা ডজনে ডিম বিক্রি করেছেন। খুচরা পর্যায়ে মুদি দোকানে এক পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০-১১ টাকায়। আর হালি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪২ টাকায়। এসব ব্যবসায়ী এক ডজন ডিম বিক্রি করছেন ১১৫-১২০ টাকায়। ব্যবসায়ী সাবু বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরেই ডিমের দাম বাড়তি। কিছুদিন আগেও এক ডজন ডিম ৯০ টাকায় বিক্রি করেছি। আর এখন এক ডজন ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি ১৪০ টাকা, কক মুরগি ২১০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পিস। গরুর মাংস ও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে সরকারের নির্ধারণ করা দামেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ