প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রূপালী গিটারের কিংবদন্তীকে শেষ শ্রদ্ধা 

মো. ইউসুফ আলি বাচ্চু ও ফাহিম ফয়সাল : রূপালী গিটারের তারে আর কখনোই লাগবে না তার হাতের ছোঁয়া। কখনোই বাজবে না কোনো সুর। গাইবে না ‘তারা ভরা রাতের গান’। অথচ এই ‘তার ও সুরের’ মিশ্রনে মুগ্ধ ছিলো লাখো ভক্ত। কিন্তু কাউকে না জানিয়ে নিজের গাওয়া ‘সেই আমি কেন তোমাকে দুঃখ দিলেম’ গানের মত দুঃখ দিয়ে চলে গেলেন আইয়ুব বাচ্চু। তাইতো ‘তাকে’ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে চানখারপুল পর্যন্ত ব্যথীত ভক্তের ঢল নামে। প্রিয়জন হারানো কষ্ট নিয়ে আসা ভক্তদের একটাই উদ্দেশ্য শেষবারের মত মুখখানি দেখা। বেঁচে থাকলে এই ঢল দেখে হয়ত আবারো গাইতেন, ‘সব ভালো তুই একা বাসিসনে, একটু ভালো বাসতে দিস মোরে’।

বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম কিংবদন্তী গিটারিস্ট ও এল আর বি ব্যান্ডের লিড ভোকাল আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহে শেষবারের মত সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানাতে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটে’র আয়োজনে এই শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচী চলে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।

শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসা প্রত্যেকের মুখে ছিল বেদনার ছাপ। অনেকের চোখের কোনে জমে ছিল বিন্দু বাধা অশ্রু । প্রায় সকলের হাতেই ছিল এক গুচ্ছ ফুল। প্রিয় মানুষের জন্য ফুল নিয়ে আসা আনন্দের। কিন্তু এই ফুলের প্রতিটি কুড়িতে ছিলো বেদনার ছাপ। যেন কাটার আঘাতে বিক্ষত। হওয়ারই কথা। যিনি তাদেরকে মাতিয়ে রেখেছেন, আজকের পর আর তাকে দেখাও যাবে না কখনো। অনেকর মুখেই তখন গুণগুণিয়ে তার গান গাইতে শোনা যায়।

সকালে শিল্পীর মরদেহ শহীদ মিনারে আনার পর প্রথমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এরপর একে একে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সংস্কৃতি বিষয়ক সচিব নাসির উদ্দিন, বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আনোয়ার হোসেন, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আক্তার, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, বাংলাদেশ কৃষকলীগ, জাতীয় গণগ্রন্থাগার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রিয় শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, আইয়ুব বাচ্চু বাংলাদেশের ব্যান্ড আন্দোলনের একজন অন্যতম পথিকৃৎ। তার গানে ছিল দেশ মানুষের প্রতি ভালোবাসা। তার অবদান জাতি ভুলবে না।

শ্রদ্ধা জানানো শেষে কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, এ শিল্পীকে আমরা হয়তো শারীরিকভাবে আর পাব না, কিন্তু তার সৃষ্টিগুলো আমাদের মাঝে অমর হয়ে থাকবে।

শিল্পী ফকির আলমগীর বলেন, আইয়ুব বাচ্চু এমন একটা সময়ের শিল্পী, যে সময়ে সংগীতে একটা খরা চলছিলো। এ শিল্পী তা দূর করেছেন।

কুমার বিশ্বজিত বলেন, বাঁচার দৌড় -সেই দৌড় প্রতিযোগিতায় আমার বন্ধুটি ফার্স্ট হয়ে গেল। বাচ্চু ছাড়া আমি একা, বন্ধুহীন, পরাজিত একজন। থেমে গেল আমাদের দৌড় প্রতিযোগিতা।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা কামাল হোসেন নামের এক ভক্ত বলেন, ছোটবেলা থেকেই আইয়ুব বাচ্চুর গান শুনছি, তার গান খুব ভালো লাগে। তাকে আর পাব না, এটা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে।

আইয়ুব বাচ্চুর প্রিয় রূপালি গিটারের আদলে তৈরি করা হয়েছিলো ফুলের ডালা। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে এই ডালার পাশেই ভক্তরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। সাথে সুযোগ মিলে শেষ বারের মতো তাকে দেখে নেওয়ার। এ সময় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পরেন। অশ্রু মুছতে মুছতে আর পিছনে তাকাতে তাকাতে চলে যায়। হয়ত তখন তাদের মনে পরেছিল রবিন্দ্রনাথের সেই কবিতা, ‘যেতে নাহি দিব হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়’।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ