প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মৌসুমী ও জান্নাতুনের মেডিকেলে লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন এমপি এনামুল হক

বাগমারা প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাগমারার অদম্য দুই মেধাবী শিক্ষার্থী জান্নাতুন নেছা এবং মৌসুমি আক্তারের মেডিকেল কলেজে লেখা পড়ার দায়িত্ব নিলেন রাজশাহী-৪ বাগমারা আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। পারিবারিক অস্বচ্ছলতা থাকার পরও অদম্য মেধায় তাদেরকে নিয়ে গেছে একটি সাফল্যের চূঁড়ায়। অভাবের মাঝে তারা সাফল্যের দেখা পেলেও অসহায়ত্ব টেনে ধরেছে আগামীর উজ্জল ভবিষ্যৎকে।

অর্থাভাবে যেন তাদের শিক্ষা জীবন থেমে না যায় এর জন্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন এমপি এনামুল হক। অদম্য দুই মেধাবীর মধ্যে একজন হলেন জান্নাতুন নেছা। জান্নাতুন নেছার বাড়ি উপজেলার গনিপুর ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামে। পিতার নাম আহসান হাবিব। অভাবের সংসার হওয়ায় সংসারের ব্যয় ভার বহন করতে ভ্যান চালান তিনি আর মা গৃহিনী। অভাবের মধ্যেও জান্নাতুন নেছা এসএসসি এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। সম্প্রতি জান্নাতুন নেছা রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরিক্ষায় সাফল্যের সাথে উর্ত্তীণ হয়েছে। ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থেও অভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে সেই সুযোগটি। অভাবের সংসার থেকে মেডিকেল কলেজে পড়ানোর মত সামর্থ ছিলো না তার পরিবারের।

অপরদিকে নরদাশ ইউনিয়নের গোড়সা গ্রামের কছিমুদ্দিনের মেয়ে মৌসুমি আক্তার শুরু থেকেই অভাব অনটনের মধ্যে দিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে আসছে। সেই অভাবের রেশ কাটিয়ে উঠার আগেই অরেকটি বড় ধাক্কা আসে তার জীবনে। সেটি হচ্ছে চলতি বছর মেডিকেলে ভর্তি সুযোগ। মৌসুমী আক্তার এবার শেখ সাহেরা খাতুন মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়।

মায়ের সাথে কাটে তার শৈশব কাল। সাংসারিক অবস্থা তেমন ভালো না হওয়ায় মা চাউল মিলে কাজ করে সংসারের খরচ যোগায়। মেডিকেলে চান্স পেলেও লেখাপড়া অনিশ্চিত দুই মেধাবীর এমন সংবাদ জানতে পারেন স্থানীয় সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের।

বাগমারার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যে সকল শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে থাকেন তাদের গত ২০০৬ সাল থেকে সালেহা ইমারত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সংবর্ধনা প্রদাান করে আসছে। এর মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিভাকে প্রজ্জলিত করে চলেছেন।

শুক্রবার সকালে বাগমারার সেই দুই অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী জান্নাতুন নেছা এবং মৌসুমী আক্তার সহ তাদের পিতা মাতাকে বাসায় আমন্ত্রন জানান এমপি এনমুল হক। অভাবের সংসার থেকে মেডিকেলে চান্স পাওয়ায় অভিনন্দন জানান তাদের । সেই সাথে তাদের পিতা-মাতার প্রতি ধন্যবাদ জানান। তাদের যেন মেডিকেলে লেখাপড়া বন্ধ না হয় সে জন্য দুই জনের লেখাপড়া দায়-দায়িত্ব নিলেন এমপি নিজেই।

এ বিষয়ে এমপি এনামুল হক বলেছেন, বাগমারা এক সময় ছিল সন্ত্রাসের জনপদ। আজ সেই বাগমারায় আলো ফুটতে শুরু করেছে সেই আলো নিভে যাক এটা আশা করা যায় না। মেধাবীরা সমাজ এবং দেশের সম্পাদক তাদের মেধার মূল্যায়ন করা সকলের দায়িত্ব। সেই জন্যই তাদের ও লেখাপড়ার সকল ব্যয় ভার বহনের ব্যবস্থা করছি। তাদের লেখাপড়ার ব্যয় বহনের জন্য সালেহা ইমারত ফাউন্ডেশন প্রতি মাসে নিদিৃষ্ট পরিমান অর্থ প্রদান করা হবে । মেয়েদের লেখাপড়া নিশ্চিত হওয়ায় তাদের পিতামাতা এমপি এনামুল হককে ধন্যবাদ জানান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ